অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা - ajkerparibartan.com
অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

3:48 pm , September 3, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ চট্টগ্রামÑবরিশালÑমোংলাÑখুলনা মহাসড়কের বেকুটিয়াতে কঁচা নদীর উপর নির্মিত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বেগম ফলিজলাতুননেসা মুজিব অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’ আজ সকালে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে নানামুখী প্রতিবন্ধকতায় এর সুফল পেতে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হবে। চীনা ৬৫৫ কোটি টাকার অনুদানসহ প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুটির নির্মান কাজ ২০১৮ সলের শেষভাগে শুরু হয়ে গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। গত ৭ আগষ্ট চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই’র উপস্থিতিতে অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরে তা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
চীনা প্রেসিডেন্ট-এর বাংলাদেশ সফরকালে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মানে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর দুই বছর পর ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট বক্স গার্ডার’ ধরনের এ সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও বরিশাল থেকে ঝালকাঠীÑপিরোজপুর হয়ে খুলনা সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরÑভোলা হয়ে বরিশাল পর্যন্ত এবং ঢাকা থেকে ফরিদপুর হয়ে বরিশালÑপটুয়াখালীÑকুয়াকাটা মহাসড়কটিও অনেক আগে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু বরিশালÑঝালকাঠীÑপিরোজপুরÑখুলনা সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করণের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের একটি প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে ঝুলে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, এ সড়কটি জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর বেশীরভাগের সমাধানই সহজতর হতো।
বরিশালÑঝালকাঠীÑপিরোজপুর সড়কের ‘বাসন্ডা বেলী ব্রীজ’ পুনর্বাসন বা পুন:নির্মানসহ ওই সড়কেরই রাজাপুরÑপিরোজপুর অংশের উন্নয়ন এবং মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটার ‘পিরোজপুর বাইপাস’ নির্মানের ওপরই ‘অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’র সুফল নির্ভরশীল। এমনকি এ সেতু পারাপারকারী বিপুল সংখ্যক যানবাহনের চাপে পিরোজপুর শহরের বেশীরভাগ এলাকা চরম অচলাবস্থার মুখে পড়তে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। অথচ দেশের ৩টি উপকূলীয় বিভাগসহ সবগুলো সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি দুটি প্রধান স্থল বন্দরের সাথে সড়ক যোগাযোগ সহজতর করতেই সেতুটি নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এসব গুরুত্ব বিবেচনায়ই চীন সরকার মূল সেতুটি নির্মানে সমুদয় অর্থ অনুদান হিসেব প্রদান করে।
এমনকি বিদ্যমান সমস্যা সমূহের দ্রুত সমাধান না হলে ‘অস্টম বাংলাদেশÑচীন মৈত্রী সেত’ু কতটা কার্যকরি ভূমিকা রাখবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সড়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। সেতুটির মূল ডিপিপি’তে ‘পিরোজপুর বাইপাস’ নির্মানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে শুরুতেই বিভিন্ন মহল দাবী জানালেও তা আমলে নেয়নি সড়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়। তবে গত ৬ বছরে এ লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিরাজপুর বাইপাস নির্মান অত্যাবশ্যক বলে দুটি এলইমেন্টও নির্ধারন করে। কিন্তু সে আলোকেও পরবর্তী সময়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অথচ সেতুটির পশ্চিম প্রান্তে নির্মিত সংযোগ সড়কটি পিরোজপুর শহরের বাইরে বলেশ^র সেতুর সংযোগ সড়কে সংযুক্ত করলেই এ সমস্যার সমাধান মিলবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।
এমনকি রাজাপুর থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত সড়কটির বেশীরভাগই এখনো মাত্র ১৮ ফুট প্রস্থ। অথচ এ সড়কের ওপরই চট্টগ্রাম-বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দরের সড়ক যোগাযোগ নির্ভরশীল।
অপরদিকে বরিশাল ও পিরোজপরের মধ্যবর্তী ঝালকাঠীর বাসন্ডা নদীর ওপর প্রায় ৩০ বছরের পুরেনো বেইলী সেতুটি ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে বার বার মেরামত করতে গিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হলেও এখন জোড়াতালি দিয়েও সেতুটি সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বরিশাল জোনের বিভিন্ন সড়ক বিভাগ থেকে বেইলী সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেতুটি মেরামত করা হলেও তা খুব টেকসই হচ্ছে না। ফলে এ সেতুটি সচল রাখার নিশ্চয়তার কথা বলতে পারছেন না সড়ক অধিদপ্তরের কেউ।
তবে বরিশাল সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রায় ৪শ ফুট দীর্ঘ ‘বাসন্ডা সেত’ুর বিদ্যমান কাঠামোর ওপর ‘প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ পদ্ধতির সেতু নির্মান সম্ভব কিনা সে বিষয়ে ডিজাইন সার্কেলে তথ্য উপাত্ত পাঠানো হয়েছে। সেখানের সিদ্ধান্তের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হতে পারে। তবে এ সেতুটি এখনো কোন প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত না হলেও নতুন একটি প্রকল্পে অন্তর্ভূক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। বিদ্যমান কাঠামোর ওপরে শুধু আরসিসি ডেকস্লাব নির্মানের মাধ্যমে সেতুটি পুনর্বাসন করা হলে কাজ শুরুর এক বছরের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে । তবে সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান সেতুটির পাশে ফেরী সার্ভিস চালু বা আরেকটি বেইলী সেতু নির্মান করে সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
কিন্তু ৪ শতাধিক ফুট দৈর্ঘ্যরে ‘প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ টাইপের নতুন সেতু নির্মানে ন্যূনতম ৩শ কোটি টাকা ব্যয় হবে। সে ক্ষেত্রে নতুন ডিজাইন ও ডিপিপি প্রস্তুত করে তা অনুমোদন, দরপত্র আহবানসহ কাজ শেষ করতে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে বলেও মনে করছেন সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল। একইভাবে রাজাপুর থেকে বেকুটিয়ায় মৈত্রী সেতু পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারে দীর্ঘ দিনের পুরনো ছোট ও মাঝারী আরো ৫টি বেইলী সেতু এ সড়কে প্রায়শই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তবে ইতোমধ্যে পিরোজপুর সড়ক বিভাগের অধীন দুইটি সেতু আরসিসি’তে পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। অপরটিও দরপত্র আহবান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে ওই ১২ কিলোমিটারসহ বলেশ^র সেতু পর্যন্ত সড়কটি এখনো জেলা সংযোগ সড়কের মর্যাদায় থাকায় তেমন কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রশস্ত মাত্র ১৮ ফুট। রাজাপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার সড়কও আঞ্চলিক মহাসড়ক।
তবে বরিশালÑমোংলাÑখুলনা মহাসড়কটি কবে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হবে এবং বাসন্ডা সেতুর পুনর্বাসনসহ পিরোজপুর বাইপাস নির্মানের পরে ‘অস্টম চীনÑবাংলাদেশ মৈত্রী সেতুটির প্রকৃত সুফল মিলবে তা বলতে পারছেন না সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কেউ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT