মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন এবং বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিকল্প নেই মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন এবং বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিকল্প নেই - ajkerparibartan.com
মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন এবং বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিকল্প নেই

3:56 pm , August 31, 2022

কাজী মিজানুর রহমান ॥ কীর্তনখোলার তীর ঘেষে ছায়া সুনিবিড় সবুজ ঝাউগাছ, পাম গাছের সারি, নদীতে পালতোলা নৌকা, জেলেদের মাছধরা, বেদের বহর, ষ্টীমারের হুইসেল, কুয়াশা ঢাকা ভোর, ঝিরিঝিরি বাতাস, নদীতে ঢেউয়ের খেলা এসব স্নিগ্ধদৃশ্যপট মনে ভেসে উঠে জীবনানন্দের রুপসী বাংলা কবিতার মত। কেউ কেউ বলেন বাংলার রাণী। কাজী নজরুল ইসলাম বোধহয় এই সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়েই বরিশালকে বলেছিলেন ‘প্রাচ্যের ভেনিস।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো এর অনেক কিছুই আজ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। হারিয়ে গেছে মানুষের অদূরদর্শীতা,অতি লোভ আর ভালোবাসার অভাবে।
প্রাচীন এই চন্দ্রদ্বীপ ১৭৯৭ সালে পূর্ণজেলা হিসাবে এবং ১৮৬৯ সালে পৌরসভা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০০১ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়।বিভাগীয় শহরের মর্যাদা লাভের সাথে সাথে সাথে অভিগমনকারিদের সংখ্যা বাড়ায় পরিকল্পিত,অপরিকল্পিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, ব্যবসা বানিজ্য, কলকারখানা গড়ে উঠে। দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষ কাজের সন্ধ্যানে শহরমুখী, গড়ে উঠছে অস্বাস্থ্যকর বসতি।দ্রুততর সময়ে অপরিকল্পিত ভবন এবং অবকাঠামো নির্মানের ফলে কৃষিজমি, পুকুর -জলাশয়, খাল ভরাট হয়ে গেছে।কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারভাটা এবং শহরের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুকুর, খালসমূহের নির্মল পরিবেশের কারনে সুখ্যাতি ছিল বরিশালের। নগরীর অধিকাংশ পুকুর, খালগুলো আজ মানবসৃষ্ট দুর্যোগে আক্রান্ত।
নগরীর অন্তত ২৪টি প্রবাহমান খালের মধ্যে মাত্র ৩/৪ টি কোন রকমে টিকে আছে;এমনকি নদীও দখল হয়েছে। বৃষ্টি,ভরা জোয়ারে নগরময় জলাবদ্ধতা নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়ায়,স্বল্প পরিসরের রাস্তা যানজটে গতি হারিয়ে স্থবির শহর।
বরিশাল শহরকে সুন্দর,আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য বিভাগীয় শহরে পরিনত করতে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্লান ফর বরিশাল ডিভিশনাল টাউন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। স্ট্রাকচার প্লান,আরবান এরিয়া প্লান, ও ডিটেইল এরিয়া প্লান নামে তিন স্তর বিশিষ্ট পরিকল্পনা প্রণীত হয়।গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর।সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা কাশিপুর,জাগুয়া, রায়পাশা – কড়াপুর ও চরকাউয়া ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে মোট ১৮৬৭০.১৬ একর মহা পরিকল্পনার আওতাধীন এলাকা।
বরিশাল শহর মহাপরিকল্পনা এর সময়কাল ২০১০-২০৩০, ইত্যবসরে প্রায় একযুগ নষ্ট হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।অপরিকল্পিত নগরায়নের কারনে প্রয়োজন হয়েছে পুনঃপরিকল্পনা সংশোধনের। সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অনেক আগেই । জানা যায় অধিদপ্তরের অনুমোদনে গড়িমসির জালে আটকে আছে এতদঅঞ্চলের কয়েককোটি মানুষের সুন্দর ভবিষ্যত।
বরিশালবাসীর দাবি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন করা হোক।
সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থা ও সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ মাষ্টারপ্লান অনুযায়ী তাদের স্ব স্ব আওতাভুক্ত এলাকার উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করবে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষাসহ নগরীর উন্নত পরিবহনব্যবস্থা,আবাসন সুবিধা,সড়ক অবকাঠামো, আধুনিক বাজার,উন্নত বাস টার্মিনাল, স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ, বর্জ্যব্যবস্থাপনা সুবিধার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
পরিকল্পিত নগর ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকল্পে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। বর্তমানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে। গাজীপুরেও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন হচ্ছে। ৬৬টি ধারা ও বেশকিছু উপধারা সম্বলিত বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন (খসড়া) প্রকাশ করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়েবসাইটে জনগনের মতামত আহবান করা হয়েছিল। বরিশালের অনেক সুধীজন এতদবিষয়ে সুচিন্তিত মতামতও প্রেরণ করেছিলেন কিন্তু ওই পর্যন্তই। অজ্ঞাত কারনে আজ পর্যন্ত কোন অগ্রগতির কথা জানা যায় না।
আশা করি দ্রুত চূড়ান্তকরণ, গেজেট প্রকাশ করে বাস্তব কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য দৃঢ়তায় পদ্মা বহুমুখী সেতু আজ বাস্তব।আশা করা যায়,২০৩০ সালের মধ্যে বরিশালের উপর দিয়ে পায়রা, কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হবে।দেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ এর প্রত্যক্ষ উপকারভোগী। পদ্মাসেতু দেশের জিডিপিতে অবদান রাখছে।
অনেক বিনিয়োগকারী বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের পাশে আবাসনসহ শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি কিনছেন। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যা পরিকল্পনার মূল উদ্যেশ্যকে ব্যাহত করবে।
বরিশালকে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসাবে রুপান্তর করার জন্য দ্রুততর সময়ে সংশোধিত মাস্টারপ্ল্যান অনুমোদন এবং নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিকল্প নাই।
লেখক : পরিবেশ ও সমাজ কর্মী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT