3:32 pm , August 30, 2022
গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গ্রামীন ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা প্রতারনার মাধ্যমে আত্মসাতের পৃথক দুই মামলায় উজিরপুর উপজেলার সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপককে ৫ বছর করে মোট ১০ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি মামলায় ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে মোট এক বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া পৃথক দুইটি মামলায় দুর্নীতির দায়ে একটিতে এক লাখ এবং অপরটিতে দুই লাখ করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মেহেদী আল মাসুদ এ রায় ঘোষনা করেন। বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বিপ্লব কুমার রায় এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, দন্ডিত গ্রামীন ব্যাংকের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল শাখার সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রতারনা ও দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুইটি মামলা করে দুদক। দুইটি মামলায় দুই ধারায় তাকে কারাদন্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। দন্ডিত শাখা ব্যবস্থাপক হলেন : মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার চৌদ্দবুড়িয়া দেওপাশা এলাকার মৃত মুহাম্মদ আফতার আলী সিকদারের ছেলে। বরখাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বরিশালের উজিরপুর থানাধীন বামরাইল গ্রামীন ব্যাংক শাখার কেন্দ্র ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। রায় ঘোষনার সময় দন্ডিত মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. হারুন অর রশিদ মামলার বরাত দিয়ে জানান, বামরাইল গ্রামীন ব্যাংকের শাখায় ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারী থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে ৭৩ জন সদস্যের ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৭০ টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপ সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দীন ২০১৪ সালের ২ জুলাই একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারি পরিচালক মো. নাজমুল হাসান তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। অপরদিকে ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারী থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭ জন সদস্যের ৯৮ হাজার ৫৯৪ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায়ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন উপ সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দীন ২০১৪ সালের ২ জুলাই আরো একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০১৭ সালেল ২৭ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারি পরিচালক মো. নাজমুল হাসান আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমান শেষে গতকাল রায় ঘোষনা করেন।
