বৃষ্টির অভাবে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা বৃষ্টির অভাবে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা - ajkerparibartan.com
বৃষ্টির অভাবে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা

3:26 pm , August 30, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বৃষ্টির অভাবে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রার অনেক পেছনে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চল। যা জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তায় কিছুটা বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কৃষিবীদরা। গত এপ্রিলে বরিশালে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮৫.৬%, মে মাসে ৫.৬%, জুনে ৪৪.৪% এবং জুলাই মাসে ৬৪.৭% কম বৃষ্টি হয়েছে। আর আবহাওয়া বিভাগ থেকে চলতি মাসে বরিশাল অঞ্চলে ৪৯০ থেকে ৫৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হলেও মাসের প্রথম ১৫ দিনে বৃষ্টির পরিমান ছিল মাত্র ৫৪.৪ মিলিমিটার। তবে শ্রাবনের শেষ পূর্নিমায় ভর করে এর পরে আরো বেশ কিছু বৃষ্টি হলেও তার হিসেব পাওযা যায়নি। অথচ নিকট অতীতেও সারাদেশের ২০Ñ২৩ ভাগেরও বেশি আউশের আবাদ হতো দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছর দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হলেও এবার তা ২ লাখ হেক্টরের মতো। সারাদেশেই এবার দানাদার এ খাদ্য ফসল আবাদ গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে। ১৩ লাখ হেক্টর থেকে এবার নেমে এসেছে ১১ লাখ হেক্টরে। ফলে গত বছর যেখানে ৩৪ লাখ টনের মত আউশ চাল পাওয়া গেছে, সেখানে এবার তা ৩০ লাখ টনে এসে থামবে বলে ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইনস্টিটিউট-ব্রি ও ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, মৌসুমের মূল সময়ে বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা যেমন আউশ আবাদ করতে পারেনি, তেমনি উৎপাদনও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলসহ সারাদেশেই প্রায় ৫০ ভাগ জমির আউশ ধান কর্তন সম্পন্ন হলেও মূল উৎপাদন লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। তবে এবার আউশের হাইব্রীড, ইনব্রীড ও স্থানীয় জাতের গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি ২ টনের মত বলে ডিএই সূত্রে বলা হয়েছে। সমাপ্ত প্রায় খরিপÑ১ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলায় ২ লাখ ৪ হাজার ৬৭০ হেক্টরে আউশের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৯ হেক্টরে এবং ফরিদপুরের ৫ জেলায় আবাদের পরিমান ২৮ হাজার ১৫০ হেক্টর। ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রার ৩০ হেক্টর বেশি জমিতে আউশের আবাদ হলেও দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলায় তা প্রায় ৫৮ হাজার হেক্টর পেছনে। গত বছর শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬ জেলাতেই প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছিল। এর আগের বছরগুলোতে তা ছিল প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর।
এবার বৃষ্টির অভাবে আবাদের পরিমান সারাদেশেই প্রায় ১২Ñ১৫% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে বলে ডিএই সূত্র জানিয়েছে। দক্ষিনাঞ্চলে ২ লাখ হেক্টর থেকে আবাদ ১ লাখ ৭৬ হাজারে নেমেছে। যা সাম্প্রতিককালের সর্বনি¤œ বলে জানা গেছে। ফলে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ৬.১৬ লাখ টন আউশ চাল প্রাপ্তির যে সম্ভাবনা ছিলো তা ক্ষীন হয়ে আসছে। বৃষ্টির অভাবে আবাদ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় কাঙ্খিত উৎপাদন লক্ষ্যও পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই’র মতে, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় কোটি মানুষের দৈনিক ৪৪২ গ্রাম দানাদার খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার আলোকে এ অঞ্চলে বছরে খাদ্য শষ্যের চাহিদা ১৬ লাখ ১০ হাজার টনের মত। কিন্তু আমন, আউশ ও বোরোসহ এ অঞ্চলে বছরে চালের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৫৩ হাজার টন। এছাড়া আরো প্রায় ১০-১২ হাজার টন গমসহ প্রতিবছর সর্বমোট দানাদার খাদ্য ফসলের উৎপাদন প্রায় ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টন। এ থেকে ফসল আবাদে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টন বীজ প্রয়োজন হলেও নীট দানাদার খাদ্য শষ্য থাকছে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টন। সেখান থেকে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন খাবার গ্রহনের পরেও প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছরও দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় প্রায় ১৬ লাখ টন আমন, পৌনে ৫ লাখ টন আউশ ও প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন বোরো উৎপাদন হয়েছিল। গমের উৎপাদনও ছিল প্রায় ১৫ হাজার টনের কাছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT