3:51 pm , August 29, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পাওনা ১৭শ’ টাকা না দেয়ায় নগরীতে আড়তদের হামলায় এক সিএনজি চালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার রাত ১১টার দিকে নগরীর পোর্ট রোডের ফলের আড়ৎ সুজন বানিজ্য ভান্ডারে ধরে নিয়ে মারধর করা হয় সিএনজি চালক শাহ আলমকে (৪০)। রাত দেড়টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। শেবাচিম হাসপাতাল ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহমান জানান, পাওনা টাকা না দেয়ায় নগরীর পোর্ট রোডের ফলের আড়ৎদার তাকে ধরে নিয়ে মারধর করেছে। আহত অবস্থায় রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টায় তার মৃত্যু হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এসআই রহমান আরো জানান, বর্তমানে শাহ আলমের লাশ হাসপাতাল মর্গের ফ্রীজে রয়েছে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত করা হবে। শাহ আলম নগরীর রসুলপুর কলোনীর বাসীন্দা মোসলেম হাওলাদারের ছেলে। সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও পূর্বে সুজন বানিজ্য ভান্ডারে কাজ করতেন তিনি। কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম রোববার ৩টার দিকে রিকশায় করে বাসায় যাওয়ার পথে রসুলপুর ব্রীজে অসুস্থ হয়ে পড়ে শাহ আলম। এরপর রিকশা চালক তাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। পরে স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি শাহ আলম নামের ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এসব বিষয় শুনে শাহ আলমের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, সোমবার ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করা হয়েছে। স্বজনরা অভিযোগ দিলে সেই অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।শাহ আলমের ছেলে শুভ জানায়, শাহ আলম নগরীর ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুজন খানের আড়তে কাজ করতো। সুজন খান ১ হাজার ৭শ টাকা পেতো। রোববার রাত ১১টার দিকে বাবা সিএনজি নিয়ে রসুলপুর আসার পথিমধ্যে সুজন খান ও তার লোকজন তাকে ধরে পোর্ট রোড আড়তে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধরক মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে পাওনা টাকা না পেয়ে সিএনজি রেখে তাকে রিকশায় করে পাঠিয়ে দেয় সুজন। এরপর রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয় হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষনা করে।
