মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ হয়েছে শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ হয়েছে শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় - ajkerparibartan.com
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বাকেরগঞ্জের শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ হয়েছে শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয়

3:48 pm , August 29, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী শত্রুদের সাথে লড়াই করে বেঁচে ছিলেন তিনি। নিজে শুধু একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন একজন সংগঠকও। নিজ বাড়িটি ছিলো শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়াসহ তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। পাকিস্তানী হানাদার মিলিটারি বাহিনী যাকে বার বার আক্রমন করেও মারতে পারেনি, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দেশ স্বাধীন হবার পর প্রান দিতে হয়েছে দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা পাকিস্তানী দোসরদের হাতে। নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। বীর এই মুক্তিযোদ্ধার নাম শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী। তবে সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি নাটু বাবু নামেই বেশী পরিচিত ছিলেন। বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুরে তার বাড়ি। তিনি তৎকালীন একজন জমিদারও ছিলেন। যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যথারীতি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বাধীন দেশে এত বড় একজন বীরের জন্য এটুকুই কি যথেষ্ট ছিলো? বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর বিভিন্নভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বীর এই মুক্তিযোদ্ধার নামে একটি স্কুলের নামকরন করা হয়েছে। তার বাড়ির পাশেই অবস্থিত স্বাধীনতার পূর্বে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই স্কুলটির নাম ছিলো শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু এখন এই স্কুলটির নামকরন করা হয়েছে শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রোববার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
বাবার নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরনের খবরে খুশি তার আমেরিকা প্রবাসী ছেলে বিপ্লব বন্নি রায় চৌধুরী। আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। বলেন, খুশির এই সময়ে বাবার স্মৃতি বিজড়িত স্কুলটি নিজ চোখে দেখতে পেলে ও বাড়িতে অবস্থান করতে পারলে ভাল লাগতো। তিনি বলেন, বাবার নামে স্কুলটির নামকরনের বিষয়টি দীর্ঘ বছর ধরে ঝুলে ছিলো। কিন্তু বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানের প্রচেষ্টায় অবশেষে এটি সম্ভব হয়েছে। আমি তার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আরো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর প্রতি। তাদের সবার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার কারনে বাবার নামে এই প্রথম একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরন হলো। এটা অনেক বড় একটি পাওয়া ও বিশেষ স্বীকৃতি।
শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরীর (নাটু বাবু) স্ত্রী ছায়া বিবি বলেন, আজ আমি অনেক খুশি। স্কুলের নামটি হবে হবে করেও হচ্ছিলো না। আজ জানতে পারলাম সেটি হয়েছে। তিনি বলেন ওই স্কুলের জমি আমার স্বামীর দান করা। আমি চাই আমার স্বামীর নামে একটি কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও নামকরন করা হোক।
বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা বিএম কলেজের তৎকালীন (যুদ্ধের সময়) ভিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেন, শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরী (নাটু বাবু) ছিলেন মানুষের একজন প্রকৃত বন্ধু। আমি বলবো তার অবদানের কারনেই বাকেরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করার শক্তি সাহস ও সাপোর্ট পেয়েছিলো। কারন আমরা যখন রঙ্গশ্রীর ক্যাম্পে থাকতে পারলাম না তখন তিনি সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তার নিজ বাড়িতে আশ্রয় দেন। তার সক্রিয় সহযোগিতায় স্কুল মাঠে নতুন করে ক্যাম্প স্থাপন করলাম। তিনি প্রতিদিন ৪’শ থেকে সাড়ে ৪’শ মুক্তিযোদ্ধাকে রান্না করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তার এই অবদান ও ত্যাগের জন্য সরকার আজ তাকে যে নতুন ভাবে সম্মানিত করলো তার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
বাকেরগঞ্জের অপর এক সন্তান কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান বাদশা বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা করছিলাম স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে তার নামে করার জন্য। বিভিন্ন কারনে তা বিলম্বিত হচ্ছিলো। কিন্তু বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান আমিনুল ইসলাম খানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে এটি সম্ভব হয়েছে। আমি তাকেসহ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞা জানাচ্ছি।
নামকরনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেবার পর সব দিক থেকে চেষ্টা করছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার। তারই একটি নিদর্শন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ কুমুদবন্ধু রায় চৌধুরীর নামে স্কুলটির নামকরন। তিনি বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামকরন করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত ও একই সাথে স্মরনীয় করে রাখতে চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সরকারের এমন মহতি উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT