3:46 pm , August 29, 2022
বরিশালে নতুন টাকার ব্যবসায় চলছে স্বেচ্ছাচারিতা
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ এক হাজার টাকার নোট বদলের বিনিময়ে ১৩০ টাকা নিলেন নতুন টাকা বিক্রেতা। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতার সাথে তর্কাতর্কিও কম হলোনা বিক্রেতার। শেষে হাল ছেড়ে পরাজয় মেনে নিয়ে চলে গেলেন ক্রেতা। এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। বরিশালের টাকা বেচাকেনার একমাত্র বাজারটিতে প্রায়শই গ্রাহকদের সাথে ঝগড়া, এমনকি মারামারি ঘটনাও ঘটে বলে জানালেন নগরীর কালেক্টকর পুকুর পাড়ের চা বিক্রেতারা। নগরীর কালেক্টর পুকুর পাড় ও জেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন জমে উঠে এরকম ছেড়া এবং নতুন টাকা কেনাবেচার বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত টাকা কেনাবেচার এসব দোকানগুলো খোলা থাকে। আর কোনো নীতিমালা না থাকায় এখানে চলে ইচ্ছে মতো স্বেচ্ছাচারিতা। বিশেষ করে উৎসব, পার্বন কিংবা জরুরী প্রয়োজনে কেউ টাকার অদল-বদল করতে গেলে টাকা ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের একপ্রকার জিম্মি করে ফেলে। কোন নীতিমালা না থাকায় অবৈধ এ ব্যবসায় ঝুকে পড়েছে এক শ্রেণীর যুবক। রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে ছোট ছোট টেবিল বসিয়ে গড়ে তোলা ছেড়া টাকা কেনা এবং নতুন টাকা বেচার এসব দোকানীদের সাথে অনেক সময় মারামারিও লেগে যায় গ্রাহকের।
মাছ ও সবজি বিক্রেতা, গ্রামের মুদি দোকানদারসহ অনেকেই এ দোকানগুলোতে আসেন টাকা ভাংতি কিংবা ছেঁড়া পুরাতন টাকা বদলে নিতে। আর এসেই পড়েন বিপাকে। কেননা টাকা ব্যবসায়ীরা এখানে যার থেকে যা নিয়ে পারেন সেই নীতিতে চলছে। টাকা অদলবদল করতে গেলে হাজারে ১৩০ টাকা, আবার ৫০০ টাকায় ৮০ টাকা আদায় করে নেয়। আর যদি টাকাটির এককোনা হারিয়ে যায়, তবে তো কথাই নেই। এটি চলবেনা আর। এই নিন বলে হাজার টাকার বিনিময়ে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে। আর এ জাতীয় অভিযোগ অসংখ্য।
বরিশাল শহরে এরকম নতুন টাকা বেচাকেনার সাথে জড়িত প্রায় ১৫০ জন ব্যবসায়ী আছে জানিয়ে কালেক্টর পুকুর পাড়ের টাকা ব্যবসায়ী ফয়সাল বলেন, এভাবে দোকান সাজিয়ে বসি আমরা মাত্র ৭/৮ জন। বাকীরা সবাই ভ্রাম্যমাণ টাকা বেচাকেনা করেন। তারা বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন তেলের পাম্প বা টোলঘাট কিংবা গ্রামের বাজারে ঘুরে ঘুরে টাকা কেনাবেচা করেন।
সিটি কর্পোরেশন ভবনের পাশে বসা সোহেল বলেন, আমরা পুরাতন টাকা বদলে ১০০ টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা নেই। হাজারে ১০০ টাকা। আমাদেরতো খেতে হয় বলুন। এই উপার্জন দিয়েইতো সংসার চলে।
বিষয়টিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাও। ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মামুন হাওলাদার সবাইকে সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সচেতনতার অভাবে ঘটছে। একটু কষ্ট করে ব্যাংকে এলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা ৫০% এর নীচে মিশিং টাকার বিনিময়ে কিছুই দেই না। ৯০ ভাগ বা ৮০ ভাগ মিশিং থাকলে পুরো টাকাটাই গ্রাহককে বদলে দেয়া হয়। তবে কিছু টাকা আছে যা অতিরিক্ত ড্যাম পরা টাকা। এটির বিষয়ে মিটিং এ সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য এক সপ্তাহ সময় নেয়া হয়। বেশিরভাগ মানুষই ধৈর্য্যের অভাবে দ্রুত বদলে নিতে বিক্রেতাদের কাছে যান। ওরাও তখন সুযোগ নেয়। তাছাড়া ওদেরওতো এটাই উপার্জনের পথ। তবে সচল টাকার বদলে নতুন নোট নিতে গেলে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। একটি সূত্র জানায়, ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা দিয়ে টাকা ব্যবসায়ীরা নতুন নোট ছাড়িয়ে আনে। যা আইনত দন্ডনীয়।
