4:04 pm , August 28, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হাসপাতালের মধ্যে এক অজ্ঞাত যুবক (২২) তিনদিন ধরে পড়ে থাকলেও চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে আসেনি কেউ। হৃদয় বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শনিবার রাতে ওই যুবককে হাসপাতালের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন এক সরকারী কর্মচারী। স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার (২৪ আগষ্ট) অসুস্থ ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করেন পুলিশ সদস্যরা। ভর্তির পর প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেয়া হলেও বৃহস্পতিবার (২৫ আগষ্ট) থেকে ওই যুবক চিকিৎসাবিহীন হাসপাতালের মধ্যে পড়ে থাকলেও হতভাগ্য ওই যুবকের হয়নি কোন চিকিৎসা। সরকারি কর্মচারী ও গৌরনদীর টিখাসার এলাকার বাসীন্দা মোঃ শিপন হাওলাদার জানান, শনিবার রাতে হাসপাতালের সিঁড়ির গোড়ায় মেঝে থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসায় নিজের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাবো। তিনি আরও জানান, তিনদিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে থাকায় যুবকের শরীরে পোকায় ও পিঁপড়ায় বাসা বেঁধেছিলো। এছাড়াও এতোদিন না খেয়ে থাকায় সে খুবই অসুস্থ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মুনীর জানান, ওই যুবককে নিয়ে আসার পর প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে বেডে দেয়া হয়েছে। সে কি রোগে আক্রান্ত তা জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাজেদুল ইসলাম কাওছার জানান, ওই যুবক তিনদিন হাসপাতালের মেঝেতে ছিলোনা। ২৪ আগষ্ট তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর যাবতীয় চিকিৎসা দিয়ে বেডে রাখা হয়েছিলো। কিন্ত রোগী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজেই নিচে নেমে এসেছে। হাসপাতালের স্টাফরা তাকে কয়েক বার নীচ থেকে উপরে বেডে নিয়ে রেখেছেন। তিনি আরও জানান, রোগীকে চিকিৎসা কিংবা ওষুধপত্র দেওয়ার দায়িত্ব চিকিৎসকদের। কিন্ত অজ্ঞাত রোগীদের স্বজনদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব কিন্ত চিকিৎসকদের নয়। অনেক সময় জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে হয়। এক্ষেত্রে অজ্ঞাত রোগী হলে কেউ রিসিভ করতে চায় না। অজ্ঞাত রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অফিস, পুলিশ ও সচেতন জনগণ মিলে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এসব রোগীকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে
কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।
