দক্ষিণাঞ্চলের জেলেসহ মৎস্যজীবীদের চরম দুর্দিন দক্ষিণাঞ্চলের জেলেসহ মৎস্যজীবীদের চরম দুর্দিন - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলের জেলেসহ মৎস্যজীবীদের চরম দুর্দিন

3:55 pm , August 27, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ সাম্প্রতিক জ¦ালানীসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সাথে বছর জুড়ে বিরূপ আবহাওয়ায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলে আর মৎস্যজীবীদের চরম দুর্দীন চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনে এবার আষাঢ়Ñশ্রাবনের বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির অভাবে নদী এবং সাগর উপকুলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের বেশী। ফলে মাছের বিচরন হ্রাসের মধ্যেই ডিজেল ও লুব্রিকেন্ট-এর দাম বৃদ্ধি জেলে সম্প্রদায়কে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে। এবার ঘন ঘন লঘুচাপ ও নি¤œ চাপের প্রভাবে সাগর ও নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় মৎস্য আহরণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময় ছাড়াও গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এসব নিষেধাজ্ঞায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বাড়লেও বছরের বেশীরভাগ সময়ই জেলেরা নদী ও সাগরে নাও ভাসাতে পারছে না। এর বাইরেও দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি অভয়াশ্রমে ২-৩ মাস নিষেধাজ্ঞা থাকছে। যদিও এসব নিষেধাজ্ঞার সময়গুলেতে জেলেদের কিছু খাদ্য সহায়তা সরকার প্রদান করছে। কিন্তু নানামুখী প্রতিবন্ধকতার সাথে সাম্প্রতিক ডিজেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার জেলে পরিবারসহ মৎস্যজীবীদের অনেকটাই সর্বশান্ত করে দিয়েছে। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো মাছের মোকামেই অনেকটা নীরব হাহাকার চলছে। যেসব আড়তদার জেলেদের নগদ অর্থ, জ¦ালানী,বরফ এবং খাবার দিয়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে পাঠান তাদের মাঝেও যথেষ্ট হতাশা কাজ করছে। জ¦ালানীর মূল্য বৃদ্ধির রেশ ধরে ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে মাছের দামও প্রায় দেড়গুন বেড়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় নদী ও সাগর উপকূলে বিচরণ কমে যাওয়ায় আহরিত মাছ বিক্রি করে আহরণ ব্যয় উঠছে না।
পাথরঘাটা ও মহিপুরের একাধিক মৎস্য আড়তদার জানিয়েছেন, একটি মাঝারী ট্রলার সাগরে ৭ দিনের জন্য মাছ ধরতে গেলেও খোরাকী (খাবার খরচ), জ¦ালানী ও বরফসহ লক্ষাধিক টাকা লাগছে। ১৫ দিনের জন্য ব্যয় প্রায় দ্বিগুন। কিন্তু যে মাছ উঠছে তাতে ব্যয়ের অর্ধেক টাকাও আসছে না। মাছ না পেয়ে আড়তদার মহাজনদের মত জেলেরাও বিপর্যস্ত। কারণ আহরিত মাছ দাদন দানকারী আড়তে বিক্রি করে বিক্রিত অর্থের ১০ আনা জেলেরা পাবার কথা। মহাজনরা পাবেন ৬ আনা। কিন্তু জ¦ালানী ব্যয়সহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে আহরণ ব্যয় যে হারে বেড়েছে, দাম বাড়ার পরেও আহরিত মাছ বিক্রি করে সে টাকা উঠে আসছে না। ফলে বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জেলে পল্লীতে এখন নীরব হাহাকার। শুধু সাগর ও উপকূলভাগেই নয়, দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদÑনদীতেও জ¦ালানীর মূল্য বৃদ্ধির বিরূপ প্রভাবে জেলে সম্প্রদায় চরম বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন। মৎস্য বিভাগের মতে, দেশের প্রায় ৫লাখ মানুষ জীবিকার জন্য মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলাতেই প্রায় ৩.৬৫ লাখ জেলে ইলিশ আহরণে জড়িত। যার ৬৫% সার্বক্ষণিকভাবে কর্মরত। দেশের মৎস্য সম্পদে সাগর ও উপকূলভাগের মাছের অবদান এখন প্রায় ১৫%। সমুদ্র ও উপকূল এলাকায় প্রায় ৫.১৬ লাখ জেলে প্রায় ৩৩ হাজার ইঞ্জিন চালিত ও ৩৫ হাজার ইঞ্জিনবিহীন নৌকায় মৎস্য আহরণে নিয়োজিত। মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, দেশে আহরিত প্রায় সাড়ে ৪৬ লাখ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মধ্যে সামুদ্রিক মাছের পরিমান প্রায় ৭ লাখ টন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT