3:34 pm , August 26, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে সাঁতরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে রক্ষা পায়নি বরিশাল জেলা পুলিশের এক কনষ্টেবল। বাড়ীওয়ালার তরুনী কন্যাকে ধর্ষণ ও অন্ত:সত্ত্বা করার অভিযোগে এক সন্তানের জনক কনষ্টেবল কাওছার আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ। কাওছার বরিশাল জেলা পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। কাওছার নগরীর দক্ষিন আলেকান্দা এলাকার বুকভিলা গলির একটি বাসায় স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন। বরগুনা জেলা সদরের আমড়াঝুড়ি এলাকার আলম শিকদারের ছেলে সে। কোতয়ালী থানার ওসি আজিমুল করিম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে ওই কনষ্টেবল সাঁতরে নদীর মাঝে চলে যায়। তখন এক নারী ৯৯৯ এর ফোন দেয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশ সদস্যসহ তরুনীকে থানায় আনা হয়। পরে তরুনীকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তরুনীর (১৯) বাবার বাসায় ভাড়া ওঠেন। পরে এক কনষ্টেবলের সাথে তরুনীকে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখায় কাওছার। সেই থেকে ওই তরুনীর সাথে কাওছারের সখ্যতা গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষন করে। তরুনী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা ও খালাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তারা চিকিৎসকের কাছে নিলে অন্ত:সত্ত্বার বিষয়টি প্রকাশ হয়। বর্তমানে তরুনী ২০ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা। এ বিষয়টি জানার পর পর কাওছার পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরের ত্রিশ গোডাউন এলাকায় গিয়ে কাওছারকে খুঁজে পায় তরুনী । এরপর ৯৯৯ এর মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করে সে। তখন দৌঁড়ে কীর্তনখোলা নদীতে ঝাপ দেয় কাওছার। পরে দুই নারী পুলিশ সদস্যকে নিয়ে একটি ট্রলারে করে মাঝ নদী থেকে কাওসারকে আটক করা হয়। নদীতে ঝাপিয়ে পড়া পুলিশ কনষ্টেবলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। ত্রিশ গোডাউন এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, কাওছার দুই নারীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন। এরপর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গাতে যাচ্ছিলেন সে। এরমাঝেই কাওছার এক নারীর সাথে ধস্তাধস্তি করেন। এক পর্যায়ে কাওছার দৌঁড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ট্রলার নিয়ে তাকে মাঝ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, তরুনী বাদী হয়ে কনষ্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষন ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় কনষ্টেবলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
