3:26 pm , August 26, 2022
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাকেরগঞ্জে টাকার জন্য শিরিন আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিরিন আক্তার বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সিএন্ডবি রোড এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের স্ত্রী। শিরিন আক্তারের মা হাসিনা বেগম জানান, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই টাকার জন্য শিরিন আক্তারকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে মিজানুর রহমান। মেয়ে অত্যাচার সইতে না পেরে তাদের জানালে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকাও দেয়া হয় জামাতা মিজানকে। কিন্তু সম্প্রতি আবারও মিজান বড় অংকের টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে অপারগতা জানালে নতুন করে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে শিরিনের ওপর। কয়েক বছর আগে এই মিজানের লাথিতে শিরিনের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও আমরা কিছু বলতে পারিনি, কারণ মিজানের বোন জামাই স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ায় তারা সেই প্রভাবে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখায়।মা হাসিনা বেগম বলেন, বর্তমানে শিরিনের স্বামী মিজানুর রহমান ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশনের আওতায় লাইনম্যানের চাকুরি করে। সম্প্রতি সে ছুটিতে এসে টাকার জন্য শিরিনকে মারধর করে। শিরিনের ওপর অত্যাচার চালিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় শিরিনকে বাসা থেকে নেমে যেতে বলে। কিন্তু শিরিন তারপরও বাড়ি থেকে না নেমে যাওয়ায়, বুধবার রাতে শশুর মুনসুর আলী ও শাশুরী সেতারা বেগম মিলে শিরিনকে মারধর করে। তাতেও শিরিন ঘর থেকে না নেমে যাওয়ায় পরের দিন সকালে পুনরায় মারধর করে ঘরের দরজা দিয়ে রাখে। এসময় শিরিন আত্মহত্যার চেষ্টা চালালে বিষয়টি আমাদের জানায় । কারন তাকে শশুর বাড়ি থেকে নেমে যেতে বলা হয়েছে। আমরা শিরিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছি। এদিকে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া শিরিন জানান, তার ওপর শুধু স্বামী ও শশুর-শাশুড়ি নয় তাদের মেয়ে বিথী ও ঘরজামাই নাসির উদ্দিন নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে ঘটনার পর এক নারীকে বাড়িতে রেখে সটকে পরেছেন শশুর-শাশুড়ি।তবে এ বিষয়ে শিরিনের স্বামী মিজান মোবাইলে জানান, বহু আগেই মৌখিকভাবে শিরিনকে তিনি তালাক দিয়েছেন আর সম্প্রতি কাগজে-কলমেও দিয়েছেন। তার সাথে তিনি সংসার করতে চাচ্ছেন না। যদিও মারধরের বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। স্থানীয় বাসিন্দা ও উভয় পক্ষের স্বজন ছালাম বেগম বলেন, শিরিনের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি আদৌ সন্তোষজনক নয়। উভয় পক্ষ মিলেমিশে ভালোভাবে থাকুক সেই কামনা আমাদের। শুনেছি মিজান নাকি শিরিনের বাবার বাড়িতে তালাকের কাগজ পাঠিয়েছে। কিন্তু শিরিন এই বাড়িতে সুন্দরভাবে থাকতে তালাকের কাগজ বাড়িতে পাঠানোর কি দরকার ছিলো। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্য রঞ্জন খাসকেল বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে খোজ খবর নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
