ঢাকায় শম্পা ও তন্বী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ঢাকায় শম্পা ও তন্বী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন - ajkerparibartan.com
ঢাকায় শম্পা ও তন্বী হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

3:51 pm , August 24, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কর্মজীবি মহিলা হোস্টেলের সুপার শম্পা হত্যাকারীদের চিহিৃত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার। বুধবার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে করা সংবাদ সম্মেলনে শম্পার বাবা-মা ও ভাই অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কাজের কোন অগ্রগতি নেই। তাদের দাবি শম্পার রুমমেট চাচাতো বোন ও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার করা হলে হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে ও হত্যাকারী চিহিৃত হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজধানীর বড় মগবাজার এলাকার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল সুপার ইতি আফরিন শম্পার বাবা মো. আবু ছালেক মাষ্টার। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বড় চাউলাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলী মাঝির ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে ইতির মা লাভলী ইয়াসমিন, ভাই সাইফুল ইসলাম ও ভাগ্নি অনন্যা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তবব্যে মাধ্যমে আবু ছালেক মাষ্টার জানান, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বড় মগবাজার এলাকার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের কর্মজীবি মহিলা হোস্টেল সুপার পদে যোগদান করে। ভাতিজি (ছালেক মাষ্টারের ভাইয়ের কন্যা) মাহফুজা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা হওয়ায় শম্পা ও সে (মাহফুজা) হোস্টেলের ষষ্ঠ তলার ৬০৩ নম্বর কক্ষে থাকতো।
আবু ছালেক বলেন, মোবাইল ফোনে তাদের সাথে শম্পার শেষ কথা হয় ৬ জুলাই রাতে ও মেঝ মেয়ের সাথে শম্পার কথা হয় ৭ জুলাই দিনে। ওই রাতে শম্পাকে ফোন দেয়ার পর সে কল রিসিভ করেনি। গত ১০ জুলাই পর্যন্ত একটানা ফোন করলেও রিসিভ করেনি শম্পা।
তখন শম্পার রুমমেট ভাতিজিকে কল করা হলে সে জানায়, ৭ জুলাই হোস্টেল থেকে ভাইয়ের বাসায় গেছে। শম্পা ফোন কল রিসিভ করে না কেন জানতে চাইলে মাহফুজা বলছিলো ‘আপনার মেয়ে, আপনি ঢাকায় এসে দেখে যেতে পারেন না ?
এরপর ১০ জুলাই হোস্টেলে গিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত ও অর্ধগলিত মেয়ের লাশ। এক পা খাটের উপর ভাজ করা, দুই হাত উঁচু, সমস্ত বিছানা ও মেঝে রক্তাক্ত অবস্থা। বিছানার চাদর ও তোষক কুচকানো এবং ছেড়া।
ছালেক জানান, ঘটনার দিন বিকেলে শম্পা হোস্টেলের কেয়ার টেকার হারুনকে দিয়ে রাতের খাবারের বিরিয়ানী আনিয়েছিলেন। যা হোষ্টেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে রমনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পাশাপাশি এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। যার নং-৫৪৭। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ন সরকার শম্পার দুইটি ফোন জব্দ করেন। ওই ফোন দুইটি সাত দিনের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফোন দুইটি ফেরত দেননি।
ছালেক মাষ্টারের অভিযোগ, মেয়ে নিহতের বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে। তাই সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
ছালেক মাষ্টারের অভিযোগ শম্পাকে নিজ কক্ষে হত্যা করে মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি মামলার তদন্তও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু ছালেক মাস্টার বলেন ‘ঈদের ছুটিতে সবাই যখন বাড়ি চলে গেছে ইতিও ঘটনার দুদিন আগে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। এজন্য সে ঢাকা সদরঘাটেও এসেছিল। কিন্তু কোন একজনের ফোন পেয়ে সে বরিশালে না এসে হোস্টেলে ফিরে যায়। ইতি ওইদিনই বিষয়টি আমাদের মুঠোফোনে জানিয়েছিল। কিন্তু কে তাকে ফোন করে সে বিষয়টি জানায়নি। এরপরেই তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা আবু ছালেক মাস্টারসহ তার পরিবারের দাবী, ইতির চাচাতো বোন মাহফুজা এবং হোস্টেলের কেয়ারটেকার হারুন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাই তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
ইতির চাচাতো বোন বড়মগবাজারে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিক মাহফুজা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নারায়ণ সরকার বলেন, ‘ইতির ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত পাইনি। মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে তদন্ত করছে সিআইডি বিভাগ। সেখান থেকেও কোন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত এবং সিআইডি’র রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন ‘যেই রুমে ইতির মৃতদেহ ঝুলছিল সেই রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। নিহতের মামাসহ অন্যান্য স্বজনরা দরজা ভেঙে মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এ কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হচ্ছে। তার পরেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে।
অপরদিকে, একইস্থানে শিশু তন্বী হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে দুই আসামী সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসামী কৃষক মো. কবির খান বলেন, আগে চলতি বছরের ২৭ মে কাউনিয়া থানাধীন ৪ নং শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ছোট রাজাপুর গ্রামের সোহরাব হাওরাদারের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া তন্বী আক্তার (১৩) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহত তন্নীর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তন্নীর মা লিপি আক্তার, ও ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দীনকেও আসামী করা হয়েছে। বর্তমানে নিহত তন্নির মা কারাগারে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে মামলার আসামী মো. কবির খান ও মো. জসিম উদ্দীনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাহাত খান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমার বসতঘর প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে । আমি পেশায় একজন কৃষক। নিজের জমিসহ অন্যের জমি চাষাবাদ করে জীবন যাপন করছি। মামলার বাদী সোহরাব হাওলাদারের বাড়ীসহ আশেপাশে আমার জমি আছে। উক্ত অংশ জমির দাম পরিশোধ করে দিবে বলে বারবার ওয়াদা করেও আজ পর্যন্ত দেয়নি সোহরাব হাওলাদার । বাদী প্রায়ই আমার জমি অবৈধভাবে দখল করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে । এ নিয়ে প্রায়ই আমাদের সাথে বাদী ও বাদীর আপন ভাই ২নং স্বাক্ষীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ হয়। ঘটনার ৮দিন পরে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় আমাকে ও ইউপি সদস্যকে আসামী করা হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে মো. কবির খান ও মো. জসিম জামিন নেন। জামিন পেয়ে কবির খান মামলার ২নং আসামী ও নিহত তন্নীর মা লিপি আক্তার এর সাথে কারাগারে দেখা করতে যান। তখন তাকে লিপি আক্তার বলেছে, ঘটনার পর সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে মিথ্যা স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য তার স্বামী এবং স্বামীর আপন ভাই ইউসুফ অনেক মারধর করে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি ( লিপি আক্তার) সাংবাদিক, পুলিশ এবং আদালতে মিথ্যা জবানবন্দী দিয়েছি। মারধর করার কারণে তন্নী অভিমানে আত্মহত্যা করেছে বিধায় আমাকে ঘর ছাড়া, সংসার ছাড়া করার জন্যই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কবির খা সাংবাদিকদের বলেন, আমি পড়াশুনা জানিনা। কৃষি কাজ করি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমাকে তারা ফাঁসিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT