সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং ও গাইড বাণিজ্য সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং ও গাইড বাণিজ্য - ajkerparibartan.com
সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোচিং ও গাইড বাণিজ্য

3:30 pm , August 24, 2022

স্বরূপকাঠি প্রতিবেদক ॥ সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শ্রেনীর শিক্ষকরা কোচিং ও গাইড বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বানিজ্যিক মনোভাবাপন্ন এ ধরনের শিক্ষকরা বাড়িতে অথবা বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। স্কুলের মতো গণহারে পড়ানো কোচিং করা শিক্ষার্থীদের প্রতি রয়েছে তাদের আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি। নতুন শিক্ষার্থী আকর্ষণ করতে মাঝে মাঝে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার নামে ছাত্রী উধাও হওয়ার মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনাও ঘটছে। পিকনিকে যেতে দরিদ্র অভিভাবকদের ওপর চাঁদার চাপ বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম নামে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী শিক্ষক নিজের লাইব্রেরীর মাধ্যমে অবাধে নোট ও গাইড বই বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন । একই শিক্ষার্থীকে একাধিক প্রকাশনীর গাইড কেনার পরামর্শ দেন এসব শিক্ষকরা। এ ছাড়াও এক বিষয়ে পারদর্শী একজন শিক্ষক তার কোচিংয়ের শিক্ষার্থীকে সকল সাবজেক্ট পড়ানো হয়। প্রভাবশালী এ শিক্ষকদের কাছে না পড়লে নম্বর কম পাওয়ার ভয় থেকে শিক্ষার্থীরা অনেকটা বাধ্য হয়ে তাদের কোচিংয়ে পড়তে যান। অভিভাবকদের অভিযোগের সুত্রে অনুসন্ধানে জানাগেছে, স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক ডজন শিক্ষক কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম, জিয়াউল হক,আতিকুর রহমান কবির নিজ বাড়িতে এবং ভাড়া বিল্ডিংয়ের বিশাল স্পেস নিয়ে কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। বিদ্যালয়ের পাঠ দানের মতো সারি সারি শিক্ষার্থী বসে একসাথে ক্লাস করছে সেখানে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় মাঝে মাঝে ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে পিকনিকেও যায় তারা। গত ১৮ আগষ্ট ওই তিন শিক্ষক মিলে তাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে উজিরপুরের সাতলা বিলে পিকনিকে যায়। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রী উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় জিডি করেন। তার দুইদিন পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এক সময় ছাত্রদলের সক্রিয় ক্যাডার সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এখন আওয়ামীলীগের কিছু নেতার ছত্র ছায়ায় লাইব্রেরী ব্যবসার নামে বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থার গাইড বিক্রির এজেন্সি নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওই নোট গাইড কেনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকেন। আমিনুল এসব গাইডের একটি অংশ পাইলট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেন বলে অভিযোগ আছে। মাহিন নামের এক ছাত্রের অভিভাবক মিজানুর রহমান চান্দু বলেন, পিকনিকে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের (বিশেষ করে ছাত্রীদের) ভোর পাঁচটায় স্কুল ঘাটে আসতে বলা একজন দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষকের কাজ না। সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বলেন, তাদের বাড়ীর দূরত্ব বিদ্যালয় ঘাট থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার। পিকনিকে যাওয়ার জন্য তার ভাতিজিকে ভোর পাঁচটায় অন্ধকারের মধ্যে ট্রলার ঘাটে আসতে নির্দেশ দেন ওই শিক্ষকরা। আনোয়ার বলেন শিক্ষার্থীরা এক কোম্পানীর গাইড কেনার ৫/৬ মাস পরে কিছু শিক্ষক অন্য একটি প্রকাশনীর বই ভালো এবং সেটি কিনতে পরামর্শ দেয়। এসব শিক্ষকরা গাইড বিক্রেতাদের কাছ থেকে সুবিধা পান বলে অভিভাবকদের ধারনা। এসব অভিযোগের বিষয় উল্লেখিত শিক্ষকদের দাবী সরকারি আইনে কোচিং বন্ধ করা হয়নি। আরো একধাপ এগিয়ে শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার গাইড বই বিক্রি নিষিদ্ধ করেনি। সরকারী বিধান কি তা দেখতে চাইলে বলেন পরে দেখানো হবে। ছাত্রী উধাও হওয়ার বিষয়ে বলেন, তারা তিনজন ছাত্রী নিজ দায়িত্বেই বাড়ী চলে গেছে। তাদের একজন উধাও হয়। সন্ধ্যার পরে ওই ছাত্রীদের বাড়ী পৌছানোর দায়িত্ব কার ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে নিরুত্তর থাকেন। তার অনেক ক্লাসমেট প্রশাসনের উঁচুস্তরে চাকুরী করেন বলেও তিনি জাহির করেন।
নাম প্রকাশ না করে ওই বিদ্যালয়ের একজন সাবেক প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়টি বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়ার পরে কিছু শিক্ষক খামখেয়ালী করে চলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে সহকর্মি মনে করে গুরুত্ব দেন না।
আতিকুর রহমান কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পড়াচ্ছি। কেউ কোনদিন নিষেধ করেনি। আমি ঘর ভাড়া নিয়ে পড়াই। ছাত্রী উধাও হওয়ার বিষয়ে তিনিও এক কথা বলেন।
জিয়াউল হক বলেন, প্রায় সব শিক্ষকরাই পড়ান। প্রাইভেট পড়ানো বা কচিং সেন্টার খোলা যাবে না এমন কোন নিয়ম তার জানানাই। ছাত্রী উধাও হওয়ার বিষয়ে তিনিও একই কথা বলেন।
শিক্ষকদের এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে নামে তারা পিকনিকে যায়নি। তবে এভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পিকনিকে যাওয়া ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন কামাল হোসেন।
এসব বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মোশারেফ হোসেন বলেন, তিনি শীঘ্রই প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের সাথে বসবেন এবং অনিয়ম থাকেেল ব্যবস্থা নিবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT