আষাঢ়-শ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান অর্ধেকেরও নিচে আষাঢ়-শ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান অর্ধেকেরও নিচে - ajkerparibartan.com
আষাঢ়-শ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান অর্ধেকেরও নিচে

3:45 pm , August 6, 2022

আমন আবাদ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় কৃষক ॥ বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকি

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে আষাঢ়Ñশ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুম জুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতহীন শরতের আবহাওয়ায় প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের আবাদ ও উৎপাদন নিয়ে দুঃ.চিন্তায় লক্ষ লক্ষ কৃষক। বিপর্যস্ত জনস্বাস্থ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ডায়রিয়ার প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে। প্রতিদিন শুধু সরকারী হাসপতালগুলোতেই প্রায় ২শ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসার জন্য আসছে। দুঃসহ গরমে ইতোমধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছুঁয়েছে। গত কয়েকটি মাসের মত ভরা বর্ষার আষাঢ়Ñশ্রাবনেও বৃষ্টিপাতের প্রবনতা কম থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একইসাথে তাপমাত্রার পারদও স্বাভাবিকের প্রায় ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস ওপরে। গত ২৯ জুলাই বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ফলে ফসল আবাদ এবং জনস্বাস্থ্যেও বিরূপ প্রভাবের আশংকা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আষাঢ়Ñশ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টিপাতের সংকট রোপা আমনের আবাদ বাধাগ্রস্ত করছে। আবহাওয়া বিভাগের হিসেবে গত জুন মাসে বরিশাল অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমান স্বাভাবিকের ৪৪.৪% নিচে থাকার পরে জুলাই মাসে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে বরিশালে ৪৮৩ মিলিমিটারের স্থলে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল ২৬৮.৫ মিলিমিটার। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬৫% কম।
চলতি খরিপ-২ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৭ লাখ হেক্টরে প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমন আবাদের মাধ্যমে ১৫ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করেছে কৃষি মন্ত্রনালয়। দক্ষিণাঞ্চলেল প্রধান দানাদার এ খাদ্য ফসল আবাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যে জুন মাসে কয়েকদিন প্রবল বর্ষনের সাথে ফুসে ওঠা সাগরের জোয়ারে আমন বীজতলা প্লাবিত হয়। কিন্তু এরপরেই স্বাভাবিক বৃষ্টির অভাবে চরম দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা। ভরা বর্ষার আষাঢ়Ñশ্রাবন জুড়েই দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে শ্রাবনের শেষভাগে এসেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলের জেলাগুলোতে আমন আবাদের অগ্রগতি মাত্র ৫%-এর কিছু বেশী।
গত এপ্রিলে বরিশালে স্বাভাবিক ১৩২ মিলিমিটরের স্থলে মাত্র ১৯ মিলিমিটারের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৮৫.৬% কম। মে মাসেও আবহাওয়া বিভাগ থেকে বরিশালে স্বাভাবিক ২৬০ মিলিমিটারের স্থলে ২৪৫ থেকে ৩১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও স্বাভাবিকের চেয়ে ৫.৬% কম বৃষ্টি হয়েছে । অথচ ওই মাসেই ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’তে ভর করে ৭ থেকে ১১ মে পর্যন্ত কয়েকদিনের অতি বর্ষণে তরমুজসহ বিভিন্ন রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর জুনে ৪৬০ থেকে ৫১০ মিলি পূর্বাভাসের মধ্যেও মাসের প্রথম ১৮ দিনে মাত্র ৬০.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরে শেষ ১২ দিনে ২শ মিলিমিটারসহ পুরো মাসে ২৬৮.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪.৪% কম। সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে পরিস্থিতি ছিল আরো ভয়াবহ। এ মাসে স্বাভাবিক ৫১৯ মিলিমিটারের স্থলে বরিশালে মাত্র ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৪.৭% কম। এ সময়ে সারা দেশেই স্বাভাবিকের প্রায় ৫৮% কম বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি আগষ্টে বরিশাল অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৭৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির কথা বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
আষাঢ়Ñশ্রাবনের ভরা বর্ষা মৌসুম জুড়ে বৃষ্টির সংকট আমনের বীজতলা থেকে জমি তৈরী সহ রোপনকে যথেষ্টই বাধাগ্রস্ত করছে। সাথে বৃষ্টিপাতের অভাবে দক্ষিনাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পাট জাগ দেয়া নিয়েও সংকট তৈরী হচ্ছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই’র বরিশাল কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, বৃষ্টির স্বল্পতা কৃষকদের দুঃচিন্তা বাড়ালেও মাঝে মাঝে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে সতর্কতার সাথে আমনে বীজ উত্তোলন ও রোপন খুব বাধাগ্রস্ত না হলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারী করেই এবার আমন ঘরে তুলতে হবে। সামনে ভাদ্র মাসের বড় অমাবশ্যার সময় আরো কিছু বৃষ্টি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ডিএই’র মাঠ পর্যায়ের সব ব্লক সুপারভাইজারদের কৃষকদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রেখে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ প্রদানের কথাও জানান অতিরিক্ত পরিচালক।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমী বায়ুর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারী অবস্থায় রয়েছে। বরিশালসহ দক্ষিণ উপকূলের দু এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি সহ বজ্র বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে । সে সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
শনিবার দুপুরের পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় বরিশালে সামান্য এবং পটুয়াখালীতে ১, ভোলাতে ২ ও সাগর উপকুলের কলাপাড়ায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলেই পুরো মৌসুম জুড়েই তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের উপরে। এমনকি গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৩৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠে যাবার পরে মে মাসেরও বিভিন্ন সময়ে তা ৩৬ ডিগ্রী ছুই ছুই করছিল।
এদিকে বর্ষা মাথায় করে গত ৩১ মে স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণÑপশ্চিম মৌসুমী বায়ু দেশের উপকুভাগে পৌছে দক্ষিণাঞ্চল সহ সারা দেশে বিস্তৃতি লাভ করলেও গত দু মাসের বিভিন্ন সময়ে তা খুব সক্রিয় ছিল না। ফলে দক্ষিনাঞ্চল সহ সারা দেশেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের অনেক ওপরে। জনজীবনে অস্বস্তির সাথে স্বাস্থ্য ঝুকি এবং ফসল আবাদেও সংকট বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT