বরিশাল জেলার ৫৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন ও চাকুরী নিয়ে শংকা বরিশাল জেলার ৫৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন ও চাকুরী নিয়ে শংকা - ajkerparibartan.com
বরিশাল জেলার ৫৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন ও চাকুরী নিয়ে শংকা

3:43 pm , August 6, 2022

কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীপনা

হেলাল উদ্দিন ॥ চাকুরী ও পারিশ্রমিক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বরিশাল জেলার আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগকৃত ৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীন এসব কর্মচারীরা জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন। এক বছরেররেও বেশী সময় ধরে এরা পরিচ্ছন্নতাসহ হাসপাতালে সেবা দিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ মাসের পারিশ্রমিক পেয়েছেন তারা। এরই মধ্যে মন্ত্রনালয় চিঠি দিয়েছে চলতি বছরের ৩০ জুনের পর এসব কর্মচারীদের মেয়াদ আর বর্ধিত করা হবে না। ফলে চাকুরী এবং বকেয়া পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে শংকায়ও রয়েছেন তারা। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন বলছেন চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রনালয়ে চিঠি লিখবেন তারা। এছাড়া পারিশ্রমিকের বিষয়ে তাদের চাহিদার সাথে মন্ত্রনালয় সম্মতি না দেওয়ায় বকেয়া পড়েছে মজুরী।
জানা গেছে গত অর্থ বছরে বরিশাল জেলার বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কাজের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে ৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা হয়। যে কাজটি পায় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রয়োজনীয়তা অনুসারে জেলা সিভিল সার্জন এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত রেখেছেন।
কিন্তু যোগদানের পর থেকে চলতি মাস পর্যন্ত এসব কর্মীরা মাত্র ৩ মাসের বেতন বা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। কর্র্তৃপক্ষ বলছে তারা যে পারিশ্রমিক চাহিদা প্রেরন করেন মন্ত্রনালয় তা অনুমোদন দিচ্ছে না, যে কারনে বেতনে সমস্যা হয়েছে। এমন সমস্যার মধ্যে গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয় ৩০ জুনের পর এসব কর্মচারীদের চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না। মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাইফুল ইসলাম ভুঞা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে ‘বরিশাল জেলা সিভিল সার্জনের নিয়ন্ত্রনাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সার্বক্ষনিক সেবা নিশ্চিতকরনার্থে ইতিপূর্বে সম্মতি প্রদত্ত ৫৫ জন সেবা কর্মীর সেবা ক্রয়ের মেয়াদ পূর্বের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন ২০২২ তারিখ পর্যন্ত বৃদ্ধিতে সম্মতি প্রদান করা হলো’।
২৮ জুলাই মন্ত্রনালয় থেকে প্রেরিত অপর এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক অনুমোদন ব্যাতীত অথবা প্রশাসনিক অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হবার পর মেয়াদ বৃদ্ধি ব্যতীত আউটসোর্সিং সেবা কর্মী নিয়োগ প্রদান পূর্বক ভূতাপেক্ষভাবে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য আবেদন করে থাকেন। এ কারনে প্রশাসনিক কাজে বিঘœ সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মীদের বেতন ভাতা প্রদানেও জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই এ আদেশ জারির পর থেকে কোন হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ব্যতীত মেয়াদউত্তীর্ণ হবার পর সেবা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলে ভূতাপেক্ষ প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হবে না’। জানা গেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এই ৫৫ জন সেবাকর্মীর মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য জুনের পর মন্ত্রনালয়ে কোন চিঠি প্রেরন করেনি। তাই বেতন ভাতা ও চাকুরী নিয়ে এই কর্মীদের মধ্যে মধ্যে শংকা তৈরী হয়েছে।
এসব কর্মীদের নিয়োগের সময় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জনের দায়িত্বে থাকা ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন ‘নিয়ম হচ্ছে মন্ত্রনালয় অর্থ বরাদ্ধ করুক আর নাই করুক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত বেতন প্রদান করতে হবে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠনগুলো তা না দিয়ে খামখেয়ালী করে। তবে এ বিষয়ে দায়িত্বরত সিভিল সার্জন কে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন নিয়ম হচ্ছে ৩০ জুনের মধ্যে এসব সেবাকর্মীদের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা। কিন্তু সেটা না করে থাকলে মন্ত্রনালয় যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন ‘অফিসিয়াল কিছু জটিলতার কারনে মন্ত্রনালয় এসব কর্মীদের অর্থ ছাড় করছে না। আশা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। তবে ৩০ জুনের পর কর্মীদের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়নি বলে জানান তিনি’।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT