তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্তের বিচার চাইলেন তরুনী ও তার বাবা তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্তের বিচার চাইলেন তরুনী ও তার বাবা - ajkerparibartan.com
তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্তের বিচার চাইলেন তরুনী ও তার বাবা

3:26 pm , August 5, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রেমের দাবি নিয়ে ভারতের তামিলনাড়– থেকে বরিশালে ছুটে আসা সেই প্রেমকান্তের বিচার দাবি করেছেন তরুনী ও তার বাবা। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করায় দেশের প্রচলিত আইনে প্রেমকান্তের বিচার চান তারা। তরুনীর দাবি প্রেমকান্তের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সম্পর্ক হয়েছে তা বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে প্রেমকান্তের দাবি ওই তরুনীর সাথে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। ওই তরুনী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতজনের সাথে বন্ধুত্ব হয়। সেইভাবে প্রেমকান্তের সাথেও আমার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে প্রেমকান্ত বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা আমি প্রত্যাখ্যান করি। তখন সে আমার সাথে দেখা করতে বাংলাদেশ আসবে বলে জানায়। আমি তাকে বারবার নিষেধ করি। কিন্তু সে কোনভাবেই তা মানতে নারাজ। এক পর্যায়ে বরিশালে এসে ঝামেলা শুরু করে। সে আমার কলেজের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করে আমাকে খুঁজতে থাকে। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে বলে বেলায় আমি নাকি তাকে লোক দিয়ে মারধর করেছি। তার সাথে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি যেমন মিথ্যা, ঠিক তেমনটি সে বিভিন্ন স্থানে বলে বেড়াচ্ছে তাকে আমি মার খায়েছি তাও মিথ্যা। এমনকি এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ প্রেমকান্তকে ডেকে নেয়। সেখানে আমি ও আমার বাবা ছিলাম। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসা করেছে তার কোন অভিযোগ আছে কিনা সে বলেছে না। তার কোন অভিযোগ নেই। এরপর পুলিশ তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। ওই সময় তরুনী অভিযোগ দেয়ার জন্য বললে পুলিশ তাকে শান্তনা দেয় প্রেমকান্তকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, এ নিয়ে আর কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু সে ঢাকায় না গিয়ে বরিশালে ঘোরাফেরা করে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে বলে দাবি করেন তরুনী। তরুনী আরো বলেন, পুলিশ বলছে সে ভারতে চলে যাবে এ নিয়ে ঝামেলার দরকার নেই। পুলিশ কথা দিয়েছিল এ নিয়ে আর কোন ঝামেলা হলে তারা দেখবেন। এ কারনে প্রেমকান্তের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নেইনি। তানা হলে ওই দিন তার বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা নিতো বলে জানায় তরুণী।
তরুনী বলেন, তাকে নিয়ে প্রেমকান্ত সিনেমার মত গল্প বলেছে যা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এতে করে সে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। ওই তরুনী ভারত থেকে আসা ওই যুবকের বিচার দাবি করেন।
তরুনীর বাবা বলেন, ওই ছেলেটির সাথে আমার মেয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়। এরপর ছেলেটি বরিশাল চলে আসে। ছেলেটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাকে ও আমার মেয়েকে এয়ারপোর্ট থানায় ডেকে নেয়া হয়। ওই সময় আমি আমার স্ত্রী ও মেয়ে থানায় যাই। সেখানে থানার ওসি আমার মেয়ের কাছ থেকে সকল ঘটনা শোনেন। মেয়ে যা আমার কাছে বলেনি, তা পুলিশের কাছে বলেছে। আমার মেয়ের সাথে ওই ছেলের কোন সম্পর্ক ছিল না এটা সত্য। এখন ওই ছেলেটি ভারত থেকে এসে যেভাবে আমাদেরকে সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি করছে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার চাইলেন তিনি। একই সাথে তার মেয়ের কোন ক্ষতি না হয় সেদিকটা দেখার জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানান।
এ ব্যাপারে আইন সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্ট এর প্যানেল আইনজীবী উজ্জল কুমার দে বলেন, ভারতের ছেলেটি বরিশালে এসে ওই ১৬ বছরের এক তরুনীকে সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ঘটনায় ওই তরুনী আইনের সহায়তা নিতে পারবে। এমনকি তরুনী ও তার পরিবার চাইলে ব্লাস্ট আইনী সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ওই তরুনী যৌন হয়রানির শিকার হলে বরিশাল অথবা বরগুনার যে কোন থানায় আইনী সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবে। আমিতো মনে করেছিলাম ঢাকার বাসে তুলে দিয়েছি এখন সে ভারতে চলে যাবে। সে ভারতে না গিয়ে বরিশালে অবস্থান করে ওই তরুনীকে কোনভাবে ক্ষতি করলে ওই তরুনীকে অবশ্যই আইনী সহায়তা দেয়া হবে।
২৪ জুলাই প্রেমকান্ত ওই তরুনীর সাথে দেখা করতে বরিশাল নগরীতে আসেন। এরপর তরুনীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘোরাঘুরি এবং তাকে খুজতে থাকেন। ২৫ জুলাই প্রেমকান্তকে নগরীর কাশীপুর এলাকায় কে বা কারা মারধর করে। প্রেমকান্তের দাবি ওই তরুনীর নতুন প্রেমিক এ কাজ করেছে। সেখান থেকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সাথে কথা বলে প্রেমকান্তকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। কিন্তু প্রেমকান্ত ঢাকায় না গিয়ে বরিশালেই ওই তরুনীর সন্ধান করছেন।
তিন বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমকান্তের নাচের ভিডিও দেখে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে ওই তরুনী। এরপর থেকে তাদের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে কথা হয়। কিন্তু প্রেমকান্ত বিয়ের কথা বললে তার সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বলে দাবি করেছে তরুণী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT