পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে বরিশালের আমড়া, পেয়ারা ও বালাম চাল পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে বরিশালের আমড়া, পেয়ারা ও বালাম চাল - ajkerparibartan.com
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে বরিশালের আমড়া, পেয়ারা ও বালাম চাল

3:34 pm , August 4, 2022

এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া ॥ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের গোটা দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। নতুন স্বপ্নের জাল বুনছে ঝালকাঠি, বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠির ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। পদ্মা সেতুর কারনে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বক্ষেত্রে বর্তমানে পদ্মা সেতুর সুফল নিচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে । বদলে যাচ্ছে জীবমানের চালচিত্র। শিল্প-কলকারখানা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ সৃস্টি হয়েছে। সব শ্রেণির মানুষের উপকার হবে। জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে জমির মূল্য। বিশেষ করে ঝালকাঠি ও স্বরূপকাঠির পেয়ারা, আমড়া, সুপারি, নারকেল, কাঠ, নার্সারীর বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধী গাছের চারা ও ফুল এবং বানারীপাড়ার বিখ্যাত বালাম চাল ও আমড়া, পেয়ারা, নারকেল সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সহজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্প সময়ে পরিবহন হচ্ছে। এতে দারুন খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পূর্বে ঝালকাঠি, স্বরূপকাঠি ও বানারীপাড়া থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে সময় লাগত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পন্য বোঝাই ট্রাক হলে দুদিন লেগে যেত। এখন সেখানে ৩-৪ ঘণ্টায় পৌঁছে যাচ্ছে। সড়ক পথের দূরত্ব কমছে প্রায় একশ কিলোমিটার। স্থানীয় ব্যবসীয়রা জানান, এ সব পণ্য এতদিন নদী ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছিল। এতে সময়ক্ষেপণ, ফেরিতে আটকা পড়া ও পণ্য পচে যাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে সব প্রতিবন্ধকতার অবসান হলো। ঝালকাঠির সদর উপজেলার ২০টি গ্রামের প্রায় ৫০০ হেক্টর ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ২২টি গ্রামের প্রায় ৬৫৭ হেক্টর জমিতে পেয়ারার বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ টন পেয়ারা হয়। প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব বাগানে প্রতিবছরই প্রায় ১০/১২ কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদিত হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিমন পেয়ারা মাত্র একশ থেকে দেড়শ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে তাদের। চাষিরা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে পেয়ারা ঢাকা পাঠাতেন যাত্রীবাহী লঞ্চে। তরতাজা ফলের অনেক সময় পঁচে যেত। পদ্মা সেতু হওয়ায় দ্রুত পচনশীল এ পণ্যটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারছে। সড়ক পথে তাদের খরচও কম লাগছে। স্বরূপকাঠির আমড়া দেশব্যাপী বরিশালের আমড়া নামে পরিচিত। আমড়া চাষ এ অঞ্চলের মানুষের অনেক পুরনো পেশা। উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়ির সামনে কমপক্ষে একটি দুইটি আমড়া গাছ রয়েছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় আটঘর-কুড়িয়ানাতে বাণিজ্যিকভাবে আমড়া চাষ শুরু হয়। পরে উপজেলার জলাবাড়ী, বলদিয়া, দৈহারী ও সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে শুরু হয় আমড়া চাষ। বাংলা ভাদ্র আশ্বিন ও কার্তিক এই তিন মাস আমড়ার ভরা মৌসুম। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ ও ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে এই বরিশালের আমড়া বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। চাষিরা আমড়া পেড়ে নৌকায় ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে যান। আবার কোনো চাষী আগাম আমড়া ক্ষেত বিক্রি করেন ব্যবসায়ীদের কাছে। ব্যবসায়ীরা আমড়া কিনে ক্যারেট (প্লাস্টিকের বাক্স) ও বস্তায় ভরে নৌ ও স্থলপথে পাঠান দূরদূরান্তে। সেখান থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা আমড়া কিনে ছড়িয়ে দেন সারা দেশে। মৌসুমে প্রতিদিন ৪৫-৫০ টন আমড়া যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ব্যবসায়ী সুধীর রঞ্জন জানান, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আমড়া সংরক্ষণের অভাবে তাদের অনেক আমড়া নষ্ট হয়ে যায়। স্বরূপকাঠির আমড়া লাভ জনক হওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছেন এ ফল চাষে। কৃষক পর্যায়ে প্রতিমন আমড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। স্বরূপকাঠীর কুড়িয়ানার পেয়ারা চাষী সমীর জানান, আমাদের এখানে পেয়ারা সংরক্ষণর ব্যাবস্থা না থাকায় পেয়ারা পচে যায়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এ ক্ষতি হবেনা দ্রুত বাজারজাত করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ঝালকাঠির সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পেয়ারার পাশা পাশি প্রচুর আমড়া উৎপাদিত হয়। এদিকে ধান-চালের বিক্রি ও প্রক্রিয়াজাতকরনের জন্য দুশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বালাম চাল বানারীপাড়াসহ দক্ষিন অঞ্চলেরর অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। বরিশালের বালাম চালের সুনাম দেশের সর্বত্র এমনকি পাশ্ববর্তী দেশ গুলোতেও। বানারীপাড়ার মলংগার বালাম চাল ছাড়াও অন্যান্য চালের চাহিদা ও সুনামের জন্য ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকার শতশত ফরিয়া এখানে এসে চাল ক্রয় করে। এ উপজেলায় ৭০ ভাগ মানুষ এক সময় ধান-চালের (কুটিয়াল) ব্যবসার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত ছিল। বানারীপাড়ার দিদিহার গ্রামের কুটিয়াল ব্যবসায়ী মোঃ শাজাহান সরদার জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কুটিয়াল ব্যবসাটি আরাইছেলে (হারিয়েছে)। পদ্মা ব্রিজ চালু হওয়ায় এই ব্যবসা আবার বাড়বে। এহন বিভিন্ন জায়গায় ট্রলারে যাইয়া ধান আনতে অয়। আবার চাউল বানাইয়া বাজারে আনতে অয়। হের পর লঞ্চে বা ট্রলারে নেতে হয়। হের লইগ্গা চাউলের পরতা বাইররা যায়। এহন হেইডা কোমবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT