‘আমাকে যারা বিধবা বানিয়েছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে’ ‘আমাকে যারা বিধবা বানিয়েছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে’ - ajkerparibartan.com
‘আমাকে যারা বিধবা বানিয়েছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে’

3:27 pm , August 1, 2022

মোঃ আফজাল হোসেন, ভোলা ॥ ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত সেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমের লাশ পেতে ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহতের মা ও স্ত্রী,সন্তানসহ স্বজনরা অপেক্ষায় ছিলেন। সকালে মর্গের সামনে গেলে লাশ দেখতে না দেয়ায় চরম ক্ষোভ আর আহাজারী করতে দেখা গেছে নিহতের মা, বোন ও স্ত্রী এবং সন্তানদের। ৪ সন্তানের জনক আব্দুর রহিম এর মা বারবার গড়াগড়ি করছিলেন সন্তানের লাশ দেখতে না দেয়ায়। সাংবাদিকরা আসছেন বক্তব্য নিচ্ছেন। এমন এক পর্যায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। এসময় নিহত আব্দুর রহিম এর স্ত্রী,বোন ও বড় ছেলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যার নির্মমতা তুলে ধরে বিচাঁর দাবী করেন। নিহতের মা ফখরুন নেছা সন্তানকে হারিয়ে মর্গের সামনে মাটিতে গড়াগড়ি করছিলেন। এক পর্যায়ে তার মেয়ে কিছুটা সুস্থ্য করে হলে তিনি বলেন, আমার সন্তান কি অপরাধ করেছে। কেন তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করা হলো। আমি হত্যার বিচাঁর চাই। সন্তান হত্যার বিচাঁর চাই। পাশে থাকা আব্দুর রহিম এর স্ত্রী ৪ সন্তানেন জননী বিবি খাদিজা বলেন,আমান স্বামীর কি দোষ করেছে। তাকে কেন নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হলো। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব কি করবো। হত্যাকারীদেন বিচাঁর চাই। স্বামী হত্যার বিচাঁর চাই আমি। যারা আমাকে বিধবা বানিয়েছে আল্লাহ যেন ওদেন স্ত্রীদের বিধবা আর সন্তানদের এতিম করে। একই ভাবে হত্যার বিচাঁর চাইলেন, নিহতের ছেলে মোঃ ইয়াছিন ও মেয়ে জান্নাত। এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমের ময়না তদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে তার মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুর ২টায়   শহরের   গোরস্থান   মাদ্রাসার   মসজিদ   প্রাঙ্গণে   তাঁর   জানাজা   অনুষ্ঠিত   হয়। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা জানাযায় অংশ গ্রহন করেন। তবে পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত হতে পারেনি বলে বিএনপির সুত্রে জানাগেছে। পরে জানাজে শেষে তাকে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আবদুর রহিমের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের ভাই আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের সময় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন সদর হাসপাতালের মর্গে সামনে নিহতের স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে এ হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সাথে নিহত আব্দুর রহিমের স্বজনরাও হত্যার বিচার দাবি করেন। অপরদিকে পুলিশের দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা ছিলো তাদেরকেই আসামী করা হয়েছে। মামলায় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ ট্রুমেন আসামী হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম বাদী হয়ে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছেন। একটি পুলিশের উপর হামলা আর অপরটি হত্যা মামলা। পুলিশের উপর হামলার মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ২৫০ থেকে ৩০০জনকে আসামী করা হয়েছে। হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০জনকে আসামী করা হয়েছে।  দুই মামলায় ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৬জন, দৌলতখানে এক জন ও বোরহানউদ্দিনে ৩ জন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT