যানজটে নাকাল বরিশালবাসী পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ যানবাহন যানজটে নাকাল বরিশালবাসী পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ যানবাহন - ajkerparibartan.com
যানজটে নাকাল বরিশালবাসী পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ যানবাহন

3:25 pm , August 1, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছে নগরবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা না গেলে দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়তেই থাকবে। বরিশাল নগরীর সদর রোড, গীর্জামহল্লা, চকবাজার, আমতলার মোড় থেকে চান্দুর মার্কেট ও রূপাতলী চত্বর, বাংলা বাজার মোড়, ব্রাউন কম্পাউন্ড সড়ক থেকে বটতলা মোড়, চৌমাথা, নতুন বাজার ও নথুল্লাবাদ গোলচক্কর এলাকায় অহরহ যানজটে অস্থির বরিশালবাসী। আর এই যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ইজিবাইক ও অটোরিকশার মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী ধলু মিয়া বলেন, আমাদের এই সড়ক এতটাই ছোট যে ক্রেতাদের কোনো রিকশা বা গাড়ি পাশে দাঁড় করালেই যানজট লেগে যায়। এর উপরে গত দুই মাসে শহরে কয়েকগুণ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়েছে। নতুন বাজারের বাসিন্দা নাসিম তালুকদার বলেন, সকাল থেকে প্রতিদিন ঘন্টাখানেক আটকে থাকতে হয় নতুন বাজার থেকে নথুল্লাবাদ যেতে। এখনই এই অবস্থা হলে দুই বছর পর কি হবে? নাসিম তালুকদারের প্রশ্নেরজবাব দিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সেলিম মোহাম্মদ শেখ। তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে যানজটে অচল হয়ে যাবে বরিশাল। যদি এর আগেই অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রশস্তকরণ, ইজিবাইক ও অটোরিকশার অনুমোদন নিয়ন্ত্রণ করা না হয়। বাইপাস সড়কসহ এজন্য আমরা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে বেশকিছু প্রস্তাবনা দিয়েছি। আমাদের মাত্র ১০ জন সার্জেন্ট। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সামলাতে কম হলে ২৬ জন সার্জেন্ট থাকা জরুরী। তিনি আরো বলেন, সড়কের তুলনায় এখানে যানবাহন কয়েকগুণ বেশি। এ ছাড়া গাড়িগুলো রাস্তায় পার্কিং করা হয়। কোনো স্থান বা ভবনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় গাড়িগুলো অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে যানজট তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন পদ্মা সেতুর কারণে মহাসড়কে যানবাহন বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে  তাই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নগরীর যানজট নিরসনে পদক্ষেপ নিতে হবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে।  আর এই সড়কে বর্তমান কি পরিমাণ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলছে তার এখনো কোনো সঠিক হিসাব নেই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে। তবে সম্প্রতি তারা প্রায় পাঁচ হাজার ইজিবাইকের রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার জন্য স্টিকার নম্বর দিয়েছেন বলে জানালেন মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিমল দাস। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জুনের আগে সিটি করপোরেশন দুই হাজার ৬৯০টি যানবাহনের লাইসেন্স দিয়েছিল। কিন্তু ওই বছরই উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেসব যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখে সিটি কর্পোরেশন। পরবর্তীতে তাদের জন্য মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ গত মে মাসে লাইসেন্স নবায়নের উদ্যোগ নেন। পরিমল আরো বলেন, আমরা ৫ হাজার স্টিকার নম্বর দিলেও বর্তমানে নগরীতে ১২ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করছে। অথচ বিআরটিএ বরিশালের হিসেবে মহানগরীতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারে। অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে নগরীতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। নগরীর মোড়ে মোড়ে ও অলিগলিতে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। বিশেষ করে অটোরিকশা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এগুলো মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বরিশালবাসীর দাবি আগে শুধু সপ্তাহের শেষ দিনে যানবাহন ও মানুষের চাপ বৃদ্ধি পেত। এখন প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলেই যানজটে পড়তে হচ্ছে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশাল  অঞ্চলের সিনিয়র পরিকল্পনাবিদ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, যানজট সমস্যার মূলে রয়েছে প্রায় একযুগ আগে প্রস্তাবিত মাস্টারপ্লান কার্যকর না হওয়া। তিনি বলেন, সারাদেশেই নগরায়নের হার বিগত দিনের চেয়ে বেশি। কিন্তু এই নগরায়ন যদি অপরিকল্পিত হয়, তবে যানজট সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। ২০১০ সালে নগর উন্নয়নের মূল পরিকল্পনা (মাস্টারপ্লান) তৈরি করা হয়। সেখানে সাগরদী থেকে আমতলার মোড়, নতুন বাজার মোড় এবং সদর রোডের প্রশস্ততা বর্ধিতকরণসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনে ওই মাস্টারপ্লান কার্যকরের তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) এলাকায় রাস্তা বর্ধিতকরণ ও মেরামতের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ ফারুক আহমেদ জানান, নিজস্ব তহবিল দিয়ে সিটি মেয়র নগরীর বিভিন্ন রাস্তার কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবং প্রকল্পের অনুমোদন অনুযায়ী যে রাস্তাগুলো বর্ধিত করা প্রয়োজন পর্যায়ক্রমে সেগুলো বর্ধিত করা হচ্ছে। আর সিটি করপোরেশন এর জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এর পক্ষে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হওয়ার পর ট্রাফিক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারসহ নাগরিকদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে নতুন করে বেশকিছু প্রস্তাবনা এসেছে। সেগুলো নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে কাজ করছি। এই প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT