কার্ড চালু, অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নার্সদের কাঁধে ! কার্ড চালু, অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নার্সদের কাঁধে ! - ajkerparibartan.com
কার্ড চালু, অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা নার্সদের কাঁধে !

3:16 pm , July 28, 2022

শেবামেক হাসপাতালে ১০০ টাকা মূল্যের দর্শনার্থী

শিকদার মাহাবুব ॥ চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে অতিরিক্ত দর্শনার্থী ঠেকাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে দর্শনার্থীদের জন্য ১০০ টাকা মূল্যের কার্ড চালু করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ যাবত দর্শনার্থী কার্ড চালু করা হলেও দর্শনার্থী মোটেও কমছে না। প্রতিনিয়ত ভীর জমাচ্ছে রোগীর স্বজনেরা। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। অতিরিক্ত ভীড়ের মাঝে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন চিকিৎসক ও নার্স। অন্যদিকে রোগীদের সেবা করা, ডায়েট খাতা মেইনটেইন, রোস্টার ডিউটি, চিকিৎসকদের নির্দেশ অনুসরণ, রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ, বেডশিট ও বালিশ দেওয়া, ছাড়পত্রের হিসাব, নিয়মিত স্টোর থেকে ওষুধ আনা ও শরীরে ইনজেকশ পুশ করার পাশাপাশি দর্শনার্থী কার্ড প্রদানের অতিরিক্ত দায়িত্ব নার্সদের কাঁধে চেপেছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্সরা রোগী ও তাদের স্বজনদের চাপ সামলাতে পারছে না। তার ওপর ১০০ টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থী কার্ড প্রদান ও পরে টাকা ফেরত দেওয়া দুর্বিষহ করে তুলেছে এখানকার নার্সদের কর্মকা-ের পরিধি। এমনকি চিকিৎসা শেষে দর্শনার্থী কার্ডের ১০০ টাকা ফেরত দিতে গিয়ে ৫০০/১০০০ টাকার নোট খুচরা পাওয়া যায় না। এক পর্যায়ে টাকা খুচরা করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে তারা। ১০০ টাকা ফেরত দিতে দেরি হলে কিছু রোগী ও তাদের স্বজনদের হাঁক-ডাকে ওয়ার্ড কেঁপে ওঠে। অনেকে দর্শনার্থী কার্ড নিলেও ফেরত না দিয়ে চলে যায়। গড়মিল হিসেবে এক পর্যায়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে কষ্ট আঘাতে এখন জর্জরিত তারা । মনে হয় এটা যেন ‘মরার ওপর খরার ঘা’। মুখ খুলে কষ্টের কথা বলতেও পারছে না কেউ। দেখা গেছে, কোনোরকমে সমস্যা সৃষ্টি হলে স্বজনরা তাদের ওপর হামলা চালায় ও লাঞ্চিত করে। এখানকার কতিপয় আয়ারা তাদের কাজে সহায়তা না করে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া ও ছাড়পত্র দেওয়ার নামে ৫০/১০০ টাকা হাতিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকে। কিছু সংখ্যক চিকিৎসকরা রোগীদের কাছে আসলেও প্রেসক্রিপশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে কাজ করতে পছন্দ করে। এখানকার উচ্চ শ্রেণির কর্মকর্তা ও নি¤œ শ্রেণির কর্মচারীরা তাদের কাজে সহাসহায়তা করছে না।
উল্টো তাদেরকে রোষানলে পড়তে হয়। এই হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিল্পী রাণী দাস বলেন, দর্শনার্থী কার্ডের টাকা নিতে নিতে ১০০০ হাজার টাকার নোট জমা যায়। দেখছিলাম তা খুচরা করা ও ফেরত দিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন তারা। একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের মন্দ কথা শুনতে হয়েছে তাদের। অন্যদিকে আমি পেটব্যথা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছিলাম হাতে ক্যানুলা করার জন্য। কী আর করার। তাদের কষ্ট দেখে আমার নিজের পেটব্যথা হাত দিয়ে চেপে ধরে চুপ করেছিলাম। মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগী হাফসা আক্তার পুষ্প বলেন, তারা দর্শনার্থী কার্ডের আদান-প্রদানের কাজ ফেলে দিয়ে আমাদের পাশে থেকে সেবা করলে ভালো হয়। যদিও সুন্দর চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দর্শনার্থী কার্ডের আদান-প্রদানের কাজটাও ভালো। কিন্তু সেক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণির বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কাজে লাগানো যেতে পারে। রোগীর স্বজন ও বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সুন্দরী হাওলাদার বলেন, ওয়ার্ডে দরজার বাহিরে থেকে এই কার্ড বিতরণ করলে ঝামেলা দূর হতে পারে। অনেক ওয়ার্ডের সামনে দেখলাম দর্শনার্থী ঠেকাতে আনসার সদস্যরা কাজ করছে। তাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হোক। এক্ষেত্রে দর্শনার্থী হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা কাজেও তারা সহায়ক হবে। শুধু শুধু নার্সদের কাঁধে দায়িত্বের নামে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। এতে করে তাদের কাঁধ নুয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানকার কর্মরত শতশত নার্সের দাবী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কষ্ট হলেও সেবা বঞ্চিত হচ্ছে না রোগীরা। রোগী ও স্বজনরা খারাপ আচরণ করলেও ২৪ ঘন্টা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে তারা।
নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগম বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।
অন্যদিকে সহকারী পরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, দর্শনার্থী কার্ড চালু করার পর সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হবে

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT