হত্যার অভিযোগে পরকিয়া প্রেমিকা ও শ্বশুর গ্রেপ্তার হত্যার অভিযোগে পরকিয়া প্রেমিকা ও শ্বশুর গ্রেপ্তার - ajkerparibartan.com
হত্যার অভিযোগে পরকিয়া প্রেমিকা ও শ্বশুর গ্রেপ্তার

3:49 pm , July 26, 2022

হিজলায় ৬ মাস ধরে পল্লী চিকিৎসক নিখোঁজের রহস্য উদ্ধার

সেলিম রাঢ়ী, হিজলা ॥ হিজলা উপজেলায় গত ৬ মাস পূর্বে পল্লী চিকিৎসক নিখোঁজের রহস্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরকিয়া প্রেমের জের ধরে শ্বশুর ও পুত্রবধু পল্লী চিকিৎসককে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে বলে হিজলা থানার ওসি জানিয়েছেন। সোমবার দিনগত রাতে হত্যার কথা স্বীকার করায় শ্বশুর ও পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যার শিকার পল্লী চিকিৎসক হলো- মিলন দপ্তরী (৩০)। সে উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের ছয়গাও গ্রামের আবদুল খালেক দপ্তরীর ছেলে। হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেয়া আসামীরা হলো- উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের পূর্ব খাগেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রব ঘরামীর ছেলে আব্দুর রশিদ ঘরামী (৬৪) ও তার প্রবাসী ছেলে মনির হোসেনের ছেলে রাহেলা বেগম (২৭)।হিজলা থানার ওসি মো. ইউনুস মিঞা জানান, শ্বশুর রশিদ ঘরামী ও পুত্রবধু রাহেলা হত্যার কথা স্বীকার করে তাদের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কথা স্বীকার করায় তাদের নিয়ে রওনা দিয়েছেন বলে ওসি জানিয়েছেন।
আসামীদের স্বীকারেক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি জানান, পল্লী চিকিৎসক মিলনের সাথে রাহেলার পরকিয়া প্রেম হয়। বিষয়টি শ্বশুর রশিদ জেনে ফেলে। পরে রাহেলার মাধ্যমে গত ৩০ জানুয়ারী রাত ১০ টার দিকে ফোন দিয়ে মিলনকে ঘরে আনে। এরপূর্ব থেকে আলমারীর পিছনে লুকিয়ে থাকা রশিদ এসে মিলনের চোখে মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করে। এ সময় মনির বিষয়টি ভালো করেননি বলে হুমকি দেয়। তখন রশিদ মুগুর (গাব গাছের লাঠি) দিয়ে সজোরে মিলনের বুকে আঘাত করে। এতে মিলন ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শ্বশুর ও পুত্রবধু যখন বুঝতে পারে মিলনের মৃত্যু হয়েছে। তখন তারা লাশ গুমের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মিলনের পা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে বাড়ি সামনে খালে ফেলে দেয়। সেখান টেনে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় মিলনের ভাই সবুজ দপ্তরী গত ১ ফেব্রুয়ারী হিজলা থানায় নিখোঁজের জিডি করেছিলো। জিডির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মিলনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে পেরে শ্বশুর-শাশুড়ি ও পুত্রবধূকে সোমবার দিনগত রাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার হত্যার কথা স্বীকার করেন। তবে লাশের কোন সন্ধান পাননি জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে।
মিলনের ভাই সবুজ দপ্তরী জানান, পূর্ব খাগেরচর বাজারে মিলনের ফার্মেসী রয়েছে। সেখানে চিকিৎসা করতে গিয়ে রাহেলার সাথে মিলনের পরিচয় হয়। দুই সন্তানের জনক মিলনের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে প্রবাসীর স্ত্রী রাহেলা।
পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে সবুজ বলেন, তাদের বিষয়টি জানার পর শ্বশুর রশিদ পুত্রবধু রাহেলার ফোন কেড়ে নেয়। পরে শ্বশুর নিজ নামে সীম কিনে রাহেলাকে দেয়। সেই ফোন দিয়ে রাহেলা ৩০ জানুয়ারী দুপুরে ফোন করে রাতে তার ঘরে আসতে বলে। রাত ১০ টার দিকে আবারো ফোন দিয়ে ঘরে নিয়ে হত্যা করে লাশ মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহাগ জানান, মিলনের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট অনুযায়ী দেখা যায় তার সাথে সর্বশেষ কথা বলা মোবাইল নম্বর আব্দুল রশিদ ঘরামীর নামে রেজিস্টেশন রয়েছে। সেই নম্বর পুত্রবধু রাহেলা ব্যবহার করছে। সে অনুযায়ী দীর্ঘ দিন ধরে রশিদ ঘরামী ও রাহেলা বেগমকে নজরদারীতে রাখা হয়। তদন্তের পর নিশ্চিত হয়ে ২৫ জুলাই রশিদ ও রাহেলাকে থানায় আসতে বলা হয়। থানায় এসে তারা অকপটে হত্যার স্বীকারোক্তি বর্ননা করেছে।
রশিদ ঘরামীর উদ্ধৃতি দিয়ে এসআই বলেন বলেন, তার ছেলে বিদেশ থাকে। মিলন প্রায় রাতে মনিরের বউয়ের ঘরে আসতো। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে মিলনকে পিটিয়ে মেরে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে রশিদ জানিয়েছেন বলেন এসআই সোহাগ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT