জানুয়ারীর মধ্যে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে পায়রা ও রামপালের প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত জানুয়ারীর মধ্যে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে পায়রা ও রামপালের প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত - ajkerparibartan.com
জানুয়ারীর মধ্যে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে পায়রা ও রামপালের প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত

3:47 pm , July 21, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ উৎপাদন শুরুর প্রায় দেড় বছর পরেও পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির অভাবে দক্ষিণাঞ্চল সহ পশ্চিম জোন প্রায় লোডশেডিং মূক্ত থাকলেও দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পুরনে সরকারী এ বৃহত উৎপাদন কেন্দ্রটিকে এখনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উপরন্তু ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার মেগাওয়াটের কমবেশী সীমিত রাখতে হচ্ছে। বুধবার সান্ধ্য পীক আওয়ারে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সর্বোচ্চ উৎপাদন ১ হাজার ৭০ মেগাওয়াটে সীমিত ছিল।
চীনা কারিগরি সহায়তায় পটুয়াখালীর দক্ষিনে পায়রা নদী তীরে ৬৬০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মান কাজ শেষে উৎপাদন শুরুর পরে সম্প্রতিপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে তা উদ্বোধনও করেছেন। কিন্তু তা এখনো জাতীয় গ্রীডে পুরোপুরি সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মানের অভাবে। সরকারী মালিকানায় কয়লা ভিত্তিক একক সর্ববৃহত এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রেটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৪শ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে পায়রা থেকে ১৬৩ কিলোমিটার উত্তরে গোপালগঞ্জে বরিশালÑফরিদপুরÑঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পাশে নির্মিত সাব-স্টেশনে পৌছলেও সেখান থেকে তা এখনো সরাসরি জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি সঞ্চালন লাইন নির্মানের অভাবে।
তবে গোপালগঞ্জের ঐ গ্রীড সাব-স্টেশন থেকে ভেড়ামাড়াÑবরিশাল ১৩২ কেভী ডবল সার্কিট লাইনের মাধ্যমে বরিশালে এবং আরেকটি ২২৫ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে পটুয়াখালী গ্রীড সাব-স্টেশনে পৌছার পরে সেখান থেকে ১৩২ কেভী সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে আবার বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের গ্রীড সাব-স্টেশন গুলোতে পৌছছে। গোপালগঞ্জ থেকে আরেকটি ৪শ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ৭৬ কিলোমিটার দুরে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ মোংলা গ্রীড সাব-স্টেশনকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।
তবে এখনো পায়রায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঢাকা সহ মূল জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী-পিজিসিবি’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার আমীন বাজার পর্যন্ত ল্যান্ডবেজ টাওয়ার নির্মান সহ সঞ্চালন লাইন নির্মান কাজ শেষ হলেও পদ্মা নদীর ওপর ৭টি ক্যাশন টাইপ রিভার ক্রসিং টাওয়ারের মধ্যে ৪টির নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, আগামী ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারীর মধ্যে পদ্মার রিভার ক্রসিং সহ সমুদয় ট্রান্সমিশন লাইন নির্মান কাজ সম্পন্ন হবে। ফলে জানুয়ারীর মধ্যেই ঢাকার আমীন বাজার গ্রীড সাব-স্টেশনের মাধ্যমে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির আশা করছেন পিজিসিবি কর্তৃপক্ষ। ফলে জাতীয় গ্রীডে পায়রার কয়লা ভিত্তিক ১৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে পিডিবি’র উর্ধতন কতৃপক্ষও আশা করছেন। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদিত আরো প্রায় ১৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং করা হলেও পিরোজপুরবাদে দক্ষিণাঞ্চলের ৫টি জেলা তার আওতামূক্ত থাকছে পায়রার বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্তির অভাবে। তবে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট ডিসেম্বরের পরে অব্যাহত থাকলে দক্ষিণাঞ্চল সহ পুরো পশ্চিম জোনের ২১ জেলাই সারা দেশের মত লোড শেডিং-এর আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওজোপাডিকো’র দায়িত্বশীল মহল। কিন্তু পায়রা ও রামপালের প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হবার পাশাপাশি ডিসেম্বরের আগে শীত মৌসুম শুরু হলে দেশে লোড শেডিং-এর বিড়ম্বনা নাও থাকতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পিডিবি’র দায়িত্বশীল মহল।
বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাইরে ভোলাতে গ্যাস ভিত্তিক ২২৫ মেগাওয়াটর পাওয়ার স্টেশনের প্রায় ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যাচ্ছে। এছাড়া বরিশাল ও পটুয়াখালীতে বেসরকারী সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপের ফার্নেস অয়েল নির্ভর উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বেশীরভাগ সময়ই বন্ধ থাকছে। এছাড়া বরিশালে পিডিবি’র নিজস্ব ডিজেল নির্ভর ২০ মেগাওয়াটের দুটি গ্যাস টার্বাইন পাওয়ার স্টেশন আরো ৩ বছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
বুধবার সান্ধ্যপীক আওয়ারে দক্ষিণাঞ্চলের ৫ জেলা বাদে পশ্চিম জোনের ১৬টি জেলায় চাহিদার মাত্র ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল বলে জানা গেছে। পশ্চিম জোনে সান্ধ্য পীক আওয়ারে বর্তমানে সর্বমোট চাহিদা প্রায় সাড়ে ১২শ মেগাওয়াট।
তবে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো জেলার মত পশ্চিম জোনের ২১ জেলার বেশীরভাগেই এখনো যথাযথ রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে লোডশেডিং-এর বাইরেও বিদ্যুৎ নিয়ে বিড়ম্বনা সহ্য করতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকদের। এ অঞ্চলে ১১ কেভি থেকে শুরু করে এলটি লাইন সহ ১১/.০৪ ট্রান্সফর্মার ছাড়াও অন্যান্য স্পর্শকাতর বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোর পরিবর্তন এবং পূণর্বাসনও জরুরী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT