ঝালকাঠিতে বাঁশের মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই-বুচনা’ তৈরী করে স্বাবলম্বী পরিবার ঝালকাঠিতে বাঁশের মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই-বুচনা’ তৈরী করে স্বাবলম্বী পরিবার - ajkerparibartan.com
ঝালকাঠিতে বাঁশের মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই-বুচনা’ তৈরী করে স্বাবলম্বী পরিবার

3:10 pm , July 20, 2022

রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি ॥ দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠিতে খুবই জনপ্রিয় বাঁশের মাছ ধরার দেশীয় ফাঁদ ‘চাই বা বুচনা। বর্ষার পানিতে এখন খাল-বিল, নদী-নালায় আসতে শুরু করেছে নতুন পানি। বর্ষায়ী নদী, নালা, খাল, বিলে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের উপস্থিতি বাড়ছে। ছোট আকারের দেশীয় মাছ ধরতে ঝালকাঠির পল্লীতে মাছ ধরার ফাঁদ চাই-বুচনার চাহিদা বেড়েছে। নিপুণ হাতে তৈরি এসব ফাঁদ জ্যৈষ্ঠ আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এই ৪ মাস বেচা বিক্রি হবে ঝালকাঠি জেলার ২০/২৫টি হাটে। নানা আকার ও আঙ্গিকে তৈরি এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। কোনো টিকে বলা হয় চাই, কোনোটি বুচনা, খোলনা, কোনোটিকে গড়া কিংবা চরগড়া, জিব্রা চাই, আবার কোনোটির নাম খুচোইন। চাই বুচনা দিয়ে চিংড়ী শিং বাইন মাছ সহ আরও বিভিন্ন প্রকারের মাছ ধরা সম্ভব হয়। চাই বিক্রেতারা বলেন, জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকেই সপ্তাহে অন্তত দুদিন এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে শহরের টাউনহল সংলগ্ন সবচেয়ে বড় হাটে। একইসাথে নলছিটি, ষাটপাকিয়া, নাচনমহলসহ জেলার ত্রিশটি হাটে উঠতে শুরু করেছে চাই-বুচনা। একেকটি বুচনা বিক্রি হয় ৪০০ হইতে ৫০০ টাকায়। একটি চাই বা বুচনা তৈরী করতে খরচ হয় ১৫০ টাকা। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যরা তৈরী করেন চাই ও বুচনা। ঝালকাঠির রমজানকাঠি,সাওরাকাঠি, বালিঘোনা, বের মহল বিনয়কাঠি, গ্রামসহ আশে পাশের অনেক গ্রামেই কারিগররা চাই-বুচনা তৈরীর কাজ করে থাকেন। বছরের ৫ মাস তারা এ কাজ করে জীবীকা চালান। প্রতিবছর বর্ষা থেকে শীত পর্যন্ত এসব ফাঁদ বিক্রি হয় জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। এদিকে চাই-বুচনার কারিগরদের অভিযোগ তারা কোনরকমই কোন সরকারী সহায়তা ও ঋণ সুবিধা পান না। এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।।কোন দপ্তরে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, জেলার সহস্রাধিক মানুষ এ মৌসুমী পেশায় জড়িত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ঝালকাঠি বিসিক এর উপব্যবস্থাপক মো: শাফাউল করিম বলেন, “এ শিল্পটিকে নিবন্ধিত করা হবে, এছাড়া চাই-বুচনা তৈরীর কারিগরদের প্রয়োজনীয় ঋন সহায়তা বা প্রনোদনা দেয়া হবে।”
ঝালকাঠির রমজানকাঠি কারিগরি ও কৃষি কলেজের বিভাগীয় প্রধান ড. চিত্ত রঞ্জন সরকার বলেন, “এটি একটি দেশীয় জনপ্রিয় কুটি শিল্প। দিন দিন এ শিল্প লিুপ্তির পথে। যথাযথ তত্ত্বাবধান ও সরকারী সহায়তা না থাকায় পেশাটি বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মানুষের বড় উপকার করে থাকে এ সকল শিল্পে জড়িত কারিগরেরা।বাহারী বাঁশের পণ্য তৈরি করে মানুষের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।”

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT