চরফ্যাসনে যুবতীর গণধর্ষণ মামলা নিয়ে তোলপাড় চরফ্যাসনে যুবতীর গণধর্ষণ মামলা নিয়ে তোলপাড় - ajkerparibartan.com
চরফ্যাসনে যুবতীর গণধর্ষণ মামলা নিয়ে তোলপাড়

3:38 pm , July 17, 2022

চরফ্যাসন প্রতিবেদক ॥ চরফ্যাসনের মাঝের চর গ্রামে ‘যুবতীর গণধর্ষণ’ মামলা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সামাজিক ব্যভিচারে লিপ্ত একজন পথভ্রষ্ট যুবতীকে ব্যবহার করে গ্রামের প্রতিবাদী কিছু যুবককে জড়িয়ে গণধর্ষণের মিথ্যা মামলার নেপথ্যে রয়েছে ওই স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগমসহ তার নিয়মিত কয়েকজন খদ্দের। ঘটনার শুরু থেকে সপ্তাহকাল পর কথিত ভিক্টিমকে সামনে রেখে জেলা পুলিশ সুপারকে বিভ্রান্ত করে নেপথ্যে থেকে মূল অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করে নীরিহ লোকজনকে মামলায় জড়িয়ে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেছেন দক্ষিণ আইচা থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ জুুলাই রাতে। উত্তর মাদ্রাজ গ্রামের মো. ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান ওরফে বাবুলসহ বাবুরহাট বাজার সংলগ্ন একটি বাড়ির বাগানে গ্রামবাসীর হাতে আটক হন ওই যুবতী। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে রাজিয়া বেগমের মধ্যস্থতায় গভীর রাতে পাশ্ববর্তী মাঝের চর গ্রামের মৃধা বাড়ির বাগানে খায়রুল মৃধা এবং দুলাল খানের সাথে দৈহিক সম্পর্কে মিলিত হয় যুবতী। সেখানে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়লে নিজে ধর্ষিত হয়েছেন দাবী করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সজিবের পরামর্শে মামলা করার উদ্দেশ্যে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে দক্ষিণ আইচা থানায় যান। কিন্ত থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক অমিত হাসান মামলা না নিয়ে পরদিন সকালে আসার পরামর্শ দিয়ে ভিক্টিমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরে এসে ভিক্টিম এবং তার বাবা ও স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগমের বাড়িতে আসেন। সেখানে স্কুল শিক্ষিকার স্বামী জামাল, খদ্দের খায়রুল মৃধা এবং দুুুুুুুুুলাল খান রাতভর যুবতীর সাথে ফূর্তি করেন। পরদিন ভোরে এই তিন খদ্দের ভিক্টিমকে ঘোষেরহাট ঘাট থেকে ট্রলারে তুলে দেন এবং ভিক্টিম পটুয়াখালীর চর কাজলে বসবাসরত ভাই ইমাম হোসেনের বাড়িতে চলে যান এবং সপ্তাহকাল সেখানে আত্মগোপনে থাকেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে।
ছেলের বাড়িতে মেয়ের আত্মগোপনে থাকার সময় নিখোঁজের খবর জানিয়ে বাবা গত ৮ জুলাই দক্ষিণ আইচা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। এই ডায়েরী করার পরদিন ৯ জুলাই স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগমের বাড়িতে ফিরে আসেন যুবতি। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম, তার স্বামী জামাল এবং খদ্দের খায়রুল মৃধা ও দুলাল খান যুবতীকে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে প্রতিবাদি ৪ যুবক কর্তৃক গণধর্ষণের অভিযোগ করেন এবং থানা পুলিশ তার মামলা নিচ্ছেন না বলেও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। ক্ষুদ্ধ পুলিশ সুপার যুবতীর অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহন করার জন্য দক্ষিণ আইচা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন । পুলিশ সুপারের ওই নির্দেশনা পেয়ে ভিক্টিমের দেয়া অভিযোগ অনুযায়ী, মাঝের চর গ্রামের মো. নাজিম(২২), মো. মামুন(২৩), মো.কালু(২৬), মো. মিজান(২০) এবং উত্তর মাদ্রাজ গ্রামের মো. রায়হান ওরফে বাবুলকে মামলার আসামী করা হয়েছে। এঘটনায় পরদিন পুলিশ মামলার এজাহারভূক্ত আসামী মোঃ কালুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন।
এজাহারে দাবী করা হয়, ৩ জুলাই রাত ৩টার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে রেব হলে আসামীরা তার মুখ চেপেধরে একটি অটোরিক্সায় তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে আটক রেখে গণধর্ষণ করেছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিক মামলাটি নেয়া হয়েছে। মামলা নেয়ার সময় যুবতির বক্তব্যের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। মামলা নেয়ার পর বুঝতে পারছি, কিছু সত্য কিছু মিথ্যা মিলিয়ে মামলাটি দেয়া হয়েছে। যেখানে অপরাধীরা মামলার বাহিরে আছে, আর নিরপরাধীরা মামলায় জড়িয়ে পড়েছে। ওসি জানান, স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম এবং তার স্বামী জামাল মিয়া এখানে মূল কলকাঠি নেড়েছেন। তাদের বাসাকে ঘিরেই নানান অপত্তিকর সব কথাবর্তা শোনা যাচ্ছে। সব বিষয়গুলো আমলে নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার দিন ৩ তারিখ থেকে মামলার আগ পর্যন্ত ১০ তারিখ এই সময়টা ভিক্টিম কোথায় ছিলেন,কার কাছে ছিলেন প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে সে বষয় নিশ্চিত করা হবে। ঘটনার সামনে-পেছনে. প্রকাশ্যে- অপ্রকাশ্যে যারাই থাকুক অপরাধী বা অপরাধকে আড়াল করার প্রক্রিয়ায় থাকা কেউ পার পাবেন না।
স্কুল শিক্ষিকা রাজিয়া বেগম জানান, মামলা সম্পর্কে তার জানা নাই। তবে ওই যুবতীর পরিবারের সাথে তার সখ্যতা থাকার কারনে মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে আসাযাওয়া করতেন। এবং অনেক বার রাত্রী যাপন ও করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT