ভা-ারিয়ায় যে কারণে হত্যা করা হয় আলতাফকে ভা-ারিয়ায় যে কারণে হত্যা করা হয় আলতাফকে - ajkerparibartan.com
ভা-ারিয়ায় যে কারণে হত্যা করা হয় আলতাফকে

2:51 pm , July 15, 2022

তরিকুল ইসলাম, ভা-ারিয়া ॥ ভা-ারিয়ায় আলতাফ হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন করেছে পুলিশ। মাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে সৎ মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করে আলতাফ। এররই প্রতিশোধ নিতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুর্বল করার পর বালিশ চাপা দিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে হত্যা নিশ্চিত হওয়া জন্য গলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে আলতাফকে খুন করে স্ত্রীর আগের স্বামী সহ ৪ জন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পাঁচ আসামীকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে জানাযায়, নিহত আলতাফ চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া ও চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি ও মাদক সহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রায় একযুগ আগে বন্ধু মোশারফ গাঁজার মামলায় জেলহাজতে যান। সেই সুযোগে মোশারফের স্ত্রী রাশেদার সাথে পরকিয়ার সম্পর্ক শুরু হয়।
মোশারেফ জেলখানা থেকে বের হবার আগেই রাশিদাকে বিয়ে করে আলতাফ (৪০)। শুরু করেন সংসার। রাশিদার আগের স্বামীর ঘরে ছিল এক ছেলে (২) ও এক মেয়ে (৫)। বিয়ের পর আলতাফ রাশিদাকে নিয়ে চট্রগ্রামে গিয়ে ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। রাশিদার ছেলে ও মেয়ে নানা বাড়িতে থেকে বড় হতে থাকে। চট্রগ্রামে গিয়ে রাশিদা একটি গার্মেন্টসে চাকুরি শুরু করলেও আলতাফ বাসায় থেকেই নানা অপকর্ম চালিয়ে যান। এভাবে চলে যায় দীর্ঘ দিন। এদিকে রাশিদার মেয়ে কিশোরী বয়সে পা রাখে।
২০২০ সালের শুরুর দিকে রাশিদার মেয়ে অষ্টম শ্রেনি পরীক্ষা দিয়ে চট্রগ্রামে বেড়াতে আসে মায়ের কাছে। মা রাশিদা চাকুরির সুবাদে গার্মেন্টে থাকার সুযোগে মাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করে আলতাফ। এক পর্যায়ে কিশোরীর গর্ভে সন্তান আসায় সেটি নষ্ট করে আলতাফ। এ সময় মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনা জেনে যান রাশিদা।
ঘটনা জানার পরে মেয়েকে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন রাশিদা। এর কয়েক দিন পরেই আলতাফ চট্রগ্রাম থেকে চলে আসেন সৎ মেয়ের মামাবাড়ি। সেখানে এসে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারো অনৈতিক সম্পর্কে স্থাপনের চেষ্টা করেন। মেয়ে কোন উপায় না পেয়ে বাবা মোশারেফ চৌকিদার ও মামা সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। এর পরে মোশারেফ ও সিরাজুল আরো দুই সহযোগী জাহিদুল ইসলাম লোকমান (৪০) ও সোহেল হাওলাদারকে (৩৫) নিয়ে আলতাফকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
যে ভাবে হত্যা করা হয় আলতাফ কে
লোকমান ও সোহেল হাওলাদারের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জানায়, ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে মামা সিরাজুল ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী মেয়ে আলতাফের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে পাশের বাড়ি ঘুমাতে চলে যায়। ঘুমের ওষুধ খেয়ে এক পর্যায়ে আলতাফ ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে মোশারেফ, লোকমান ও সোহেল ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশের পরে ঘরে থাকা সিরাজুল দড়ি দিয়ে পা বোধে ফেলে আলতাফের, লোকমান বুকের উপর উঠে চেপে ধরে এসময় মোশারেফ বালিশ দিয়ে শ^াসরোধ করে হত্যা করে। হত্যা নিশ্চিত হওয়া জন্য সোহেলের কাছে থাকা ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে ফেলে। রক্ত দেখে সোহেল ভয় পেলে লোকমান ছুড়ি নিয়ে যায় লোকমানের কাছ থেকে। ছুড়ি কেড়ে নিয়ে মোশারেফ গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
যে ভাবে গুম করা হয় আলতাফের মৃতদেহঃ
মৃত্যু নিশ্চিতের পর মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশে বিছানায় পেচিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে চার জন মিলে বাড়ির সামনে খালে ফেলে। সেখান থেকে বড় খালে নেয়ার জন্য মোশারেফ পানিতে নেমে টেনে টেনে কাওসার ফরাজির ঘাটে নিয়ে যায়। ঘাটে রাখার পরে স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ায় ও মেয়ের সথে অনৈতিক কাজ করার ক্ষোভে মৃত দেহের মাথার চুল ধরে সাথে থাকা বাংলা-দা দিয়ে মাথা কেটে ফেলে মৃতদেহ সেখানে রেখে মাথা ব্যাগে করে লেহাজিয়া মাদরাসার কাছে ধোপার খালে কাদার ভিতরে পুতে রাখে।
ঘটনার পরের দিন ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার পৈকখালী নাপিতের খাল থেকে মস্তকবিহীন অবস্থায় আলতাফের মৃতদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চৌকিদার বেল্লাল হোসেন হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৯/২০২০। এ ঘটনার ২ মাস পরে তার মস্তক উদ্ধার হয়।
যে ভাবে আলতাফ হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার করা হয়ঃ
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার পরে মেয়েটি ও তার মামা সিরাজুলকে আটক করার পরে প্রধান আসামী মোশারেফ ও দুই সহযোগী লোকমান এবং সোহেল পলাতক থাকায় আমরা ধারনা করি এরা জড়িত থাকতে পারে। এরা কোন ডিভাইস ব্যবহার না করায় প্রাথমিক অবস্থায় তাদের অবস্থান জানতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের মাস তিনেক আগে একে অপরের সাথে মোবাইলে একটু একটু যোগাযোগ শুরু হয়। এই সুযোগে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সহযোগীতায় বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে প্রথমে ৮ জুলাই মামলার অন্যতম আসামী সোহেল হাওলাদারকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কর্নকাঠি থেকে আটক করে। সোহেলের দেয়া তথ্য মতে প্রধান আসামী মোশারেফ ও অপর আসামী লোকমান চট্রগ্রামে থাকার তথ্য পায়। ৯ জুলাই লোকমান কে চট্টগ্রাম বন্দর থানা থেকে গ্রেপ্তার করলেও এসময় প্রধান আসামী মোশারেফ পালিয়ে ভোলায় চলে যায়। পালিয়ে গেলেও মোশারফ পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে ছিল। ১৩ জুলাই রাতে মোশারফ ভারতে পালানোর উদ্দেশে ভোলা থেকে বরিশালে আসে। ১৪ জুলাই সকালে কোতয়ালি থানা পুলিশের সহায়তায় রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মোশারেফ চৌকিদারকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে লোকমান ও সোহেল হাওলাদার গ্রেফতারের পর হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT