পর্যটকে পূর্ণ কুয়াকাটা ॥ পদ্মার পাড়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা পর্যটকে পূর্ণ কুয়াকাটা ॥ পদ্মার পাড়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা - ajkerparibartan.com
পর্যটকে পূর্ণ কুয়াকাটা ॥ পদ্মার পাড়ে খুলছে নতুন সম্ভাবনা

3:20 pm , July 13, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন কানায় কানায় পূর্ন। এদিকে পদ্মার পাড়েও খুলেছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার। বাংলাবাজার, জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে ছিলো দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ফেরীঘাটে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ার কারণে হতাশ হোটেল রেস্টুরেন্ট ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা নতুন আশা খুঁজে পেয়েছেন এই ভিড়ে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত রবিবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিল ধারনের স্থান ছিলো না এই দুটি পর্যটন স্পষ্টে। তবে পদ্মার পাড়ে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ দর্শনার্থীদের। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে টুরিস্ট পুলিশের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন স্থানীয় প্রশাসনও।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে থেকেই বন্ধ ছিলো শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি ঘাট থেকে ফেরি চলাচল। ফলে জাজিরা-মাঝিকান্দি ফেরিঘাটে তৈরি হয়েছিল সুনসান নীরবতা। কিন্তু গত ৯ জুলাই শনিবার বিকাল থেকে এই ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে মানুষের ভিড়। তবে এরা কেউ ফেরী পার হতে আসেনি। এসেছেন পদ্মা মুক্ত বাতাসে কিছুটা প্রশান্তি নিতে। ঈদের দুটোদিন তাই এখানের ব্যবসায়ীরা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিলেন।
আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত তিনদিন ধরে এই এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। সবাই নদী ও পদ্মা সেতু দেখতে এসেছেন। নদীর ওপার থেকেও লঞ্চে পার হয়ে অনেক দর্শক এপাড়ে এসেছেন। পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাত্রীরা এদিকে আর আসা-যাওয়া করছে না। তাই আমাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চিন্তাভাবনা ছিলো। কিন্তু গত তিনদিন মানুষের ভিড় দেখে নতুন আশা খুঁজে পেয়েছেন বলে জানালেন আনোয়ার।আরেক ব্যসায়ী হালিম মিয়া বলেন, এখানে প্রায় ১০০ দোকান রয়েছে। সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই। পদ্মা সেতু হওয়াতে ফেরি বন্ধ হয়ে গেছে। এই এলাকায় আর যানবাহন আসবে না। তাই আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। তবে সরকার যদি এই এলাকায় পর্যটন নগরী গড়ে তোলেন তাহলে হয়তো আমাদের আবার ফিরে আসার পথ তৈরি হবে।মাগুরা পৌর এলাকার বাসিন্দা দর্শনার্থীদের একজন হাবিবুর রহমান স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মাঝিরঘাট এলাকায়। তিনি বলেন, চমৎকার একটি ভ্রমণ স্থান এখন এই জাজিরা-মাঝিকান্দি ফেরীঘাট এলাকা। মাগুরা থেকে বাসে আমি বাংলাবাজার ঘাট পর্যন্ত এসেছি। লোকাল বাসস্ট্যান্ড এখনো ওখানেই। সেখান থেকে ৬০ টাকা ইজিবাইক ভাড়া দিয়ে এখানে এসেছি। এখান থেকে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর সাথে সেলফি নিলাম। ওদিকে টোলপ্লাজা সীমানায় ভিড় বেশি। তাই এখান থেকে দেখছি। খুব ভালো লাগছে। তবে এই এলাকাটা খুব অপরিচ্ছন্ন। ময়লা, মানুষের যত্রতত্র মল-মুত্র এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে শুনেছি। তাই আগেই ফিরে যাবেন বলে জানালেন এই দর্শনার্থী।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল জানালেন, পদ্মা সেতু থেকে ১৬ কিলোমিটার এলাকা পর্যটন স্পষ্ট হিসেবে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকা ধরে পায়ে চলা পথ ও বৃক্ষরোপণের চিন্তা আমাদের ছিলো, তবে ভাঙন কবলিত এলাকা হওয়ার কারণে এখুনি সেটা সম্ভব হচ্ছেনা। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা পদ্মা সেতুকে ঘিরে আগে থেকেই রয়েছে। তারপরও টুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প স্থাপনের চিন্তা ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মাদারীপুরের শিবচরবাসীর দাবী বাংলাবাজার ফেরীঘাট থেকে মাঝিরকান্দি হয়ে জাজিরায় পদ্মা সেতু পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকায় পায়ে চলা পথ ও বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পর্যটন সীমানা বৃদ্ধি। শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, নদী তীরবর্তী এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে অনায়াসে এই এলাকায় পর্যটন সীমানা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এরফলে ফেরি চলাচল বন্ধ হবার কারণে যেসব ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাদের একটা আয়ের উৎস তৈরি হবে। তাছাড়া এতে করে ভাঙনের কবল থেকেও রক্ষা পাবে বাংলাবাজার ও মাঝিরকান্দি এলাকা।
এদিকে পদ্মা সেতুর কারণে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কানায় কানায় পরিপূর্ণ এখন পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। সাগরকন্যার কোল জুড়ে এখন তার সন্তানদের বিনোদন আয়োজন। হোটেল মোটেল কোনটাতেই তিল ধারনের ঠাঁই নেই বলে জানালেন কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বিগত দুই বছরের মধ্যে এতোটা চাপ আগে কখনো চোখে পড়েনি। তবে চাপ যতই হোক টুরিস্ট পুলিশ এখানে সচেতন অবস্থানে রয়েছে। জনগণও আমাদের সেবায় খুশি।
তার কথার প্রমাণ পাওয়া গেল সৈকতে হারিয়ে যাওয়া শিশু ও সেল ফোন উদ্ধার করে স্বজন ও মালিকের হাতে তুলে দিয়েছে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জের নাজমুল হোসেন এর শিশুকন্যা চার বছরের মাইসাকে ১১ জুলাই সোমবার সৈকত থেকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। মাইসার বাবা নাজমুল হোসেন জানান, মানুষের ভিড়ে তারা তাদের সন্তান মাইসাকে হারিয়ে ফেলেন। চারিদিকে যখন খোঁজাখুঁজি করে তারা পাগল প্রায় হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তখন টুরিস্ট পুলিশের মাইকিং এ শুনতে পান- “একজন শিশু কন্যাকে পাওয়া গেছে। বাবা মা যোগাযোগ করুন।” আমরা তৎক্ষনাৎ ছুটে যাই ও সন্তানকে ফিরে পেয়েছি। হাজারো শুকরিয়া আল্লাহর কাছে। কৃতজ্ঞতা টুরিস্ট পুলিশের কাছেও।
এদিকে বাগেরহাটের শান্তনা সেন তার মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে বললেন, কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের মতো সারা বাংলাদেশের পর্যটন স্পষ্টগুলোতেও টুরিস্ট পুলিশ রিজিওন হওয়া জরুরী। তাহলে আমরা সব জায়গায় নিরাপদে ঘুরতে পারবো।
এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াকাটার সৈকতে মানুষের ঢল বেড়েই চলছে। ঢাকার কচুক্ষেত থেকে আগত সাখাওয়াত হোসেন মারুফ জানালেন, পদ্মা সেতু দেখা একইসাথে সেতু পারি দিয়ে কুয়াকাটা আসার স্বাদ পেতে বউ সন্তান নিয়ে ছুটে এসেছি। সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ কি ছয় ঘন্টা লেগেছে। খুব ভালো লাগছে এখানে আসতে পেরে।
বর্যা মৌসুমের এই সময়টায় সমুদ্র খুব উত্তাল থাকে। তাই সাগরে নামার বিধিনিষেধ আছে বলে জানালেন টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম লোকবল নিয়েও আমরা সর্বাত্মক সেবা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জোয়ারের সময় বা সাগরে কোনোরকম ঝুঁকি দেখলেই টুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করে দিচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT