ঘরমুখী জনস্রোতে চাঙ্গা দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ ॥ ধারণ ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চগুলো ঘরমুখী জনস্রোতে চাঙ্গা দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ ॥ ধারণ ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চগুলো - ajkerparibartan.com
ঘরমুখী জনস্রোতে চাঙ্গা দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ ॥ ধারণ ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চগুলো

3:38 pm , July 8, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঈদ-উল-আযহায় ঘরমুখি জনস্রোতে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ পরিবহন সেক্টর। বৃহস্পতিবার ঈদের আগে শেষ কর্ম দিবসে অফিস ছুটির পরে রাতেই ঢাকা থেকে প্রায় ৫০টি নৌযান দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী বোঝাই করে যাত্রা করে। এরমধ্যে বেশীরভাগই নৌযানেই ছিল ধারনক্ষমতার প্রায় তিনগুন যাত্রী। বরিশালমুখী নৌযানগুলো শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে এ বন্দরে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে শেষ রাতেই ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপুরের পর পরই এসব নৌযান ঢাকায় পৌছে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে পরে পুনরায় যাত্রী বোঝাই করে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে বলে জানা গেছে। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ পরিবহন সেক্টরে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, ঈদকে কেন্দ্র করে তা কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নৌযান মালিকগন।
বিগত দু বছর করোনা সংকটে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখী যাত্রীর সংকট ছিল। সে পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার মধ্যেই পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় নৌ বানিজ্যে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে দাবী করেছেন নৌযান মালিকগন। তবে এবারো অন্তত দশ লাখ মানুষ আপনজনদের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করছেন। অন্যান্য বছর প্রায় ৮০ ভাগ ঘরমুখী মানুষ নৌ-পথে যাতায়াত করলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় নৌ-পথ ছেড়ে একটি বড় অংশই সড়ক মুখী হয়েছে। একাধিক নৌযান মালিক জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে বেশীরভাগ নৌযান বরিশালে যাত্রী নামিয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যাবে ঘরমুখী বাড়তি যাত্রী আনতে। তাদের মতে, শনিবার সকাল পর্যন্ত অনেক গার্মেন্টস খোলা থাকবে। উপরন্তু শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অনেক গার্মেন্টেসই বেতন বোনাস না হওয়ায় শনিবারে শ্রমিকরা টাকা হাতে পেয়ে বিকেলে ঘরমুখী যাত্রা শুরু করবেন। এসব বিবেচনায় নৌযান মালিকগন ঈদের আগের দিন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা থেকে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি রুটে প্রতিদিনই ডবল ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করবে। এভাবে গত ১৫ দিনের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন নৌযান মালিকগন। কর্মস্থলমুখী বাড়তি যাত্রী পরিবহনে ঈদের পরের এক সপ্তাহ ‘যথেষ্ট ভাল’ও পরের সপ্তাহেও নৌ পরিবহন ব্যবসা ‘কিছুটা ভাল’ থাকবে বলে আশা করছেন বেসরকারী নৌযান মালিকগন।
তবে ঈদকে কেন্দ্র করে অন্যান্য বছর বেসরকারী নৌযানে ভাড়া বৃদ্ধির যে প্রবনতা লক্ষ্য করা যেত, এবার তা কিছুটা অনুপস্থিত। পাশাপাশি যাত্রীদের সাথে নৌযান কর্মীদের আচরনেরও এবার কিছুটা পরিবর্তন লক্ষণীয়। নৌযানের মালিক ও কর্মচারীরা যাত্রীদের আবার নৌপথ মুখী করতে সম্ভব সব কিছু করছে এবং করবে বলেও জানিয়েছেন একাধীক নৌযান মালিক।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলমুখী জনস্রোত অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভাংগায় এক্সপ্রেসওয়ে শেষ হবার পরেই বরিশাল পর্যন্ত ৯৫ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক যানযটে যাত্রীরা চরমভাবে নাকাল হচ্ছেন। ৬০ বছরের পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ অপ্রশস্থ মহাসড়কটির বিভিন্নস্থানে বাজার ও দোকানপাটের সাথে নানা অবৈধ যানবাহনের ভীড়ে দিনরাত যানজট লেগেই আছে। ফলে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে মাত্র ১৬৫ কিলোমিটার দুরের বরিশালে পৌছতেই এখন ৫ ঘন্টাও লেগে যাচ্ছে। দক্ষিনাঞ্চলের অন্যান্য গন্তব্য আরো দুরে। এসব কারণেও ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক ঘরমুখি মানুষ এখনো নৌপথকেই বেছে নিচ্ছেন। তবে এবারের ঈদে ঢাকা সদর ঘাট বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-নিরাপত্তা ট্রাফিক বিভাগ চোখ-কান বন্ধ করে বসে আছে। গত তিনদিন ধরে প্রতিটি লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার তিনগুন যাত্রী নিয়ে চলাচল করলেও কেউ এবিষয়ে কোন টু-শব্দ করছে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT