নগরীতে আধুনিক মানসম্মত আইকোনিক বহুমুখী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন সময়ের দাবি নগরীতে আধুনিক মানসম্মত আইকোনিক বহুমুখী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন সময়ের দাবি - ajkerparibartan.com
নগরীতে আধুনিক মানসম্মত আইকোনিক বহুমুখী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এখন সময়ের দাবি

3:38 pm , July 7, 2022

কাজী মিজানুর রহমান ॥ স্বপ্নের পদ্মাসেতু ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা সড়ক পথের ১৪তম সেতু, যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।স্পীডবোট,ট্রলার পাড়ি দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেয়েছে দক্ষিনাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অদম্য ইচ্ছার কাছে সবকিছুই হয়েছে পরাভূত। স্বাধীনতা পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্জন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত দ্বিতল (রেলপথ ও সড়ক) পদ্মাসেতু । কীর্তনখোলা, বিষখালী, পায়রা, সন্ধ্যা বিধৌত প্রাচ্যের ভেনিস বা জীবনানন্দের রূপসী বাংলার এই জনপদ নদীপথে স্টিমার, লঞ্চ যাতায়াতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল ছিল। সময়ের পরিক্রমায় ঐতিহ্যের প্রতীক স্টিমার বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিক বিলাসবহুল চারতলা লঞ্চকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সড়ক পথ। পথের দূরত্ব কমার পাশাপাশি পদ্মাসেতু সময়কে বেঁধে ফেলেছে। ১০-১২ ঘন্টার জার্নি নেমে এসেছে ৩ থেকে ৪ ঘন্টার মধ্যে।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় কখনো ফেরি বন্ধ থেকেছে। ফেরিঘাটের বিরক্তিকর, করুণ অপেক্ষা এখন অতীত। পচনশীল মাছ, কৃষিপন্য মূল্য হারিয়ে কৃষকের ক্ষতি, চালকদের অনিশ্চিত অপেক্ষার দুর্দশা ছিল অমানবিক। গভীর মমতায় সে সব মুছে দিয়েছে পদ্মাসেতু।
নিত্যনতুন আধুনিক বাস যোগ হচ্ছে এই লাইনে। প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে আরামদায়ক বাস যাত্রা এবং গণপরিবহন ব্যবসায়।
ঢাকা-বরিশাল,ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা রুটে চলাচলকারী সকল বাসকে বরিশালের উপর দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই সড়ক অপ্রশস্ত; মাত্র ২৪ ফুট সড়কের পক্ষে বাড়তি যানবাহনের চাপ নেয়া সহজ হবে না। বেশ কিছুটা বিলম্ব হলেও ভাংগা-কুয়াকাটা সড়ক ছয় লেন করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
কিন্তু অতি সাদামাটা বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বা রুপাতলি বাস টার্মিনাল আধুনিকায়ণের কোন প্রস্তুতি দৃশ্যমান নয়। সাময়িক কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা হয়তো ভাবা হচ্ছে কিন্তু আমাদের সুদূরপ্রসারী ভাবনা মাথায় রাখতে হবে।যদিও ভাবনা এবং বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক। মহাকালতো থমকে থাকবে না। সিদ্ধান্ত নিতে যত বিলম্ব, ততই পিছিয়ে যাওয়া।
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৪১ সালের উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সকল সূচকেই আমাদের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক।
বিভাগীয় নগরী, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দেশের অন্যান্য নগরীর তুলনায় ক্রমশই পিছিয়ে পড়ছে। বিপরীতে দেশের নাগরিকগণ উন্নত নাগরিক সেবা সুবিধাভোগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত বাস টার্মিনাল এখন সময়ের দাবি। থাকবে সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক ব্যবস্থাপনা, রেলস্টেশন, বিমানবন্দরের ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধা।
আমাদের মনে রাখতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে ভাংগা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেললাইন স্থাপন হয়ে যাবে।বরিশাল রেলস্টেশন হবে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত,হয়ত ইলিশের আদলেই।
দেশের সকল রেলস্টেশন দৃষ্টিনন্দন,আধুনিকায়ন হচ্ছে। বরিশাল বিমানবন্দরও আধুনিকায়ন হতে যাচ্ছে, সব কিছুর সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে আন্তর্জাতিকমানের পরিবেশবান্ধব বাস টার্মিনাল গড়ে তুলতে হবে। দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের বাস টার্মিনাল আধুনিকায়নের সম্ভাব্য খরচ তুলনা করলে (উদাহরণ স্বরূপ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিলেট বাস টার্মিনাল; বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ) এজন্য আমাদের প্রয়োজন হবে সম্ভাব্য ১০ একর জমি এবং অন্তত ১২০ কোটি টাকা।
একটি প্রস্তাবনা, প্রকল্প তৈরি করে সরকারের নিকট জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ সকল নাগরিকের প্রাণের দাবি। বর্তমানে সিলেট নগরীতে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির দিকে।
পদ্মাসেতু উন্মুক্ত হওয়ায় সমন্বিত এবং পরিকল্পিতভাবে আগালে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি, নদীবেষ্টিত, কবি, সাহিত্যিকগণের চারণভূমি এই অঞ্চল কয়েক বছরের মধ্যেই পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠতে পারে। একটি আইকোনিক বাস টার্মিনাল দেশী-বিদেশী পর্যটককে আকৃষ্ট করতে সহায়তা করবে।আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মানের ক্ষেত্রে একটি উন্নত দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় চলাচলকারী বাস ধারনক্ষমতার আলোকে পার্কিং জোন, প্রয়োজনীয় কাউন্টার, যাত্রী বিশ্রামাগার, ফিডিং কর্নার,মানসম্মত ওয়াশরুম, নামাজের স্থান, ড্রাইভার এবং সহকারীদের বিশ্রামকক্ষ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র,যাত্রীদের জন্য আলাদা মানসম্মত রেস্টুরেন্ট,চিকিৎসাকেন্দ্র,নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রশাসনিক ভবন,নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ইউনিট,গাড়ি পরিচ্ছন্ন ব্যবস্থা,উন্নত সিকিউরিটি এসব গুরুত্বপূর্ন। প্রবেশ এবং বহির্গমন পথ হবে ভিন্ন। লোকাল বাসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখলে সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে। ব্যক্তিগত কার পার্কিং ব্যবস্থা নিয়েও ভাবতে হবে।
এর বাইরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা,স্থাপনার নান্দনিকতা। টার্মিনালে বাগান, নিজস্ব ডাম্পিং এবং নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশকে ভিন্ন আবহ দিবে। যশোর পৌরসভার নিজস্ব আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট আছে আর সিলেট আধুনিক টার্মিনাল নির্মানে এগিয়ে থাকায় তাদের সাথে তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।
নগরী ক্রমেই জনবহুল হয়ে পড়ছে। ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বর্তমান নগরীর প্রস্তাবিত আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি। ২০ বছর পরে নগরীর সম্ভাব্য জনসংখ্যা হবে প্রায় ৩০ লক্ষ। এই বিপুল নাগরিকের জন্য প্রয়োজনীয় বিনোদন ও ফাঁকা স্থানের অভাব খুবই প্রকট, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারনে ক্রমেই তা সংকুচিত হয়ে আসছে। গড়িয়ার পাড় এলাকায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ শেষে বর্তমান স্থান উদ্যান, পার্ক বা খেলার মাঠে রুপান্তর করা হলে এটা হবে নগরীর ফুসফুস, নগরবাসীর উন্নত রুচিবোধের পরিচায়ক। বরিশালবাসীর জন্য নগরপিতার পক্ষে এটা হবে অন্যতম সেরা উপহার।
লেখক: পরিবেশ ও সমাজকর্মী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT