বরিশালের পশুর হাটে ক্রেতা কম, আগামীকাল জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা বরিশালের পশুর হাটে ক্রেতা কম, আগামীকাল জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা - ajkerparibartan.com
বরিশালের পশুর হাটে ক্রেতা কম, আগামীকাল জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা

3:35 pm , July 6, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশালে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে সবমিলিয়ে ৬২ টি। এরমধ্যে সিটি করপোরেশনের স্থায়ী একটি এবং অস্থায়ী দুটি মিলিয়ে মোট ৩টি এবং জেলা প্রশাসনের স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ৫৯টি হাটের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে এখনো কোথাও বেচাকেনা জমেনি, ঈদের আগের দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার জমজমাট হবে বলে আশাবাদী বিক্রেতা ও ইজারাদার।
সরেজমিনে৬ জুলাই বুধবার সিটি করপোরেশন এলাকার তিনটি হাট ঘুরে এবং উপজেলার সবচেয়ে বড় স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রচুর দর্শকের উপস্থিতি টের পেলেও কোরবানির জন্য তেমন একটা পশু বিক্রি হয়নি। তবে খামার ও অনলাইন ক্রেতার চাপ বেড়েছে বলে জানালেন বাবুগঞ্জ উপজেলার এমইপি এগ্রো ফার্মের পরিচালক মোঃ রাফিউর রহমান। তিনি বলেন, আমার খামারে মূলত কেজি দরে কোরবানির গরু বিক্রি হয়। সর্বনি¤œ ১২০ কেজি দরে প্রায় সব গরুই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন শুধু লাল গরু ৪৫০ কেজি বিক্রি অবশিষ্ট আছে। বেশিরভাগ ক্রেতাই অনলাইনে যোগাযোগ করেছেন। পরে স্বশরীরে ঘুরে গেছেন।
এদিকে বরিশাল সদরের সবচেয়ে বড় পশুর হাটটি চরমোনাই ইউনিয়নে। এখানের গরু ব্যবসায়ী বসির সিকদার বলেন, বরিশালের মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট এটি। এখানে প্রতিদিনই অনেক লোক আসছেন। কিন্তু সে তুলনায় পশু তেমন বিক্রি হচ্ছে না। মানুষ এখনো পশু দেখছেন। ঈদের দুই দিন আগে বিক্রি জমে উঠতে পারে।
৬ জুলাই বিকালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গুয়াচিত্রা স্থায়ী পশুরহাটে ঘুরে আসা সিটি করপোরেশন এলাকার খান সড়কের বাসিন্দা দুই ভাই রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদের কাছে জানা যায়, পশু-বিক্রেতারা ১ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দামের ষাঁড় বাজারে তুলেছেন। তার মধ্যে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের পশুর সংখ্যাই বেশি । এছাড়া স্থানীয় খামারীদের ষাঁড়ও দেখা গেছে বাজারে। তার মধ্যে ৭০-৮০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ষাঁড় রয়েছে।
গুহাচিত্রা বাজারের ইজারাদার মো. মোর্শেদ আলম মুঠোফোনে বলেন, এই বাজারে কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহ থেকে গরুগুলো বিক্রির জন্য আনা হয়। তবে প্রতিবছরের তুলনায় তুলনামূলক অনেক কম। কিন্তু বর্তমানে ক্রেতা নেই। হয়তো মানুষের টাকা পয়সায় সমস্যা আছে, কারণ করোনা মহামারিতে অনেকের নানান সমস্যা হইছে। এছাড়া ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার বাজারে জমে ওঠার সম্ভাবনা আছে। এখনও অনেকে বেতন পায়নি, ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসতে পারে নি। তবে আমরা আশা করি শেষ দুইদিনে বেচা-বিক্রি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের এই গুহাচিত্রা বাজারে গরু বিক্রির খাজনা ধরা হয়েছে গরু প্রতি ১ হাজার টাকা। এতে অনেক বিক্রেতা ও ক্রেতারা খুশি। এখন দুটি ভাগে বাজার সাজানো হয়েছে। স্থানীয়দের গরু বিক্রির জন্য আলাদা। এছাড়া দূর থেকে আসা ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা শেড করে দেওয়া হয়েছে।
বানারীপাড়ার ইউএনও রিপন কুমার সাহা জানান, একটি স্থায়ী গুহাচিত্রা ও তিনটি অস্থায়ী হাটসহ মোট চারটি হাটের প্রস্তুতি চলছে বানারীপাড়া উপজেলায়। অস্থায়ী হাটগুলোতে এখন পর্যন্ত বেচাকেনা শুরু হয়নি তবে শুক্রবারের মধ্যে জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশাপ্রকাশ করেন ইউএনও।
এদিকে বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি, কামারখালি, দাড়িয়াল, শিয়ালগুনি ও দুধল মাদ্রাসা বাজারে গরুর হাট বসেছে বলে জানা গেছে। যদি সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি।
বরিশাল সিটি করপোরেশন আওতাধীন কাশিপুরের বাঘিয়া স্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার ইমরান মোল্লা। এখানে হাতেগোনা কয়েকটি গরুর দেখা পাওয়া গেল। ব্যবসায়ী আমীর হোসেন জানালেন, এই মুহূর্তে হাটে সব গরুই স্থানীয়ভাবে পালিত ও দেশীয় গরু। দাম ৮০ থেকে এক লাখ আশি হাজার টাকা পর্যন্ত। বেচাকেনা এখনো শুরু হয়নি। আসলে মানুষের গরু রাখার জায়গার অভাব। তাই শেষদিন এসে কিনে নিয়ে যায় বেশিরভাগ মানুষ। আমরাও ঐদিনের অপেক্ষা করি।
এদিকে সিটি করপোরেশন এলাকার রূপাতলী অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারাদার সাফিন মাহমুদ তারিক বলেন, ৫ জুলাই দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে হাটের উদ্বোধন করেছি। আমাদের হাট জমতে আরও দুই দিন সময় লাগবে। বিগত দিনেও ঈদের দুই দিন আগে আমাদের হাট জমতো। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস জানালেন, তিনটি হাটের মধ্যে বাঘিয়া এলাকার স্থায়ী একটি হাটের পাশাপাশি রূপাতলী ও কাউনিয়া টেক্সটাইল বালুর মাঠ এলাকায় একটি করে অস্থায়ী হাট বসার অনুমোদন হয়েছে। এগুলোর নির্মাণ শেষ। পশু উঠতে শুরু করেছে হাটগুলোতে।
স্থানীয় সরকার বরিশালের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ৬ জুলাই পর্যন্ত আমরা ৫৯টি হাটের অনুমতি দিয়েছি। এ ছাড়া হাটে ক্রেতা হয়রানি বন্ধে ভিজিলেন্স টিম কাজ করবে। পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় মোট ২২টি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এ ছাড়া বাকি ৪৯টি অস্থায়ী হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গরুর হাটের সার্বিক নিরাপত্তাব বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার প্রলয় চিসিম বলেন, পশুর হাটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। প্রতিটি হাটে পুলিশের ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এছাড়া জাল নোট প্রতিরোধ করতে প্রতিটি হাটে জাল নোট সনাক্তকরন মেশিনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন আগামী ৩০ তারিখ এ বিষয়ে সমন্বয় সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, এবার বরিশাল জেলায় ১ লক্ষাধিক পশু কোরবানী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা বরিশাল জেলার খামারিদের কাছে রয়েছে। এর বাইরে গৃহস্থলী এবং অন্য জেলা থেকে আসা পশু অতিরিক্ত যোগান হিসাবে থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT