সাতলায় সড়কের বেহাল অবস্থা, ক্ষুব্ধ শাপলা বিলের দর্শনার্থী সাতলায় সড়কের বেহাল অবস্থা, ক্ষুব্ধ শাপলা বিলের দর্শনার্থী - ajkerparibartan.com
সাতলায় সড়কের বেহাল অবস্থা, ক্ষুব্ধ শাপলা বিলের দর্শনার্থী

3:48 pm , July 4, 2022

আরিফ আহমেদ ॥ আর মাত্র দু’মাস পরই শাপলা বিলের সৌন্দর্য মুগ্ধ দর্শকদের উপচে পরা ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠবে অজপাড়া সাতলা গ্রাম। এটি একটি পর্যটন স্পষ্ট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখার পরও গত ৩০ বছর ধরে চরম অবহেলিত এই গ্রাম। আঁকাবাঁকা, ভাঙা ও খানাখন্দ ভরা সড়কের প্রায় দশ কিলোমিটার খুবই খারাপ অবস্থা স্বীকার করেন স্থানীয় প্রশাসন। হোটেল মোটেল দূরের কথা আগত হাজারো দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্পের আবেদনও উপেক্ষিত জেলা প্রশাসনের কাছে। এ নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাতলা গ্রামের শাপলা বিল দেখতে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। প্রতিবছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এলেই শুরু হয় এই শাপলা প্রেমীদের ভিড়।
বরিশাল সদর থেকে ২০ কিমি দূরত্বে উজিরপুর উপজেলা। আর উজিরপুর থেকে পশ্চিমে আঁকাবাঁকা সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভিতরে সাতলা গ্রামের শাপলা বিলে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো মনোরম দৃশ্যের। প্রকৃতির বুকে আঁকা এক নকশি কাঁথার অপরুপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে দর্শনার্থীদের। এখানে আসতে সড়কের দূর্দশায় প্রাপ্ত সব ক্লান্তি জুড়িয়ে যাবে লাল সবুজের শাপলার চাদরে চোখ পড়া মাত্রই । মনে হবে, প্রকৃতি যেন লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে আগত দর্শনার্থীদের।
প্রতিবছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকের টাইমলাইন জুড়ে বরিশালের শাপলার বিল আর পদ্মপুকুরের ছবি হাতছানি দিয়ে ডাকে। আর এই ডাকে সাড়া দিয়েই হয়তো দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন অনেকে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কিম্বা নৌপথে ঘুমিয়ে বা রাতের নদীর ছলছলানি দেখতে দেখতে যে কেউ আসতে পারেন এই সাতলা গ্রামে। ঢাকার সদরঘাট থেকে সুরভী, সুন্দরবন, পারাবত সহ অসংখ্য লঞ্চে পৌঁছাতে পারেন বরিশাল বন্দরে। কীর্তনখোলা নদী তীরের সৌন্দর্য এড়িয়ে ছুটে যেতে পারেন উজিরপুর হয়ে সাতলার শাপলা বিলে। আবার কেউ চাইলে ধীরে সুস্থে শহরে নাস্তা করে জেলা প্রশাসক ভবন সংলগ্ন পদ্ম পুকুর ও বগুড়া রোডের কবি জীবনানন্দ স্মৃতি গাঁথা দেখে ছুটতে পারেন সাতলার শাপলা বিলে। উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের একটি বিলের নাম শাপলা বিল। হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য এটি দাবী করে স্থানীয় বাবলু হালদার জানান, আমার বয়স এখন সত্তুরের উপরে। শুনেছি আমার জন্মের আগেও এ বিল এরকমই ছিলো। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর এ বিলে শাপলায় ঢেকে যায়। প্রকৃতিগতভাবেই শাপলা জন্মায় এখানে। সাধারণত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকে এই এলাকা। দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এটি দেখতে ভিড় করেন। তবে দিনে এসে দিনেই ফিরে যেতে হয় তাদের। কেননা পর্যটন বিল হলেও এখানে পর্যটকদের অবস্থান উপযোগী কোনো ব্যবস্থা এখনো গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ সাতলা গ্রামবাসীর।
শাপলা বিলের হাজারো শাপলা চোখ জুড়ায় পথচারি ও পর্যটকদের। নৌকা নিয়ে বিলের যত ভেতরে যাওয়া যায়, ততই বাড়তে থাকে লালের আধিক্য। এ যেন এক লালের রাজ্য। এ বিলে ঠিক কবে থেকে, শাপলা জন্মাতে শুরু করেছে তা নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়না তবে, স্থানীয় বয়স্কদের কাছ থেকে জানা যায় জন্মের পর থেকেই, এভাবে শাপলা ফুটতে দেখেছেন তারা। এ বিলে, তিন ধরণের শাপলা জন্মে। লাল, সাদা আর বেগুনি। তবে, লাল শাপলাই বেশি। শাপলা প্রাকৃতিকভাবে জন্মালেও ইদানীং
উত্তর সাতলা নামের গ্রামটির প্রায় ১০ হাজার একর জলাভুমিতে শাপলার চাষ করা হচ্ছে। গ্রামের অধিবাসীদের ৭০% ই শাপলা চাষ এবং বিপণন এর সাথে জড়িত। এ গ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাপলা সরবরাহ করা হয়। ছবি তোলার জন্য আদর্শ একটি গ্রাম এই সাতলা। চাষীদের দাবি আগস্ট থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত শাপলার পুরো সিজন এখানে। তাই এ সময়ের মধ্যে গেলে শাপলা দেখতে পাওয়া যাবে। আর শাপলা দেখতে হলে আপনাকে খুব সকালে যেতে হবে, কেননা সকাল ৮টার পরে ফুল বুজে ছোট হয় যায় অথবা শাপলা শিকারীরা শাপলা তুলে নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে যায়। তাই সবচেয়ে ভালো হয় রাতে গ্রামে থাকতে পারলে। যদিও দর্শনার্থীদের থাকার কোনো ব্যবস্থাই এখন পর্যন্ত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। তবে পর্যটন বিভাগের এটি নিয়ে সূদুর প্রসারি চিন্তা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার জানান, এখানে লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার মানুষ আসে। শুধু বরিশাল নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব দর্শনার্থী ছুটে আসছেন। এখানে বিলের অন্তত সত্তর ভাগ সাতলা ইউনিয়নের মধ্যে বাকি ত্রিশ ভাগ হারতা ও আগৈলঝারা উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে। এখানে নৌকায় ঘুরতে অন্তত দশ থেকে বারোটি পয়েন্টে দুইশ নৌকা প্রতিদিন চলাচল করছে। ফলে স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমরা এখানে চল্লিশ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি দোতলা মোটেল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। তবে প্রায় দশ কিলোমিটার সড়ক এখনো আগের মতোই আছে। আমাদের সংসদ সদস্য শাহআলম এই সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান শাহিন হাওলাদার। তিনি আরো বলেন, এই বিলটি সাতলা ইউনিয়নের সাতলা গ্রাম, হারতা ইউনিয়নের কালবিলা ও আগৈলঝারা উপজেলা বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্রামসহ প্রায় হাজার একর এলাকা জুড়ে এই লাল শাপলার বিল বিস্তৃত।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT