নৌ-পথে যাত্রী কমবে না আরো বাড়বে ॥ বাড়ছে বিলাসবহুল লঞ্চ নৌ-পথে যাত্রী কমবে না আরো বাড়বে ॥ বাড়ছে বিলাসবহুল লঞ্চ - ajkerparibartan.com
নৌ-পথে যাত্রী কমবে না আরো বাড়বে ॥ বাড়ছে বিলাসবহুল লঞ্চ

3:35 pm , July 3, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ যাত্রী কমবেনা বরং আরো বাড়বে বলে আশাবাদী দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ ব্যবসায়ী ও মালিকরা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েকটি দিন যাত্রী চাপ কম হলেও ধীরে ধীরে এ চাপ আবারো বাড়তে শুরু করেছে বলে দাবী তাদের। ঢাকা-কুয়াকাটা চারলেনের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পরও নৌ-পথে যাত্রী বাড়বে বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ জন্য তারা তিনটি কারণও চিহ্নিত করেছেন। তাদের মতে, প্রথমত নৌ পথে ভাড়া কম। দ্বিতীয়ত লঞ্চে যাতায়াতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় না এবং যাত্রীরা ক্লান্তি বোধ করে না। তৃতীয়ত বর্তমানে বিলাসবহুল যেসব লঞ্চ তৈরি হচ্ছে, যাত্রীরা বাসের চেয়ে এসব লঞ্চে ভ্রমণে বেশি আগ্রহী হবেন। তার উপর বেশিরভাগ লঞ্চে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে লিফট এবং হাসপাতাল। বিলাসবহুল লঞ্চে যুক্ত হয়েছে ইকো-সাউন্ড প্রযুক্তি। এতে পানির গভীরতা বোঝা যায়। ফলে লঞ্চ চরে আটকে পড়ার ঝুঁকিও অনেক কমেছে।
রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাহন এই লঞ্চ। তাই নদী যতদিন বহমান আছে লঞ্চের প্রয়োজনীয়তাও ততদিন থাকবে বলে জানান এ ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ। সুরভী শিপিং এর পরিচালক রেজিন উল কবির জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল করলেও বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চগুলো চলে ঢাকা-বরিশাল ও পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি রুটে। সুরভী ১৯৬৪ সাল থেকে ১০/১২ ছোট লঞ্চ নিয়ে এ পথে যাত্রা শুরু করে। সে সময় আশির দশকের শেষদিকে এমভি সামাদ ছিলো প্রথম বড় লঞ্চ। ৮৮ বা ৮৯ সালের দিকে এই রুটে অ্যাটলাস সান, রাজহংস, দ্বীপরাজ এসব ছোট ছোট লঞ্চ যুক্ত হয়। এসময় সুরভী ও সাগর নামে দুটি বড় লঞ্চ এ পথে প্রথম চলাচল শুরু করে। এক দশক আগেও একটি লঞ্চ তৈরিতে ব্যয় হতো ছয় থেকে সাত কোটি টাকা। বর্তমানে লঞ্চের আকার যেমন বেড়েছে, বেড়েছে বিনিয়োগও। বর্তমানের বিলাসবহুল ও আধুনিক প্রযুক্তির বড় লঞ্চের যাত্রা শুরু ২০০০ সাল থেকে।
লঞ্চ মালিক সমিতির সুত্রে জানা যায়, নতুন করে নৌ পথে লঞ্চ নামাচ্ছে পারাবত, কীর্তনখোলা, সুন্দরবন, সুরভী, এ্যাডভেঞ্চার, এম খান, আগরপুর নেভিগেশনসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি। বরিশাল শহরের বেলতলা এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে সুন্দরবন ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে নতুন লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১৬ ও সুন্দরবন-১৪।
সুন্দরবন ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এ দুটি লঞ্চ চলবে বরিশাল-ঢাকা নৌ পথে। ৩১৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের তিনতলা লঞ্চ দুটিতে রাখা হচ্ছে লিফট সুবিধা। আশা করছি জুলাই মাস থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করা যাবে। ’
নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠিতে দপদপিয়া নদীর তীরে এ্যাডভেঞ্চার ডকইয়ার্ডে পূন.নির্মিত হচ্ছে এ্যাডভেঞ্চার-২। আর একটু এগিয়ে এম খান ডকইয়ার্ডে এমভি এম খান-৭ নির্মিত হচ্ছে। কোরবানির ঈদের পর সেখানে এম খান-১১ নামের আরেকটি লঞ্চের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানান এম খান গ্রুপের ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক তারেক রহমান।
আর বরিশালের লঞ্চ কোম্পানিগুলোর অন্যতম সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক শহীদুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘বর্তমানে একটি বড় লঞ্চ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এ লঞ্চের মেয়াদ থাকে অন্তত ৩৫ বছর। লগ্নির পুরো অর্থ উঠতে সময় লাগে ১০ বছরের কম সময়। দুই বছর পর পর লঞ্চের সংস্কার করতে হয়। যাত্রীদের আকর্ষণ বাড়াতে কমবেশি পাঁচ বছর পর পর সাজসজ্জা পরিবর্তন করতে হয়। ’ সুন্দরবন ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে নতুন লঞ্চ এমভি সুন্দরবন-১৪ ও ১৬। ঈদের পর এগুলো নৌপথে চলার উপযোগী হবে বলে জানান পিন্টু।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চে সাধারণ যাত্রীদের মাথাপিছু ভাড়া ৩৫০ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর গত ২৬ জুন থেকে এ ভাড়া কমেছে এবং ২০০ টাকা করা হয়েছে। এমনকি কমেছে কেবিন ভাড়াও। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ ভাড়া আবারও বৃদ্ধির আতঙ্ক যাত্রীদের মাঝে। যাত্রীদের কয়েকজন অভিযোগ করে বলেছেন, মূলত লঞ্চগুলোর ন্যায্য ভাড়া ডেক যাত্রীদের জন্য ২০০ টাকাই ছিলো। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে তারা ৩৫০ টাকা ভাড়া ধার্য করে। যে কারণেই আসলে লঞ্চের যাত্রী কমেছে। বর্তমানে লঞ্চ স্টাফ ও সুপারভাইজারদের আচরণ খুবই ভালো দাবী করে যাত্রী বলেন, এখন একজন যাত্রীর ‘সিঙ্গেল’ কেবিনের ভাড়া এক হাজার টাকা ও ‘ডাবল’ কেবিনের ভাড়া দুই হাজার টাকা নিচ্ছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এটাই যেন নিয়মিত থাকে বলে দাবী প্রায় সব যাত্রীদের।
সুন্দরবন নেভিগেশনের মালিক ও বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা নৌপথে প্রতিদিন কমবেশি ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করে। এর জন্য ২৫০ থেকে ৩০০টি বাস প্রয়োজন হবে। দ্রুত এত বাস নামানো সম্ভব না। তবে ধীরে ধীরে বাস বাড়লেও যাত্রীরা লঞ্চে মালামাল বহনে যে সুবিধা পায়, বাসে তা পাবে না। তাছাড়া লঞ্চ ভ্রমণে সময় সাশ্রয় হয়, যাত্রীরা বিশ্রামের মধ্যেই থাকেন। তবে হাঃ আমাদেরও দ্রতগামী হতে হবে। সময়োপযোগী হতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT