শেবামেক হাসপাতালের ত্রাণ পায়নি বন্যার্তরা ! শেবামেক হাসপাতালের ত্রাণ পায়নি বন্যার্তরা ! - ajkerparibartan.com
শেবামেক হাসপাতালের ত্রাণ পায়নি বন্যার্তরা !

3:17 pm , July 3, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে ত্রাণ কমিটির নামে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে নার্সিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেবামেক হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগম ত্রাণ কমিটির নামে টাকা উত্তোলন করেছে শুনেছি। কিন্তু আমি ওই ত্রাণ কমিটির কাগজে স্বাক্ষর করিনি। তাছাড়া ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি তাদের ব্যক্তিগত।”
একজন সরকারি কর্মকর্তার সরাসরি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত কাজ। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শতাধিক নার্স বলেন, ‘সিলেটে বন্যার্তদের সহায়তা করা একটি মহত কাজ। তবে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে তাদের সহায়তা করতে হবে এমন নজির নেই। তাছাড়া সংগৃহীত চাঁদার টাকায় শুধুমাত্র সিলেটে কর্মরত সরকারি নার্সিং কর্মকর্তাদের ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে। তারা ত্রাণ পাওয়ার অযোগ্য। কারণ বর্তমানে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি পদ মর্যাদা সম্পন্ন। বর্তমান সরকার তাদের যে বেতন ভাতার আওতায় এনেছে তাতে আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে। তারপরও কেন হাসপাতাল পরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে ত্রাণ কমিটির নামে চাঁদাবাজি করা হয়েছে তা আমাদের অজানা। ৮৮৭ জন নার্সের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ জন নার্সিং সুপারভাইজারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে ২৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। এতে চাঁদাবাজির পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা।
এদিকে জানা গেছে, চাঁদাবাজি করার জন্য নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট ত্রাণ সংগ্রহ বিতরণের জন্য একটি মনগড়া কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটিতে নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট নিজেই সভাপতি বনে গেছেন। এমনকি সভাপতি-সাধারন সম্পাদক থাকতেও কমিটিতে সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসলেম উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। যা কমিটি গঠনে রেজুলেশন বহির্ভূত কর্মকা-ের প্রকাশ।
এদিকে কথা হলে সিলেটের সুনামগঞ্জ পাবলিক হেলথ্ সেন্টারে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মহিবুন্নেসা বলেন,আমাদের ২০০ জন নার্সকে ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি চিঁড়া ও ৫ কেজি আলু ছিলো। কিন্তু ত্রাণ দেওয়ার আগে আমি বলেছিলাম, আপনি (নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট) বরিশালে বসে কিছু কিনবেন না। সিলেট এসে প্রকৃত বন্যার্তদের খুঁজে বের করে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করুন। এখন আপনারা (সংবাদকর্মী) দয়া করে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করুন।
এদিকে জানা গেছে, রেজুলেশন বহির্ভূত গঠিত কমিটির ১০ জন সদস্যর কাছ থেকে কোনো চাঁদা আদায় করা হয়নি। কারণ এই ১০ জন সদস্য চাঁদাবাজি কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন। নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগমের পাশাপাশি চাঁদাবাজি করেছে সুপারভাইজার জেসমিন আক্তার, কবিতা বিশ্বাস,সিনিয়র স্টাফ নার্স ও কেবিন ইনচার্জ কানিজ ফাতিমা মুক্তা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসলেম উদ্দিনসহ অনেকে। ত্রাণ বিতরণের নামে এটা একটা আই-ওয়াশ। সাধারণ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা না করে চাঁদাবাজির টাকায় তাদের পোয়াবারো! তবে এঘটনায় বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারী মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।
এদিকে সাক্ষাতে কথা হলে শেবামেক হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগম বলেন, “সিলেটে বন্যার্তদের সহায়তা করার জন্য হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্সদের কাছ থেকে (জন প্রতি) ৩০০ টাকা করে উত্তোলন করেছি। উত্তোলিত টাকায় শুধুমাত্র সুনামগঞ্জে কর্মরত নার্সিং কর্মকর্তাদের ত্রাণ সহায়তা করা হয়েছে। এর বাহিরে আমরা কোনো মানুষকে ত্রাণ সহায়তা করিনি। বন্যার্ত গরীব-অসহায় মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র সচ্ছল নার্সিং কর্মকর্তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মানে কী ? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তরন দিতে পারেননি তিনি। সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগম আরও সিনিয়র স্টাফ নার্সদের কাছ থেকে (জন প্রতি) ৩০০ টাকা ও নার্সিং সুপারভাইজারদের কাছ থেকে (জন প্রতি) ৫০০ টাকা করে উত্তোলন করা হয়েছে। আমি হাসপাতালে সদ্য যোগদান করেছি। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আমার ভুল হতে পারে। তাছাড়া স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ নামে বাংলাদেশের কোথাও কোনো কমিটি আছে কিনা সেটাও আমার জানা নেই। এমনকি হাসপাতাল পরিচালক স্যার আমার কাছে কমিটির বিষয়ে যেসব কথা বলেছেন, আপনাদের (সংবাদকর্মী) কাছে সেসবের উল্টো শুনিয়েছেন।”

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT