অভয়ারণ্য নিয়ে নেতা ও পুলিশের বাণিজ্য ॥ সাগরে উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা অভয়ারণ্য নিয়ে নেতা ও পুলিশের বাণিজ্য ॥ সাগরে উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা - ajkerparibartan.com
অভয়ারণ্য নিয়ে নেতা ও পুলিশের বাণিজ্য ॥ সাগরে উপেক্ষিত নিষেধাজ্ঞা

3:40 pm , June 30, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অভয়ারণ্যগুলোতে অবাধে চলছে মাছ ও প্রানী শিকার। প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের কাছ থেকে বিট ভাড়া নিয়ে স্থানীয় জেলে ও শিকারীরা নিরাপদে ঢুকে পরছে নিষিদ্ধ এলাকায়। শুধু মাছই নয়, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে পাখি ও হরিন শিকার করে আনছে বলে অভিযোগও পাওয়া গেছে আশেপাশের বাসিন্দাদের থেকে।
আর এসব অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেল গত ২৭-২৯ জুন উপকূলীয় এলাকার সংবাদ পর্যালোচনায়। জানা গেল, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সোনারচর অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বন সংলগ্ন খালে মাছ ধরা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আটজন আহত হয়। আর এদের দ্বন্দ্বের নেপথ্যের ঘটনা তদন্তে উঠে আসে প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশের বিট বাণিজ্য। জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী চলতি বছরের ২০শে মার্চ সোনারচর অভয়ারণ্যসহ বন বিভাগের আওতাধীন খালে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। অথচ উল্লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতাধীন সোনারচর অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বন সংলগ্ন খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি জানান, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সোনারচরকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মাছ শিকারের কোনো সুযোগ নেই। দুইপক্ষই বেআইনিভাবে বনের খালে প্রবেশ করেছে। খবর পেয়ে আমি সোনারচর বিট অফিসারকে পাঠিয়েছি। ওখানে গিয়ে সে কাউকে পায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলার চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহম্মাদ মিজান বলেন, সোনারচর বনের খালে মাছ ধরতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়। এক পক্ষের পাঁচজন, আরেক পক্ষের তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় একপক্ষ লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোশাররফ খান এবং পুলিশকে ম্যানেজ করার অভিযোগ পাওয়া গেল হামলায় আহত ও বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি আহত বিল্লাল ও ধলুর কাছ থেকে। তারা জানান, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের নেতা ও পুলিশ মিলেমিশে অভয়ারণ্য নিয়ে বাণিজ্য চালায়। তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে বিট ভাড়া নেয় স্থানীয় জেলে ও শিকারীরা। তারা একই সময়ে দুজনের কাছে বিট ভাড়া দেয়ার কারণেই এই হামলা মারামারি ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেন ধলু। আর বিল্লাল বলেন, এরা শুধু মাছই ধরেনা। মাঝেমধ্যেই এরা বনের বিভিন্ন প্রাণী, বিশেষ করে হরিণও মেরে আনে।

 

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT