পদ্মা সেতুর প্রভাবে লঞ্চের কেবিন ফাঁকা কমেছে কেবিন ও ডেকের ভাড়া পদ্মা সেতুর প্রভাবে লঞ্চের কেবিন ফাঁকা কমেছে কেবিন ও ডেকের ভাড়া - ajkerparibartan.com
পদ্মা সেতুর প্রভাবে লঞ্চের কেবিন ফাঁকা কমেছে কেবিন ও ডেকের ভাড়া

3:28 pm , June 28, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ভাড়া কমিয়ে যাত্রী টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বরিশাল নৌ বন্দরের প্রায় সবগুলো লঞ্চ। ডেকের ভাড়া ১০০ টাকা কমিয়ে ২শ আর কেবিন ভাড়া এখন ১০০০ ও ১৫০০ টাকা। এমন ভাড়ায় যাত্রী পেতে চলছে জোর হাঁকডাক। বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিলো, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির ছাড়া কোনো লঞ্চের কেবিন কিংবা সোফা পাওয়া দুষ্কর ছিল । এমনকি ডেকের জন্যও আসন রাখতে হতো আগেভাগে। কিন্তু সরেজমিনে ২৮ জুন মঙ্গলবার বরিশাল নৌ বন্দরের চিত্র ছিলো উল্টো। যাত্রী ডেকে ডেকে ক্লান্ত লঞ্চ কর্মীরা হতাশা নিয়ে জানালেন, যাত্রীরা সবাই এখন পদ্মা সেতুর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। তাই কটাদিন মন্দা যাবে। এ সত্য স্বীকার করলেন পারাবত, কীর্তনখোলা, কুয়াকাটা ও সুরভী লঞ্চের স্টাফরাও। যাত্রী কম থাকার কারণে ঘাটে এসে হতাশ কীর্তনখোলা শিপিং এর লঞ্চগুলো। তাদের কোনো লঞ্চই আপাতত চলাচল করবেনা বলে জানালেন স্টাফরা। মঙ্গলবার বরিশাল নৌ বন্দরে নোঙর করে থাকা কীর্তনখোলা শিপিংসহ ১০টি লঞ্চ নৌ বন্দরে দেখা গেলেও এগুলোর কোনোটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে না। অন্য ৬টি বিলাসবহুল লঞ্চের সামনেও যাত্রীদের তেমন কোনো ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। লঞ্চের স্টাফদের অনেকেই এসময় ভাড়া কমিয়ে চিৎকার করে কেবিন ও সোফা বিক্রির জন্য যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। তবে ভাড়া কমানোর বিষয়টি কেউ সরাসরি স্বীকার করতে না চাইলেও ১৪শ’ টাকার সিঙ্গেল কেবিন মাত্র একহাজার টাকা এবং ডাবল ২৪শ’টাকার কেবিনটি দুই হাজার টাকা ডাকাডাকি শোনা গেলো। এ সময় ৭০০ টাকার সোফা ৫শ’টাকা এবং ডেক সাড়ে ৩শ’টাকার পরিবর্তে ২০০/২৫০ টাকার হাঁকডাক চলছিলো। বরিশাল নদী বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ঢাকার উদ্দেশ্যে ৬টি লঞ্চ বরিশাল নৌ বন্দরে অপেক্ষমান রয়েছে। লঞ্চগুলো হলো- এমভি এ্যাডভেঞ্চার ১, কুয়াকাটা ২, সুন্দরবন ১১, সুরভী ৭, পারাবত ৯ ও ১২। দুপুরের পর লঞ্চের কাউন্টারে যোগাযোগ করে জানা যায়, কুয়াকাটা-২ লঞ্চের ২৫০ টি কেবিনের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৬০টি, এমভি এ্যাডভেঞ্চার ১ লঞ্চের ১৬৫টি কেবিনের মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৭০টি, এমভি পারাবত ১২ লঞ্চের ২৪০টি কেবিনের মধ্যে ৮০টি এবং এমভি সুন্দরবন ১১ লঞ্চে ২৪০টি কেবিনের মধ্যে ১১৫টি বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সুরভী ৭ ও পারাবত ৯ লঞ্চের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রায় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি কেবিন খালি রয়েছে। ডেকও অর্ধেক পূর্ণ হয়নি গত দুদিন। সাধারণত এই মৌসুমে খুব বেশি যাত্রী হয় না। তবে মঙ্গলবার যাত্রী খুবই কম বলে স্বীকার করলেন তারা। কুয়াকাটা ২ লঞ্চের একজন যাত্রী ইমরান হোসেন বলেন, ঢাকার ইসলামপুরের সাথে কাপড়ের ব্যবসা করার কারণে লঞ্চেই যাতায়াত করি। গত প্রায় একযুগের মধ্যে আজই প্রথম মনে হচ্ছে যাত্রীদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখাচ্ছেন লঞ্চের স্টাফ ও সুপারভাইজাররা। পন্টুনে দাঁড়ানো মাত্রই আমাকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছিলো। শুনলাম সব লঞ্চই কেবিনের যাত্রী খুঁজচ্ছে। এমন যাত্রী আকাল আগে দেখিনি। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করেন লঞ্চ মালিকদের অনেকেই। তবে বরিশাল নৌ বন্দর ত্যাগের আগ মুহূর্তেও বেশিরভাগ লঞ্চের কেবিনে আলো জ্বলেনি দরজায় তালা দেখা গেছে। লঞ্চ মালিক সমিতির সহ সভাপতি ও সুন্দরবন শিপিং লাইনসের পরিচালক সাইদুর রহমান রিন্টু আজকের পরিবর্তনকে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়ে যাওয়ায় সড়কে চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের বেশিরভাগ অংশই একনজর পদ্মা সেতু দেখার আগ্রহ নিয়ে এ সময় বাসে ভিড় করবেন এটাই স্বাভাবিক। তাই কয়েক দিন লঞ্চে যাত্রী কম হতেই পারে। সামনে কোরবানির ঈদের চাপ সামলানোর জন্য আমাদের এখন প্রস্তুতি চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT