ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে ঈদের বিশেষ সার্ভিস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ॥ কমবে লঞ্চের সংখ্যা ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে ঈদের বিশেষ সার্ভিস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ॥ কমবে লঞ্চের সংখ্যা - ajkerparibartan.com
ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে ঈদের বিশেষ সার্ভিস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ॥ কমবে লঞ্চের সংখ্যা

3:36 pm , June 26, 2022

হেলাল উদ্দিন ॥ মুখে না বললেও ভিতরে পুড়ছে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মালিকরা। পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ায় ধরেই নিয়েছেন যাত্রীর চাপ আর আগের মত থাকছে না। এখন তাদের টেনশন একটাই যাত্রী কতটা কমবে বা কমার সংখ্যা কোথায় গিয়ে পৌছাবে? এই দুঃশ্চিন্তার প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়েছে আসন্ন ঈদ উল আযহা বা কোরবানী উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। বিগত সময়ে ঈদের ১৫/২০ দিন আগে বিশেষ সার্ভিস চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাকা পোক্ত করা হলেও এবার এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌছতে পারেনি লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। অথচ ৯ জুলাই ঈদ হলে বাকি আছে আর মাত্র ১২ দিন। লঞ্চ মালিকরা বলছেন পদ্মা সেতু চালু হবার পর এটি বড় কোন ধর্মীয় উৎসব। তাই তারা একটু পর্যবেক্ষন করছেন যাত্রী চাপ কেমন হয়। তার পরই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন বিশেষ সার্ভিসের সার্বিক বিষয়ে। তবে আগের মতই সব ধরনের প্রস্তুতি রাখবেন তারা। তাদের আভাস এবার বিশেষ সার্ভিসে পূর্বের চেয়ে লঞ্চের সংখ্যা কমবে। একই সাথে কমিয়ে আনা হবে দিনের সংখ্যাও।
লঞ্চ মালিকদের দুঃশ্চিন্তার প্রভাব স্বাভাবিক পড়েছে বন্দর কর্র্তৃপক্ষের উপর। লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্তহীনতার কারনে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রনকারী সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটিও এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেননি।
পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চগুলোই ছিলো মূলত বরিশালসহ দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের মূল মাধ্যম। ফেরি ভোগান্তির কারনে সড়ক পথ বিমুখ ছিলো এ অঞ্চলের মানুষ। সেতু চালু হওয়ায় যথারীতি সড়ক পথে যাতায়াতের দিকে ঝুকেছে যাত্রীরা। গতকালের যাত্রী চাপ জানান দিয়েছে সড়ক পথে যাত্রা করতে যাত্রীরা কতটা ব্যাকুল ছিলো এতদিন। যাত্রীরাদের এই ব্যাকুলতাই টেনশনের কারন হয়ে দাড়িয়েছে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ মালিকদের। সেতু নির্মান পূর্বে মালিকদের বক্তব্য ছিলো লঞ্চে যাত্রী কমবে না। তবে সেতু চালু হবার পর সে বক্তব্য থেকে সড়ে এসেছেন লঞ্চ মালিকরা।
ঢাকা-বরিশাল রুটের সব চেয়ে বিলাসবহুল সুন্দরবন নেভিগেশনের সত্বাধিকারী ও কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সেতু চালু হওয়াতে লঞ্চে যাত্রী কিছুটা কমবে তা নিশ্চিত। তবে কতটুকু কমে সেটি দেখার বিষয়। তিনি বলেন সেতু চালু হবার পর এটি প্রথম ঈদ। ধারনা করতে পারছি না যাত্রীর চাপ কেমন হবে। তাই আমরা সব কিছু পর্যবেক্ষনে রেখেছি। যে কারনে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। তিনি বলেন যদি ৯ জুলাই ঈদ হয় তাহলে ৭ ও ৮ জুলাই দুই দিন ঢাকা থেকে স্পেশাল সার্ভিস চলবে। আর ১০ জুলাই হলে ৯ জুলাই আমরা বেশী লঞ্চ দেবো। সব কিছুই নির্ভর করছে যাত্রী চাপের উপর। তিনি সড়ক পথের সাথে ভাড়ার তুলনা করে বলেন, বাসে ঢাকা থেকে বরিশাল আসতে একজন যাত্রীর সর্ব নি¤œ ৫ থেকে ৬’শ টাকা লাগে। সেখানে একই ভাড়া দিয়ে লঞ্চে দুজন যাত্রী বরিশাল আসতে পারবে। এছাড়া সাথে ছোট বাচ্চারাও ফ্রি আসতে পারছে। যেটা বাসে সম্ভব না।
বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু এবার আমাদের লঞ্চ পথে নতুন অভিজ্ঞতা দিবে। আমরা সে অভিজ্ঞতা গ্রহনের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন স্পেশাল সার্ভিসের বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি তবে পূবের্র মতই সব ধরনের প্রস্তুতি থাকবে আমাদের।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT