পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বরিশাল-ঢাকা রুটে ছুটছে হাজারো যাত্রী পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বরিশাল-ঢাকা রুটে ছুটছে হাজারো যাত্রী - ajkerparibartan.com
পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে বরিশাল-ঢাকা রুটে ছুটছে হাজারো যাত্রী

3:33 pm , June 26, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঢাকা খিলগাও এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী লাকী বেগম। পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য দুইদিন অপেক্ষা করেছেন। রোববার অপেক্ষার প্রহর শেষে বেলা ১১ টায় বিআরটিসি বাসে ঢাকা রওনা হয়েছেন। তার মতো হাজারো যাত্রী পদ্মা সেতু পার হয়ে ঢাকা যেতে ও বরিশাল আসতে বাসের যাত্রী হয়েছেন। বরিশাল নথুল্লাহবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বিআরটিসির বরিশাল ডিপো ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। বিআরটিসি বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করা ফারুকুল আলম বলেন, পদ্মা সেতু দেখার উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যর পরিবার নিয়ে বাসের যাত্রী হয়েছেন। পদ্মা সেতু পার হয়ে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি। বানারীপাড়া থেকে আসা যাত্রী সুমনা আফরিন বলেন, চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাচ্ছি। আর আগে যাওয়ার কথা ছিলো। পদ্মা সেতু দিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আজ (রোববার) অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে। পদ্মা সেতু পার হয়ে সকাল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু করে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে মালিকানাধীন ও বিআরটিসির অর্ধশত বাস ছেড়ে গেছে। বিআরটিসির বরিশাল ডিপো ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল ৬ টায় দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে তাদের ডিপো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়া শুরু হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত ১৩ টি বাস ছেড়ে গেছে। এতে মোট ৩৮৪ জন যাত্রী বরিশাল ডিপো থেকে ঢাকা গেছে। তিনি জানান, ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে একটি বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বাস (দেড়টার সময়) ভাঙ্গা পার হয়েছে বলে জানিয়েছে বলেন ডিপো ব্যবস্থাপক।
মালিকানাধীন পরিবহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে সাকুর পরিবহনের বাস। নগরীর নথুল্লাহবাদ টার্মিনাল থেকে সকাল সাড়ে ৫টা থেকে আধা ঘন্টা পর পর তাদের বাস পরিপূর্ন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক সালাম জানান, তাদের তিনটি বাস ছেড়ে গেছে। ৪১ সিটের প্রতিটি বাসে ৩৬/৩৭ জন যাত্রী ছিলো।
বেপারী পরিবহনের মিরাজ বলেন, তাদের তিনটি বাস ছেড়ে গেছে।
ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক সোহেল জানান, পদ্মা সেতু দেখার জন্য যাত্রী ভীড় রয়েছে। তাদের ৪০ আসনের একটি বাস পরিপূর্ন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
সুগন্ধা পরিবহনের কাউন্টারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, চার লেনের রাস্তা না হলে পদ্মা সেতুর সুফল বেশি মিলবে না। তিনি জানান, ভাঙ্গার পর থেকে সড়ক সরু। এ কারনে একটু সময় বেশি হয়। তা না হলে তিন ঘন্টার মধ্যে ঢাকা-বরিশাল আসা যাওয়া করা যেত।
মিজান পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মিলন বলেন, তাদের চারটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। প্রথম বাসটি তিন ঘন্টায় সায়েদাবাদ পৌছেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, তার বন্ধু মামুন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মতিন খন্দকার সকালে প্রাইভেট কার নিয়ে ঢাকারে উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। তিনি পৌনে তিন ঘন্টায় সায়েদাবাদ পৌছেছে।
পদ্মা সেতু পার হওয়া ও নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোর থেকেই নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের ভিড়।প্রথমে যাত্রী নিয়ে নগরীর নথুল্লাহবাদ টার্মিনাল এলাকায় পৌছানো ইলিশ পরিবহনের বাস চালক এনামুল হক জানিয়েছেন, তিনি সাড়ে ৪ ঘন্টায় পৌছেছেন। তিনি বলেন, ছোট ছোট গাড়ি, থ্রি হুইলার আর দর্শনার্থীদের ভিড়ে সেতু পার হতে সময় লেগেছে। আস্তে আস্তে এসব ঝামেলা থাকবে না। তখন আরো কম সময়ের মধ্যে পৌছানো যাবে। সকাল ১০ টার মধ্যে বরিশাল নথুল্লাহবাদ পৌছানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের সুপারভাইজার নাসিরউদ্দিন জানান, প্রথম দিন হওয়ায় সেতুর টোলগেটে ব্যাপক যানজট। দুই ঘন্টা টোল ঘরের সামনে কাটাতে হয়েছে। তাই একটু দেরি হয়েছে। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
সকাল আটটায় সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে এসে বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর নথুল্লাহবাদ এসে পৌছানো সাকুরা পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী স্কুল শিক্ষিকা সুরুচি বিশ্বাস বরেন, পদ্মা সেতু ও নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য কতটা উপভোগ্য তা বোঝানোর ভাষা নেই। এ সুযোগ করে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার দৃঢ়তার জন্য আমরা এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছি।
সাইফুল ইসলাম নামের অপর এক যাত্রী বলেন, যেখানে ফেরীঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা অকারনে যানবাহনগুলো দাড়িয়ে থাকতে হতো, সেখানে নিমিষেই পদ্মা পাড়ি। নেই কোন দুর্ভোগ, নেই সময়ের অপচয়। তার কাছে পদ্মা সেতু স্বপ্নের চেয়েও অনেক বড় প্রাপ্তি বলে জানিয়ে এ জন্য তারা বারবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলেননি।
গ্রীন লাইন পরিবহনের বরিশালের ব্যবস্থাপক হাসান সরদার বাদশা জানান, উদ্বোধনী দিনে তাদের ৫ টি বাস চলাচল করেছে। দুই একদিনের মধ্যে ১৬ টি বাস চলাচল শুরু করবে।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা গ্রীন লাইন পরিবহনের বাস পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ৪০ ও ২৭ সিটের বাসগুলো চলাচল করবে। এসব বাস জার্মানী ও সুইডেন থেকে আমদানী করা হয়েছে।
তাদের ৪০ সিটের এসি বাসের জন প্রতি ভাড়া ৭৫০ টাকা ও ২৭ সিটের ভাড়া ১ হাজার টাকা।
গ্রীন লাইন পরিবহনের চালক ইয়াসিন জানায়, সকাল সাড়ে ৬ টায় ঢাকার আরামবাগ থেকে ছেড়ে আসার পর তাদের গাড়ি ৪০ মিনিট টোল ঘড়ে বিলম্ব হওয়ার পরও তারা তিন ঘন্টায় বরিশালে আসতে পেরেছে।
ঢাকা থেকে নথুল্লাহ হয়ে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা মিজান পরিবহনের হেলপার বলেন, তিন স্থানে টোল দিয়েছেন। আড়িয়াল খা, ধলেশ্বর ও পদ্মা সেতুর টোল দেয়া হয়েছে।
হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক রানা তালুকদার জানান, পদ্মা সেতুর পূর্বে আড়িয়াল খা সেতুতে ১৩৫ টাকা, পদ্মায় ২ হাজার টাকা ও ধলেশ্বর সেতুতে ১৬০ টাকা টোল দেয়া হয়েছে। আগেও একই পরিমান টাকা লাগতো বলে জানিয়েছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT