মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মান কাজের সূচনা হল খুলনা শিপইয়ার্ডে মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মান কাজের সূচনা হল খুলনা শিপইয়ার্ডে - ajkerparibartan.com
মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মান কাজের সূচনা হল খুলনা শিপইয়ার্ডে

3:51 pm , June 21, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দেশে প্রথমবারের মত ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মান কাজের সূচনা করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড। মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বন্দরের জন্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ বিশেষায়িত নৌযানের নির্মান কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বন্দর কতৃপক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহম্মদ মুসাÑওএসপি, এনপিপি,আরসিভিএস,এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি-বিএন। খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম শামসুল আজিজ-এনজিপি, পিএসসি-বিএন,এর সভাপতিত্বে এ ‘কিল লেয়িং’ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির জিএমবৃন্দ ছাড়াও উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
কিল লে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহম্মদ মুসা বলেন, এ বিশেষায়িত নৌযান মোংলা বন্দরকে আন্তজার্তিক মানদন্ডে উপনীত করবে। তিনি খুলনা শিপইয়ার্ডের সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, এক সময়ের রুগ্ন ও বিরাষ্ট্রীয় করণের তালিকভুক্ত এ প্রতিষ্ঠান আজ গোটা জাতীর গর্ব। যা সম্ভব হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কমচারীদের নিরলস ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে। খুলনা শিপইয়ার্ড উপমাদেশের নৌ নির্মান শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবস্থান করে নিতে পাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নৌ বাহিনীর এ প্রতিষ্ঠান আজ গোটা জাতীর গর্ব।
সভাপতির ভাষনে খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর সামসুল আজীজ বলেন, আগামী ১৫ মাসের মধ্যে আমরা ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’টির নির্মান কাজ সম্পন্ন করে মোংলা বন্দরের কাছে হস্তান্তর করব। খুলনা শিপইয়ার্ড দেশের মাটিতে এখন যেকোন অত্যাধুনিক নৌযান নির্মানে সক্ষম বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মান নির্ণয় প্রতিষ্ঠান ‘আইএসও’র সনদপ্রাপ্ত খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোপূর্বে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ছোট ও বড় মাপের একাধিক যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও সমর নৌযান তৈরী করেছে।
মোংলা বন্দরের জন্য নির্মিতব্য সার্চ এন্ড রেসকিউ ভেসেলটিতে বিশে^র অত্যাধুনিক মেশিনারী সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সংযোজিত হবে। প্রায় ৯১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট প্রস্থ এ নৌযানটি জার্মানীর ‘জিএমবিএইচ’এর নকশায় তৈরী হচ্ছে। নৌযানটির সাহায্যে বন্দরের সার্চ এন্ড রেসকিউ মিশন সহ মেরিটাইম সার্ভিলেন্স দক্ষতার সাথে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
নৌযানটিতে আমেরিকার ‘এমটিইউ’ ব্রান্ডের ১ হাজার ৬৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি মূল ইঞ্জিন ছাড়াও দুটি জেনারেটর থাকবে। এছাড়া ১টি করে ডেক ক্রেন ও রেসকিউ বোট সহ সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট,ওয়েলি ওয়াটার সেপারেটর এবং নেভিগেশন কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট, মাল্টিবিম সোনার, ডিজিপিএস, নেভিগেশন রাডার ও সার্বক্ষনিক যোগাযোগের জন্য ভিএইচএফ সেট ছাড়াও ইকো সাউন্ডার সংযোজন করা হবে। যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমুদ্র বন্দরের দক্ষতা ও কর্ম পরিধিকে যথেষ্ঠ সমৃদ্ধ করবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৌযান জরিপ প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের ‘ব্যুরো ভেরিটাস’এর নীতিমালা অনুসরন করে নির্মিতব্য এ নৌযানটি মোংলা বন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সমুদ্র বন্দরে পরিনত করবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কতৃপক্ষ।
খুলনা শিপইয়র্ড ইতোমধ্যে প্রায় ৮শ বিভিন্ন ধরনের সমর ও বানিজ্যিক নৌযান নির্মান ছাড়াও প্রায় আড়াই হাজার নৌযানের মেরামত ও পূণর্বাশন সাফল্যজনক ভাবে সম্পন্ন করেছে। উপমহাদেশের নৌ নির্মান শিল্পে খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে তার গৌরবজনক অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর রুগ্ন ও বিক্রী তালিকাভ’ক্ত খুলনা শিপইয়ার্ডকে নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীর এ প্রতিষ্ঠানটি তার হ্রত গৌরব পুনরুদ্ধার করে দেশের উন্নয়নের এক অনন্য অংশিদার হয়ে উঠেছে। করোনা মহামারীর বিগত দুটি অর্থ বছরের সংকটকালীন সময়েও প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা আয়কর ও ভ্যাট প্রদানের পরেও ১২৫ কোটি টাকা নীট মুনফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের এ ইতিবাচক পরিবর্তনে রুগ্ন ও লোকশানী ‘নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড’ ও ‘চট্টগ্রাম ড্রাইডক’ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে লোকশান ও অব্যবস্থাপনাকে পেছনে ফেলে দেশের অগ্রযাত্রায় অন্যতম অংশিদার হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT