খুলনা শিপইয়ার্ডে মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মাণ কাজের সূচনা আজ খুলনা শিপইয়ার্ডে মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মাণ কাজের সূচনা আজ - ajkerparibartan.com
খুলনা শিপইয়ার্ডে মোংলা বন্দরের জন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভোসেল’ নির্মাণ কাজের সূচনা আজ

3:33 pm , June 20, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ মোংলা বন্দরের জন্য মঙ্গলবার একটি ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ ভেসেল’ নির্মান কাজের সূচনা হচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড। প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এ বিশেষায়িত নৌযানটির নির্মান কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন মোংলা বন্দর কতৃপক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহম্মদ মুসা ওএসপি, এনপিপি,আরসিভিএস,এএফডব্লিউসি, পিএসসি, পিএইচডি-বিএন। খুলনা শিপইয়ার্ডের সবুজ চত্তরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম শামসুল আজিজ-এনজিপি, পিএসসি-বিএন,এর সভাপতিত্বে এ ‘কিল লেয়িং’ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির জিএমবৃন্দ ছাড়াও উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মান নির্ণয় প্রতিষ্ঠান ‘আইএসও’র সনদ প্রাপ্ত খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোপূর্বে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ছোট ও বড় মাপের একাধিক যুদ্ধ জাহাজ ছাড়াও সমর নৌযান তৈরী করেছে।
মোংলা বন্দরের জরন্য নির্মিতব্য সার্চ এন্ড রেসকিউ ভেসেলটিতে বিশে^র অত্যাধুনিক মেশিনারী সহ সরঞ্জাম সংযোজিত হবে। প্রায় ৯১ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২২ ফুট প্রস্থ এ নৌযানটি জার্মানীর ‘জিএমবিএইচ’এর নকশায় তৈরী হতে যাচ্ছে। নৌযানটির সাহায্যে বন্দরের সার্চ এন্ড রেসকিউ মিশন সহ মেরিটাইম সার্ভিলেন্স দক্ষতার সাথে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমুদ্র বন্দরের দক্ষতা ও কর্ম পরিধিকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৌ জরিপ প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের ‘ব্যুরো ভেরিটাস’এর নীতিমালা অনুসরন করে নির্মিতব্য এ নৌযানটি মোংলা বন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে পরিনত করতেও অগ্রনী ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
নৌযানটিতে আমেরিকার ‘এমটিইউ’ ব্রান্ডের ১,৬৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি মূল ইঞ্জিন ছাড়াও দুটি জেনারেটর থাকবে। এছাড়া নৌযানটিতে ১টি করে ডেক ক্রেন ও রেসকিউ বোট সহ সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট,ওয়েলি ওয়াটার সেপারেটর ছাড়াও নেভিগেশন কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট, মাল্টিবিম সোনার, ডিজিপিএস, নেভিগেশন রাডার এবং সার্বক্ষনিক যোগাযোগের জন্য ভিএইচএফ সেট ছাড়াও ইকো সাউন্ডার সংযোজন করা হবে।
খুলনা শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে প্রায় ৮শ বিভিন্ন ধরনের সমর ও বানিজ্যিক নৌযান নির্মান ছাড়াও প্রায় আড়াই হাজার নৌযানের মেরামত ও পূণর্বাসন সাফল্যজনক ভাবে সম্পন্ন করে উপমহাদেশের নৌ নির্মান শিল্পে গৌরবজনক অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
রুগ্ন ও বিক্রি তালিকাভুক্ত খুলনা শিপইয়ার্ডকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। ইতোমধ্যে সামরিক বাহিনীর এ প্রতিষ্ঠানটি তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করে দেশের উন্নয়নের এক অনন্য অংশিদার হয়ে উঠেছে। করোনা মহামারীর বিগত দুটি অর্থ বছরের সংকটকালীন সময়েও প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা আয়কর ও ভ্যাট প্রদানের পরেও ১২৫ কোটি টাকা নীট মুনফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এমনকি খুলনা শিপইয়ার্ডের ঘুরে দাড়ান দেখে একইভাবে রুগ্ন ও লোকশানী ‘নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ড’ ও ‘চট্টগ্রাম ড্রাইডক’ নৌ বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে লোকসান ও অব্যবস্থাপনাকে পেছনে ফেলে দেশের অগ্রযাত্রায় অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT