মধু মাসের ফলের গন্ধে মাতোয়ারা নগরী মধু মাসের ফলের গন্ধে মাতোয়ারা নগরী - ajkerparibartan.com
মধু মাসের ফলের গন্ধে মাতোয়ারা নগরী

3:16 pm , June 3, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জৈষ্ঠ্য মাস মানেই মধু মাস। আর এই মাস নিয়ে বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে ‘মধুমাসের মধু ফল, না খেলে যাবে রসাতল’। তবে বিদায় লগ্নে মধু মাস জৈষ্ঠ্য। তারপরও মধুমাসের ফলের বাজার মতোয়ারা করে রেখেছে। সবাই যেন মাতোয়ারা হয়েই ফলের পেছনেই পড়ে আছে। গরীব কিংবা ধনী এমন লোক খুজে পাওয়া যাবে না যে এই সময়ে দিন শেষে কোন না কোন ফল না কিনে বাসা বাড়িতে যাচ্ছে। প্রসিদ্ধ বাজার থেকে শুরু করে শুরু করে নগরীর অলি গলি সকলস্থানে নানা ধরনের ফলের সমারোহ। এছাড়া রাস্তা ঘাটে ফুটপাতে মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের ফল নিয়ে বসেছেন। কৃষি বিভাগ বলছে বর্তমান সময়ে বাজারে ১০ থেকে ১৫ ধরনের ফল পাওয়া যাচ্ছে। যা বছরের আর কোন সময়েই হয়ে উঠে না। এ জন্যই এ মাসের নাম হয়েছে মধু মাস।
সরেজমিনে নগরী ঘুরে দেখা গেছে, একাধিক জাতের লিচু, আম, দেশী জাম,কাঠাল কলা, পেপে সহজলভ্য। এছাড়া সবে মাত্র আসা শুরু করলেও কাঠালের সরবরাহ একেবারে কম না। সাথে রয়েছে, গ্রামের ফল কাউ ও তাল। বিদেশী ফল ড্রাগনও শোভা বাড়াচ্ছে ফলের বাজারগুলোতে।
নগরীতে যারা সারা বছর ফলের ব্যবসা করেন বা বিক্রি করেন তাদের দোকানগুলো যেন ফল প্রদর্শনীর স্টল হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি দোকানে দেশী বিদেশী মিলিয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ ধরনের ফলের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম নাগালের বাইরে থাকার অভিযোগ থাকলেও একেবারে অসন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। তবে সবার দাবী একটু দাম বেশী দিয়ে কিনে যেন তারা ভাল ও বিষ মুক্ত ফল খেতে পারেন, সে বিষয়টি যেন প্রশাসন নিশ্চিত করে।
নগরীর ফল পট্টি, পোর্টরোড, সদর রোড ঘুরে দেশি ফলের বাজারের এমন চিত্র দেখা যায়। পর্যাপ্ত রোদের কারণে লিচুর ফলন এবার কম হওয়ায় সরবরাহ নেই। যার ফলে অতিরিক্ত দামেই লিচু বিক্রি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের ধারণা, লিচুর দাম আরও বাড়বে। আড়াই’শ থেকে ৩’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে একশ লিচু। সপ্তাহ খানেক ধরে আমের সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো সাধারন মানুষের বাইরে। কারন জাত ভেদে ৮০ থেকে ২’শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আম। বাজারে এখন হিমসাগর আম বেশি উঠেছে। এছাড়া গোবিন্দ ভোগ, পারিভোগসহ কয়েক রকমের আম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।
শুক্রবার জুম্মার পর বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি হিমসাগর ১২০-১৫০ টাকা, গোবিন্দ ভোগ ১১০-১২০ টাকা, গোপাল ভোগ ৯০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ছোট ছোট একেকটি কাঁঠাল ৫০-১’শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। মাঝারি ও বড় সাইজের বিভিন্ন আকারের কাঁঠালের দাম ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা বা তারও বেশি। লিচুর দাম এখনো বেশ চড়া। জাত ভেদে প্রতি ১শ’ লিচুর দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। তবে ব্যবসায়ী মামুন জানালেন, বরিশালে পাওয়া যায় না তবে ঢাকার বাজারে কদমা ও বেদানা জাতের লিচু রয়েছে যার ‘শ’ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও ডৌওয়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, জাম দেড়শ থেকে ২০০ টাকা কেজি, তালের শাস ৫ থেকে ১৫ টাকা, দেশী কলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ী রফিক বলেন, পাইকারি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে যার কারণে বেশি রাখতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদেরও তো কিছুটা লাভ করতে হবে। তারা যদি কম রাখে আমরাও ক্রেতাদের কাছে কিছুটা কম দামে বিক্রি করতে পারবো। লিচুর দাম আরও বাড়বে। এখন মানুষ ৩৫০ টাকায় কিনতে চাচ্ছে না। পরে ৫০০-৬০০ দাম হয়ে যাবে। আম বিক্রেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, ভালো জিনিসের দাম তো একটু বেশি হবেই। একটু বেশি দাম না দিলে কী ভালো জিনিস পাওয়া যায়? একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তুলি শেখ বলেন, বাজারে সব ধরনের ফল থাকলেও দাম বেশ চড়া। সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফল কেনার মত অবস্থা থাকে না। তারপরও ফল একটি সিজনাল বিষয় সারা বছর সব ফল পাওয়া যায় না। সামর্থের বাইরে থাকলেও যতটুকু সম্ভব কিনতে তো হয়। রিক্সা চালক আল আমিন বলেন সারা দিন যা ভাড়া খাটি তা দিয়ে তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। ঘরে দুই ছোট ছেলে মেয়ে আছে ওরা আম লিচু নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। যত কষ্টই হোক বা অন্য কিছু একটু কম কিনে বাচ্চাদের জন্য অন্ত্যত এক দুইটা আম নিয়ে রাতে বাসায় যাই।
দেশি ফল মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী হলেও ফল কেনা খাবার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। বরিশাল খামার বাড়ির উপ পরিচালক কুষিবিদ মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন গ্রীষ্ম মানেই রসালো ফলের মৌসুম। এসব ফল মানবদেহের জন্য অনেক উপকারী। এই রোদ গরমে মানুষের শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়। রসালো এসব ফল সেই ঘাটতি পূরণ করে। তবে ফল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। যেহেতু বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল দিয়ে এসব ফল পাকানো হয়। যা দেহের জন্য ক্ষতিকর।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT