উত্তাল মেঘনা পাড়ে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে এক কন্যা উত্তাল মেঘনা পাড়ে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে এক কন্যা - ajkerparibartan.com
উত্তাল মেঘনা পাড়ে জন্ম নিয়েছে ফুটফুটে এক কন্যা

3:21 pm , May 26, 2022

প্রশংসায় ভাসছেন তিন চিকিৎসক

শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাসন ॥ কন্যা সৌভাগ্যের প্রতীক-এটা প্রচলিত কথা। একথা যেন বাস্তবে ধরা দিলো মনপুরার সবুজ-মুক্তা দম্পতির জীবনে। বুধবার গভীর রাতে চরফ্যাসনের মেঘনা পাড়ের বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক সংলগ্ন নদীরপাড়ে এই দম্পতির ঘর আলোকিত করে এসেছে কন্যা সন্তান। দিনের ক্লান্তির পর একটু প্রশান্তির জন্য ওই পার্কে বেড়াতে যাওয়া চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসকের মানবিকতার ছোয়ায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিরব নিস্তব্দ মেঘনা পাড়ে জীবনের জয়গান গেয়ে উঠেছে এক নবজাতক শিশু কন্যা। মা আর অনাগত শিশুর জীবনের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনের জয়গাঁথা রচিত হয়েছে মেঘনাপাড়ে। হাসি ফুটেছে ওই দম্পতির জীবনে। জীবনের জয়োল্লাসে সম্পৃক্ত ওই তিন চিকিৎসক ভাসছেন প্রশংসার সাগরে। তখন রাত সাড়ে ১১টা। রাত ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালের নির্ধারিত কর্তব্য শেষে একটু প্রশান্তির খোঁজে চরফ্যাসনের মেঘনা পাড়ের বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে বেড়াতে যান তিন চিকিৎসক-ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন, ডা. ফাইয়াজ এবং ডা. নাহিদ হাসান। তিন চিকিৎসক বেতুয়া পার্কের মেঘনার ভাসমান চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। বসে পড়েন খাবার টেবিলে। এ সময় রেস্টুরেন্টের পাশেই ভেড়ে একটি স্পীডবোর্ড। উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে মনপুরা থেকে স্পীডবোর্ডটি এসেছিল। দুইজন মহিলাসহ কয়েকজন স্পীডবোর্ড থেকে নামতে দিয়ে একজন মহিলা স্পীডবোর্ডের সিড়ির উপর বসে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নাকাটি শুনে পার্কে আসা লোকজন এগিয়ে যান। খাবার টেবিল ছেড়ে এগিয়ে যান তিন চিকিৎসক। কাছে যেতেই চিকিৎসক দল নিশ্চিত হন- অন্তসত্বা নারীর সন্তান প্রসবের সময় এসেছে। মনপুরা থেকে মেঘনা পাড়ি দিয়েছেন চরফ্যাসন হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। ডা. সুরাইয়া তাৎক্ষণিক রোগীকে পরীক্ষা করেন। ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, স্পীডবোর্ডের সিড়িতে বসে পড়েছেন মা। দেখলাম ভয়ংকর অবস্থা। নবজাতকের মাথা বের হয়ে গেছে। সহকর্মী দুই চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান ও ডা. ফাইয়াজকে নিয়ে ২/১ মিনিটের পরামর্শ শেষে ব্লেড-সূতাসহ কিছু জরুরী উপকরণ পাশের দোকান থেকে সংগ্রহ করে বেড়িবাধেঁর উপর কাপড়ের প্রাচীর দিয়ে সন্তান প্রসব করালাম। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়েছে। চিৎকার দিয়ে এই পৃথিবীতে তার আগমনির জানান দিয়েছেন। নিজেকে তখন খুব ভাগ্যবতী মনে হয়েছে। ডা. নাহিদ হাসান বলেছেন-এমন একটি কাজে সম্পৃক্ত হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। এটাই আমাদের কাজ। কিন্ত অকল্পনীয় এবং ব্যতিক্রম। কখনো ভাবিনী-গভীর রাতে মেঘনার উত্তাল ঢেউ আছড়েপড়া কূলে একজন অসহায় মা আর তাঁর নবজাতকের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখতে পারবো। এই চিকিৎসক জানান, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে নিরাপদ ভাবেই স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে।তারপর এ্যাম্বুলেন্স ডেকে মা ও তার নবজাতককে চরফ্যাসন হাসপাতালে আনা হয়। রাতভর পর্যবেক্ষণে রেখে গতকাল বৃহষ্পতিবার সকালে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর করুণায় মা ও মেয়ে সুস্থ আছেন। এদিকে গভীর রাতে মেঘনাপাড়ে এমন মুমূর্ষু একজন প্রসূতির জীবন বাঁচাতে স্ব-উদ্যোগে চিকিৎসকদলের ভূমিকায় এলাকার মানুষের মধ্যে চিকিৎসক বন্দনা শুরু হয়েছে। সকলের মুখে মুখে মানবিক চিকিৎসকদের নিয়ে প্রশংসা সূচক শব্দ বেরুচ্ছে। যেন এমন কাজের প্রশংসার জন্য নতুন নতুন শব্দ খুজতে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। যদিও প্রসূতি বা তার পরিবারের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিন চিকিৎসক প্রমান করেছেন মানুষ মানুষের জন্য। চিকিৎসা পেশা মানবতার পেশা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT