তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি - ajkerparibartan.com
তদন্ত প্রতিবেদনে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি

3:33 pm , May 16, 2022

হাসপাতালের টয়লেটে বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের টয়লেটে বাচ্চা প্রসব এবং বেঁচে থাকার বিষয়টি মিরাক্কেল। মেডিকেল সাইন্সে এরকম ঘটনার নজির নেই। এটা সৃষ্টিকর্তার কারিশমা। নাড়ি ছিড়ে পরে যাওয়ার পর ৪৭ মিনিট পাইপের ভিতরে আটকে ছিলো শিশুটি। তারপরও বেচে থাকার বিষয়টি তদন্ত কমিটিসহ হাসপাতাল কর্র্তপক্ষকে অবাক করেছে। ঘটনা তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। তবে ঘটনার জন্য ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ও কর্মচারীদের গাফলতির বিষয়টি ধরা না পরলেও হাসপাতাল পরিচালক নিজের পর্যবেক্ষন থেকে ওয়ার্ডে কর্মরত বেশ কয়েকজন নার্স ও কর্মচারীকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেছেন। সোমবার দুপুরে হাসপাতাল পরিচালক ডা: এইচ এম সাইফুল ইসলামের কাছে এক পৃষ্ঠার তদন্তপ্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। তদন্ত কমিটির সভাপতি বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা: মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে ৪৭ মিনিটের মত বাচ্চাটি টয়লেটের পাইপের মধ্যে আটকা ছিলো। মেডিকেল সায়েন্সে এরকম ঘটনার নজির নেই। বাচ্চাটি নাড়ি ছিড়েই পড়ে গিয়েছিলো। কোনো রক্তক্ষরণও হয়নি বাচ্চাটির। বাচ্চাটি কিভাবে বেচে আছে সেটা অলৌকিক, মিরাক্কেল। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটা এক্সপ্লেইন করার সুযোগ নেই। কমিটির সদস্য সচিব হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা: মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, টয়লেটের প্যানের সাথে পাইপ সরাসরি যুক্ত ছিলো। কোনো বাঁকা লাইন হয়ে পাইপের সাথে যুক্ত হলে বাচ্চাটি পরে যাওয়ার পর প্রানহানির শংকা থাকতো। কিন্তু পাইপটি সরাসরি টয়লেটের প্যানের সাথে যুক্ত হওয়ায় সরাসরি পাইপের মধ্যে পরে গেছে বাচ্চাটি। তাছাড়া বাচ্চাটির ওজন ছিলো এক কেজি ৩শ গ্রাম এবং আকারেও ছিলো স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। যে কারণে সহজেই টয়লেটের পাইপের মধ্যে পরে গেছে। বাচ্চার মায়ের প্রসব যন্ত্রনার মধ্যে মল ত্যাগের বেগ পেলে সে টয়লেটে যায়। মলত্যাগের জন্য টয়লেটে গেলেও সে মলত্যাগ করেনি, বরং বাচ্চা প্রসব করেছে। প্রথমে বিষয়টি সে টের পায়নি। আর তাছাড়া বাচ্চার নাড়িটি স্বাভাবিক ভাবেই ছিড়ে গেছে এমনটাই উঠে এসেছে তদন্তে। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। এক পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে কারো গাফলতির বিষয় উঠে আসেনি। রোগী তার স্বজনকে সাথে নিয়ে নিজে থেকেই মল ত্যাগের জন্য টয়লেটে যায়, আর সেখানেই বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। বাচ্চার নাড়ি ছিড়ে গিয়েছিলো, যে কারণে পাইপের মধ্যে কোনো বাধা ছাড়াই বাচ্চাটি ঢুকে গিয়েছিলো। পাশাপাশি বাচ্চার সাইজের থেকে পাইপের সাইজ বড় হওয়ায় বাচ্চাটি সহজে ঢুকে গেছে পাইপের মধ্যে। পরিচালক বলেন, প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে মা শিল্পী বেগমকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। সে এখন শিশু বিভাগে তার শিশুর কাছে রয়েছেন। শীঘ্রইরিলিজ দেয়া হবে তার শিশুকেও। প্রসঙ্গত, ৭ এপ্রিল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের টয়লেটে বাচ্চা প্রসব করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার জেলে নেয়ামত উল্লাহর স্ত্রী শিল্পী বেগম। বাচ্চাটি টয়লেটের পাইপে আটকে গেলে দীর্ঘ সময় পর শিশু বিভাগে থাকা টয়লেটের পাইপ ভেঙে উদ্ধার করা হয় বাচ্চাটিকে। এই ঘটনায় পরের দিনই তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT