ইজারা দেয়া হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির তিন ষ্টিমার ইজারা দেয়া হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির তিন ষ্টিমার - ajkerparibartan.com
ইজারা দেয়া হচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির তিন ষ্টিমার

3:02 pm , May 11, 2022

রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপদ যাত্রী পরিবহন বিপর্যয়ের মুখে

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠানের সীমাহীন উদাসীনতা অবহেলা ও অজ্ঞতায় রাজধানী সহ চাঁদপুর হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে নিরাপদ যাত্রী পরিবহন ক্রমাগত ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সাধারন যাত্রীগন জিম্মি বেসরকারী নৌযান ব্যবসায়ীদের কাছে। অভ্যন্তরীণ জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি’র হাতে নতুন পুরনো ৭টি যাত্রীবাহী নৌযান থাকার পরেও ঢাকার সাথে চাঁদপুর-বরিশাল হয়ে দক্ষিনাঞ্চলের দৈনিক রকেট স্টিমার এখন চলছে সপ্তাহে মাত্র দুদিন। আর ব্যয়বহুল দুটি নৌযান পরিচালনে প্রতি ট্র্রিপে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ সংস্থার হাতে ৪টি ব্যয় সাশ্রয়ী ও যাত্রী বান্ধব প্যাডেল জাহাজ থাকলেও ‘পিএস অস্ট্রিচ’ বিনা দরপত্রে ইজারা দেয়ার পরে অবশিষ্ট ৩টি দীর্ঘদিন বসিয়ে রেখে এখন ইজারা প্রদানে দর প্রস্তাব আহবান করেছে সংস্থাটি। রেলওয়ে থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করা স্ক্রু-হুইল যাত্রীবাহী নৌযান ‘এমভি সোনার গাঁ’র পেছনে অরো ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরে একইভাবে বিনা দরপত্রে আরেকটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারাদার নৌযানটি আবার সরকারী অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগীর ভুমিকায় রয়েছেন।
কিন্তু নিরাপদ যাত্রী সেবা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত রাষ্ট্রয়ত্ব বিআইডব্লিউটসি এখন তার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে সড়ে গিয়ে কতিপয় ইজারাদারের সেবায় ব্যস্ত বলেও অভিযোগ যাত্রী সাধারনের। ফলে বেসরকারী খাতের খামখেয়ালী ও নৈরাজ্যের কাছেই ক্রমাগত জিম্মি হয়ে পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীগন। এমনকি অতি সম্প্রতির ঈদুল ফিতরের আগে ও পড়ে সংস্থাটি রাজধানীর সাথে দক্ষিনাঞ্চলের নিরাপদ যাত্রী পরিবহনে কোন বিশেষ সার্ভিস দুরের কথা নিয়মিত সার্ভিসও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় আগ্রহ দেখায়নি। শুধুমাত্র ঈদের আগে ও পড়ের তিনদিন করে ব্যয়বহুল ‘এমভি বাঙালী’ ও ‘এমভি মধুমতি’র সাহায্যে যাত্রী পরিবহন করেই সব দায়িত্ব শেষ করেছে সংস্থাটি। ফলে ঈদে ঘরে ফেরা ও পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা অঘোষিতভাবেই বেসরকারী নৌযান মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। প্রতিটি বেসরকারী নৌযান ধারন ক্ষমতার তিনগুনেরও বেশী যাত্রী পরিবহন করলেও ভাড়াও আদায় করেছে বেশী। অথচ বিঅইডব্লিউটিসি’র জাহাজে যাত্রী ছিল না সঠিক পরিচালন সময়সূচী প্রনয়নে ব্যর্থতার কারণে।
রাষ্ট্রয়াত্ব সংস্থাটির বিদ্যমান ৪টি প্যাডেল জাহাজ তৈরী হয় ১৯৩৮ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে। বাস্পীয় প্যাডেল হুইল এসব নৌযানে ১৯৮০ থেকে ৮২’ সালে হাইড্রালিক গীয়ার সহ মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন সংযোজন করে পরিপূর্ণ পুণর্বাসন করা হয়। কিন্তু গীয়ারে ত্রুটির কারণে মাত্র ৩ হাজার ঘন্টা চলার পরেই নৌযানগুলো বিকল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৫Ñ৯৬ সালে মেকানিক্যাল গীয়ার সংযোজন সহ আরেক দফা পূণর্বাশন করে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে চালু করা হয়। ‘পিএস টার্ণ’ জাহাজটিতে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন সহ পুণর্বাসন করা হয় ২০০২ সালে। দীর্ঘদিন ‘পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ’ জাহাজগুলো অত্যন্ত নির্ভরতার সাথে যাত্রী পরিবহন করছিল। কিন্তু বছর চারেক আগে আকষ্মিকভাবেই কোন ধরনের দরপত্র আহবান ছাড়াই মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে পিএস অষ্ট্রিচ দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা প্রদান কর হয়। অপরদিকে পিএস লেপচা ও পিএস টার্ণ নানা অজুহাতে বসিয়ে রেখে ইজারার লক্ষ্যে প্রথম দফার দরপত্র আহবানের পরে দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি চলছে। পিএস মাহসুদ ৩ বছর বসিয়ে রেখে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত শেষে গত মার্চে যাত্রী পরিবহনে ফিরলেও মাস খানেকর মাথায়ই তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে ‘এমভি বাঙালী’ ও ২০১৫ সালে ‘এমভি মধুমতি’ নামের দুটি স্ক্র-হুইল যাত্রীবাহী নৌযান সংগ্রহ করে সংস্থাটি। কিন্তু এসব নৌযান যেমনি যাত্রী বান্ধব নয়, তেমনি এর পরিচালন ব্যয় প্যাডেল জাহাজগুলোর প্রায় আড়াইগুন বেশী। কিন্তু যাত্রী ধারন ক্ষমতা কম। ফলে ব্যয়বহুল এ দুটি নৌযানের পেছনেই ২০১৪ সাল থেকে সংস্থাটিকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশী পরিচালন লোকসান গুনতে হয়েছে। নিট লোকসানের পরিমান আরো বেশী। কিন্তু এরপরেও সংস্থাটির একটি মহল ব্যয়বহুল এসব নৌযান পরিচালনে রহস্যজনকভাবে আগ্রহী বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে গত এক দশকে সংস্থাটির যাত্রীসেবা ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় দুশ কোটি টাকা। তবে এ লোকসানের মধ্যে এমভি বাঙালী ও এমভি মধুমতি’র লোকসানই সিংহভাগ বলে জানা গেছে। উপরন্তু ১৯৯৬ সালের পড়ে প্যাডেল জাহাজগুলোর মূল ইঞ্জিন ও প্যাডেলের মেজর ওভারহলিং সহ তলা থেকে উপরীকাঠামোর পরিপূর্ণ কোন মেরামত না হওয়ায় জোড়াতালী দিতে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অথচ ৪টি প্যাডেল জাহাজের মূল ইঞ্জিন সহ এর অবকাঠামোর পরিপূর্ণ পূণর্বাসনের মাধ্যমে তা আরো অন্তত ২৫ বছর নির্বিঘেœ ও নিরাপদে পরিচালন সম্ভব বলে মনে করছেন একাধিক কারিগরি বিশেষজ্ঞ। তবে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর ৪০ বছরের অধিক বয়সী কোন নৌযানের সার্ভে সনদ দিতে রাজী নয় বলেই এসব প্যাডেল জাহাজ যাত্রী পরিবহনে দেয়া হচ্ছে না বলে দাবী সংস্থাটির কারিগরি ও বানিজ্য পরিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহলের। কিন্তু পিএস অস্ট্রিচ বেসরকারী ইজারায় দেয়ার পরে তা কিভাবে চলাচলের অনুমতি লাভ করেছে সে প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। কিন্তু এসব নৌযানের পরিপূর্ণ পুণর্বাসনের পরেও কেন তা যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেয়া হবে না সে বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে যাত্রী সাধারনের মধ্যে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংস্থাটি এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী জাহাজ দুটিও বেসরকারী খাতে ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে এগুচ্ছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে আহবানকৃত দর প্রস্তাবে মাসে সর্বোচ্চ ৫Ñ৬ লাখ টাকার প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ফলে অদুর ভবিষ্যতেই হয়তো রাষ্ট্রয়ত্ব এ সংস্থাটির যাত্রীসেবা () পরিপূর্ণভাবেই ইজারাদারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। এসব বিষয় নিয়ে বুধবার বিআইডব্লিউটসি’র চেয়ারম্যান, পরিচালক-কারিগরি ও পরিচালক-বানিজ্য’র সাথে সেলফোনে যোগোযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT