চরমোনাইতে মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনায় আহত একই পরিবারের তিনজন চরমোনাইতে মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনায় আহত একই পরিবারের তিনজন - ajkerparibartan.com
চরমোনাইতে মেয়ের শ্লীলতাহানির ঘটনায় আহত একই পরিবারের তিনজন

3:27 pm , May 10, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ আচমকা ঘরে ঢুকে কলেজ পড়ুয়া মেয়ের উপর হামলা, শ্লীলতাহানি ও তুলে নেয়ার চেষ্টায় বাধা দেওয়ার সময় বাবা-মা ও চাচাসহ একই পরিবারের তিনজনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী । সোমবার সকাল আটটার দিকে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নলচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সূর্য। ভুক্তভোগীরা তারই আত্মীয় হবার কারণে আহতদের চিকিৎসা দিতে এসে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বসে এ তথ্য জানান তিনি। আহতদের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার পর থানায় অভিযোগ করতে যেয়ে জানতে পারেন প্রতিপক্ষের লোকেরাই উল্টো তাদের নামে আগে ভাগে অভিযোগ করে বসে আছে। ফলে তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছেন বলে জানালেন এই ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। মেয়েকে তুলে নেয়ার চেষ্টায় বাধা দিয়ে আহত মা বিউটি বেগম বলেন, আমার মেয়ে কলেজে পড়ে। প্রতিবেশী সন্ত্রাসী গফ্ফার, জব্বার সিকদার সহ আরো সাত আটজন সন্ত্রাসী কলেজে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়শই মেয়েকে উত্যক্ত করতো। ঘটনার আগেরদিন রাতে ওরা আমার মেয়েকে তুলে নিতে পারে জানতে পারি। তাই ৯৯৯ এ ফোন করে দেবর সেন্টু মোল্লা। কিন্তু সকালেই ওরা দশ-বারোজন এসে হামলা চালায় ও মেয়েকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আমাদের মারধর করে। চাচা সেন্টু মোল্লা বলেন, আমি ৯৯৯ এ ফোন দিলে তারা প্রথমে বলেন, অনুমানের উপর কি করে এটা বলতে পারেন, আগে ঘটনা ঘটলে তবে জানাবেন। বেশি সমস্যা মনে হলে থানায় জিডি করারও পরামর্শ দেন তারা। কিন্তু অতো রাতে আমরা থানায় যেতে পারিনি। পরদিন সকালেই হামলা চালায় ফারুক, গফ্ফার, জব্বার সিকদার সহ আরো কয়েকজন। সেন্টুর হাতে পায়ে কোপের চিহ্ন, বাবা চান্দু মোল্লার মাথায় কোপের দাগ। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে পরে আছেন শেবাচিমে। কলেজ পড়ুয়া মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা বলেন, আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। আর কিছু চাইনা। আমার মেয়ের জীবন যেন নষ্ট না হয় দয়া করে দেখবেন। তাদের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথমার্ধের ছাত্রী জানান, গফ্ফার ও জব্বার তাদের প্রতিবেশী। গত দেড়মাস ধরেই ওরা কয়েকজন একত্রিত হয়ে পথেঘাটে জ্বালাতন করে আসছিল। সোমবার সকালে আমি কলেজে যাবার সময় আচমকা হামলা চালায় ও আমাকে বলাৎকার করার চেষ্টা করে। আমার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে ও হাতাহাতি হয়। পরে আমি ঘরে ঢুকে গেলে ওরা আমাকে ঘর থেকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় আমার বাবা চাচা ও মায়ের উপর হামলা করে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের জখম করেছে। আমাকেও মারধর করেছে বলে জানান কলেজ ছাত্রী মেয়েটি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত গফফারের নম্বরে ফোন করলে জব্বার সিকদার ফোন রিসিভ করে বলেন, সে কলেজে পড়ে আমার অনেক সিনিয়র। আমি তাকে কিছুই করিনি। আমার মাথা ব্যাথা করছে। পড়ে কথা বলবো। বলেই ফোন কেটে দেয়। আর রিসিভ করেনা কেউ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিমুল করিম জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষী অবশ্যই শাস্তি পাবে। বিষয়টি শুনে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিলেন পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) শাহাবুদ্দিন খান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT