আবারও তেলের তেলেসমাতি ॥ দাম বাড়ার পরও সরবরাহ নেই বাজারে আবারও তেলের তেলেসমাতি ॥ দাম বাড়ার পরও সরবরাহ নেই বাজারে - ajkerparibartan.com
আবারও তেলের তেলেসমাতি ॥ দাম বাড়ার পরও সরবরাহ নেই বাজারে

3:07 pm , May 7, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে আবারও তেলের তেলেসমাতি কারবার শুরু হয়েছে। বরিশালের বাজারে কোথাও নেই সয়াবিন ও পাম তেল। শনিবার নগরীর সাগরদি, বাংলা বাজার, চৌমাথা ও পোর্ট রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ দোকানে তেল নেই। অথচ গত এপ্রিলেই ভোজ্যতেলের বাজারের অস্থিরতা কমাতে আমদানি-পাইকারি-খুচরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ভ্যাট কমিয়েছে সরকার। এরপর নির্ধারণ করা হয়েছে তেলের নতুন দাম। তারপরও বাজারে বেশি দামে সব ধরণের ভোজ্যতেল বিক্রি করেছে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা। রোজার আগেও এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৬৫ টাকা। সেখান থেকে ৫ টাকা কমে ১৬০ টাকায় নেমেছিল। এরপর ১৫ রোজা থেকেই শুরু হয় সংকট। এবার তারা কৌশলে তেলের সাথে এটা ওটা অপ্রয়োজনীয় পণ্য ধরিয়ে দেয়া কিম্বা সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া শুরু করে। যা দেখে স্বয়ং বাণিজ্য মন্ত্রীও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ফুটপাতের হকাররা এদের তুলনায় ভালো। তারা অন্তত একটা কিনলে একটা ফ্রী দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নিজেই এবার তেলের দাম বাড়িয়ে লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা ঘোষণা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৫ মে এ দাম বৃদ্ধি করে সরকার। নতুন দাম অনুযায়ী সয়াবিন তেলের পাঁচ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৮৫ টাকা। আগে এর দাম ছিল প্রায় ৭৬০ টাকা। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম হবে এখন ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য হবে ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা। সেই হিসাবে পাম তেলের দাম বেড়েছে ২৪%। আর সয়াবিনের দাম খুচরায় বেড়েছে ২৮%, বোতল জাতের ক্ষেত্রে ২৫%। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারপরও তেল নেই বাজারে। বরিশালের প্রায় সব খুচরা বিক্রেতাদের দাবী তেল পাচ্ছেন না তারা। শুধু বরিশালের ব্যবসায়ীরাই নয়, সারা বাংলাদেশেই এই সংকট তৈরি করে রেখেছে একদল সি-িকেট ও ডিলার। আর অভিযোগ খোদ প্রশাসনেরই। বরিশালের পোর্ট রোড বাজারের সিদ্দিক জেনারেল স্টোর মালিক সিদ্দিক বলেন, রোজার সময় এখানের সয়াবিন তেলের ডিলাররা ছোলা ডাল কিম্বা সরিষার তেল সাথে কিনতে বাধ্য করেছিলো। এখন ওসব কিছু নাই, সোজা জবাব তেল নাই। সয়াবিন ও পামওয়েল ছাড়া অন্য কিছু নিন। নগরীর বাংলা বাজারের বাংলা বাজার স্টোরের মালিক জানান, বিক্রয় প্রতিনিধি কেউই গত কয়েকদিন আসেনি। আমরা ফোন করলে কেটে দিচ্ছে। এর আগে রোজার সময় বিক্রয় প্রতিনিধিদের অনেক বলার পর মাত্র ৩ কার্টুন তেল সরবরাহ করেছিলাম। তার সঙ্গে শর্ত অনুযায়ী তাদের কোম্পানির চা পাতার দুটি প্যাকেট নিতে হয়েছে। ফ্রেস কোম্পানির বরিশালের এসআর নাজমুল হোসেন বলেন, বাজারের চাহিদানুযী কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা নেই। আমরাই এখন তেল পাচ্ছি না। তার উপর বর্তমানে সয়াবিন তেলের দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। আগে যে ৫০ লিটার কিনতো এখন সে ১৫০ লিটার অর্ডার করছে। এতেও সংকট তৈরি হচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ কুমার দত্ত বলেন, ‘সয়াবিন তেলের বাজারে এখন একধরনের নৈরাজ্য চলছে। এ ক্ষেত্রে সরকার মূল্য বাড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। কিন্তু বাজারে সয়াবিনের চাহিদা ও জোগান আছে কি না, সে ব্যাপারে উদ্যোগ দেখছি না। তাই বাজার পরিস্থিতি বেসামাল। এখন সরকারের উচিত সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে জোগান নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগী হওয়া।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT