তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষহীন চার বছর ॥ ঝরে গেছে চারশত শিক্ষার্থী তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষহীন চার বছর ॥ ঝরে গেছে চারশত শিক্ষার্থী - ajkerparibartan.com
তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষহীন চার বছর ॥ ঝরে গেছে চারশত শিক্ষার্থী

3:11 pm , April 26, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ স্কুল এন্ড কলেজ কমিটি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ফলে অধ্যক্ষহীন চার বছরে ঝরে গেছে প্রায় চারশতের বেশি শিক্ষার্থী। তাই সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণ চায় বরিশালের সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অবিভাবকেরা। এই প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা ও সে অনুযায়ী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির দাবী সকলের। জরুরী অধ্যক্ষ নিয়োগ, কমিটি প্রথার বিলুপ্তিসহ সুশিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এখানের শিক্ষার্থী ছাড়াও সাধারণ গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা। সরেজমিনে বরিশালের সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদার হাটে অবস্থিত তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল ও কলেজের পিছনে দেয়াল ঘেঁষে তৈরি হয়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গত চার বছর ধরে প্রতিষ্ঠান সামলানোর চেষ্টা করলেও কমিটি সংক্রান্ত জটিলতায় তাকে গুরুত্ব দেয়া হয়না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের একজন দাবী করেন, অতীতের কোনো একসময়ে তাদের জমি দখল করে স্কুল এন্ড কলেজের ভবন নির্মাণ করেছে এই অঞ্চলের দানবীর বলে পরিচিত আহঞ্জী বা বর্তমানের তালুকদার বাড়ীর লোকেরা। তাই এই স্কুল ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতার ভাই অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর তালুকদারকে হটিয়ে তারা নতুন করে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করছেন। তাদের নিজস্ব জায়গা বুঝে নিতে স্কুল ও কলেজের সাথে মামলাও লড়ছেন বলে জানান প্রভাবশালীদের একজন। তবে চাঁদপুরা ইউনিয়ন পার হয়ে ওপার চরামদ্দি ইউনিয়নের সঠিখোলা গ্রামের তাজল, নূরু জমাদার ও রানা, জাকির দফাদারদের দাবী, এরা ষড়যন্ত্র করে অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম কে সরিয়েছেন। তার সময় স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নত ও মানসম্পন্ন ছিলো। পরবর্তীতে জিল্লুর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ জাকির তালুকদারকে এখানে নিয়োগের প্রক্রিয়ায়ও বাঁধা দেয় এই কুচক্রী মহল। এরা সমাজের নয়, শুধু নিজের ভালোটাই ভালো বোঝে। এরাই উপজেলা নির্বাহী ও ভূমি কর্মকর্তাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিব্রত করছে বলে দাবী এই গ্রামবাসীর। আর সাবেক অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির বরিশাল শাখার সভাপতি ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর তালুকদার বলেন, ১৯৭২ সালে আমার বড়ভাই প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব প্রয়াত সরোয়ার আলম মন্টু তালুকদার আগে নিজেদের বাড়ীর জমি স্কুল ও কলেজের জন্য দান করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের ডেকে তাদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে জমি দিতে উৎসাহিত করেন। এসময় আশেপাশের প্রভাবশালী জমিদার ফজলে আলী খা, কেরামত দর্জি, হাজী রহম আলী খা সহ আরো অনেকের সাথে আলোচনা এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তাদের মধ্যে দু একজনের জমি স্কুল এলাকায় ছিলো। স্কুলের জমির বদলে তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে বদলী জমি দেয়া হয়েছে। তাদের সন্তনরা এসে কৌশলে ভোগদখলের জমি ও স্কুলের জমি তাদের নামে পরচা করে নিয়েছে। তারাই এখন কলেজে তাদের জমি অভিযোগ তুললে কার কি বলার থাকে? তারাতো তাদের পূর্বপুরুষদের অপমান করছেন। আমরাতো ঋণ পরিশোধ করে তবেই স্কুল এন্ড কলেজ ভবনের কাজ শুরু করেছিলাম অসময়ের কলেজ কমিটির তত্বাবধানে। যেখানে আজ তিন হাজারের মতো ছাত্রছাত্রী নিয়মিত পড়াশুনা করছে। এ কথার সত্যতা স্বীকার করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাজহারুল ইসলাম কালাম খান সহ গ্রামবাসী অনেকেই। কালাম খান বলেন, কমিটি সংক্রান্ত একটি মামলা আমি তুলে নিয়েছি। কারণ গত চার বছরে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়ে চারশত জনের বেশি ছাত্রছাত্রী স্কুল ও কলেজ ছেড়ে চলে গেছে বলে শুনেছি। এখানে জরুরী অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে সুশিক্ষা ফিরিয়ে আনার বিনীত অনুরোধ জানাবো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। আর গ্রামবাসীর দাবী, আশেপাশের ৫০ গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই স্কুল এন্ড কলেজের উপর নির্ভরশীল। চরকাউয়া, চরামদ্দি, চন্দ্রমোহন ও টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়ালেখা করছে। কারণ তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজের যথেষ্ট সুনাম বরিশাল বিভাগে। অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর তালুকদার এর সময়ে বোর্ডে প্লেস পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে এই স্কুল এন্ড কলেজের। কিন্তু বর্তমানে কমিটি নিয়ে দ্বন্ধ, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগে কারচুপির চেষ্টা ইত্যাদি অভিযোগে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুশিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এমনকি কলেজ ও বাজারের খাসজমি ফেলে রেখে ব্যক্তিগত জায়গা দখল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে প্রভাবশালীরা। এদিকে এ বিষয়ের কোনো অভিযোগ প্রশাসন আমলে নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ জানান গ্রামবাসী। বাজারে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসা প্রবীণ সবজী বিক্রেতা আলতাফ হাওলাদার বলেন, প্রশাসনের লোকেরা বলে হাটের জায়গা স্কুল বা কলেজ নাকি খেয়ে নিছে। যদি খেয়েও নেয় সেটা সমাজের ভালোর জন্য হয়েছে। তারমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব বেড়েছে। প্রশাসনেরতো উচিত খালপাড় সংলগ্ন খাস জমিতে হাটের জায়গা বৃদ্ধি করে দিয়ে ডাকের টাকা হালাল করা। ব্যাক্তিগত জায়গায় হাট বসিয়ে সে টাকা কি করে নিচ্ছেন তারা? বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এই তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজ এলাকার ৮০ ভাগ জমি তালুকদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। স্কুল এন্ড কলেজের জায়গাও তাদের, হাটের জায়গাও তাদের? সরকারি খাসজমি পূরদিকে মাত্র ২৪ শতক। সেখানে সেটা না করে তিনি হাটের ভিতর মানুষ থাকার জন্য ঘর বানাচ্ছেন। তাও ঝুকিপূর্ণ জায়গায়। ঐ ঘরের নারী, শিশুদের কথা ভাবলে এটা তারা করতে পারতেন না। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ খান বলেন, হাঃ প্রতিবছরই তালুকদার হাটের ডাক হয়। এবার হাটের ডাক করিয়ে দুই লক্ষ টাকা নিয়েছেন উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। খুব শীঘ্রই হাট ও স্কুলের একটি কমিটি গঠনের ইচ্ছে আছে। আমি চাই তালুকদার হাট স্কুল এন্ড কলেজটি বরিশালের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত জাহিদ চেয়ারম্যান। প্রবীন রাজনীতিবিদ আলী আজিম খা ও এখানকার ব্যাবসায়ীদের দাবী, হাট, স্কুল ও ঘর সবই সরকারের। পড়াশুনা আগে না চারপাঁচটা ঘরের জন্য স্কুল ও বাজারের ক্ষতি আগে। কোনটা? শুক্রবার ও সোমবার দুদিন বাজার বসে এখানে। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের উচিত বাজারের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্কুল ও কলেজের সমস্যা আগে সমাধান করার দাবী সকলের।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT