অনিয়ন্ত্রিত ছোট লঞ্চে ঝুকিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রা অনিয়ন্ত্রিত ছোট লঞ্চে ঝুকিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রা - ajkerparibartan.com
অনিয়ন্ত্রিত ছোট লঞ্চে ঝুকিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রা

3:17 pm , April 23, 2022

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ॥ এবারের ঈদে যাত্রীদের নিরাপদ নদী পারাপারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছোট নৌযানগুলো। এগুলোর বেশিরভাগই ঝুকিপূর্ণ এবং অবৈধ বলে দাবী পাটুরিয়া ও শিমুলিয়ার সাধারণ যাত্রীদের। এই মূহুর্তে দুই ঘাটে ৪০টির মত ছোট লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদকে সামনে রেখে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। ফলে বৈশাখের এই সময়টাতে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন স্বয়ং নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গত ২২ এপ্রিল মাওয়া ঘাটের মাঝিরঘাট অংশের লঞ্চে দেখা গেছে চরম অব্যবস্থাপনা। বর্তমানে মাঝিরঘাট-শিমুলিয়া নৌপথে ২০টি লঞ্চে যাত্রী পারাপার করা চলছে। আর এখানের ফেরিঘাট ব্যবহার করে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ যানবাহন পারাপার করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার যাত্রীর পারাপার এখনের লঞ্চ ও ফেরীতে। ঈদের সময় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে পায়। পদ্মা পারাপারে যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘœ করতে এই ঘাটে নতুন করে আরও একটি ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়েছে, তবে এখনো ফেরী চলাচল বন্ধ আছে। তবে লঞ্চ ও স্পীড বোট চলছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবেই। ২২ এপ্রিল বিকালে কোনোরকমের যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই মাঝিরঘাটের বেশ কয়েকটি লঞ্চ ঝড়ো হাওয়ার মধ্যেই যাত্রা করে ও পথে তাদের আটকে দেয় কোস্টগার্ডের নিরাপত্তা রক্ষীরা। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে লঞ্চের নীচতলায় আশ্রয় নিয়েও ভিজতে হয় বেশিরভাগ যাত্রীকে। এ বিষয়টি পর্যালোচনা করেই আসন্ন রোজার ঈদে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের লক্ষ্যে ৩৮টি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এসব প্রস্তাবনায় পহেলা জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত ৮ দিন দিনের বেলায় বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের কথা রয়েছে। এছাড়া যাত্রীবাহী গাড়ি পারাপারের সুবিধার্থে ঈদের আগে ও পরে সাত দিন ফেরিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ছাড়া অন্যান্য ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পারাপার বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে প্রস্তাবে। কালবৈশাখী মৌসুম থাকায় লঞ্চের নিরাপত্তায় বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা রয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রতিটি লঞ্চের ছাদের সঙ্গে দুইশ’ থেকে তিনশ’ ফুট দৈর্ঘ্যরে রশিতে বড় প্লাস্টিক কনটেইনার বা বয়া বেঁধে রাখার কথা বলা হয়েছে- যাতে লঞ্চ ডুবে গেলে তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা যায়। এদিকে যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না দেয়াসহ ২৪টি দাবিনামা তৈরি করেছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থাও। এসব দাবির মধ্যে ‘অহেতুক মামলা’ না দেয়াসহ মালিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এদিকে শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও শিমুলিয়া বাংলাবাজার এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদযাত্রী নিরাপদে পারাপার করার ব্যবস্থা করাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সয়ং বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ । দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম মাওয়া ও পাটুরিয়া অঞ্চলের এসব রুটে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও শিমুলিয়া বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। মাঝিরকান্দিতে মাত্র একটি ফেরিঘাট রয়েছে। নেই পার্কিং ইয়ার্ড। ঈদের আগে সেখানে আরেকটি ফেরিঘাট ও পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা না হলে যাত্রী ও গাড়ি পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কা করে বিআইডব্লিউটিএকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। অপরদিকে আরিচা ফেরিঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে গরু বিক্রির হাট হিসাবে। শিমুলিয়ার দুটি ফেরি রুটে বড় গাড়ি পারাপার বন্ধের জেরে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া এসব রুটে চলাচলকারী সানকেন (নিমজ্জিত) ডেক বিশিষ্ট ছোট আকারের লঞ্চে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো। যদিও সম্প্রতি এক সভায় এসব লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেরিঘাটের সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, ঘাট সমস্যা নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির একাধিক চিঠি আমরা পেয়েছি। এসব বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত রয়েছে। মাঝিরকান্দিতে আরেকটি ফেরিঘাট ও একটি পার্কিং ইয়ার্ড করার বিষয়টি জমি পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেতু বিভাগ জমি দিলেই ঘাট তৈরি করা হবে। আরিচার পার্কিং ইয়ার্ডে গরুর হাট বসানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ওই জায়গা অব্যবহৃত থাকায় জেলা প্রশাসন সেখানে বাজার ইজারা দিয়েছে। প্রয়োজন হলে সেটি আমাদের আওতায় নিয়ে আসব। ইতিমধ্যেই মাঝিরঘাট থেকে লঞ্চঘাট সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মাঝিরঘাটে নতুন করে আরও একটি ফেরিঘাট নির্মাণ ও লঞ্চ চলাচলে ঝুঁকি কমাতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সরেজমিনে গত শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে স্থাপন করা লঞ্চঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার হতেও দেখা গেছে। মাঝিরঘাট লঞ্চঘাটের ইনচার্জ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সার্জন আবদুল্লাহ ইনয়াম জানান, ‘ঈদের সময় মাঝিরঘাট ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপারের সুবিধার্থে নতুন করে আরও একটি ফেরিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ঘাটে থাকা একমাত্র ঘাটের পাশে লঞ্চঘাট সরিয়ে নতুন এই ঘাটের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে।’ নতুন ফেরিঘাট স্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার রাতে মাঝিরঘাট লঞ্চঘাটটি বর্তমান অবস্থান থেকে ২০০ মিটার পূর্বদিকে জিরো পয়েন্ট এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ২২ এপ্রিল সকাল থেকে নতুন ঘাট দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নতুন ঘাট ব্যবহার করে চলাচল করতে ঘাট এলাকায় মাইকিং অব্যাহত আছে। তবে আশার কথা ঢাকা বরিশাল নৌরুটে ঈদকে ঘীরে চমৎকার উৎসবমূখর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার এর নির্দেশনা মেনে নৌ পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত বরিশাল নৌ বন্দর এলাকা টহল দিচ্ছেন বলে জানালেন বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT