নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ববি ক্যাম্পাস নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ববি ক্যাম্পাস - ajkerparibartan.com
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ববি ক্যাম্পাস

3:22 pm , April 11, 2022

কাজী মিজানুর রহমান ॥ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সংক্ষেপে বিইউ বা ববি হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দেশের ৩৩তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কীর্তনখোলার কোল ঘেষে নদীর পূর্বতীরে কর্ণকাঠী এলাকায় ৫০ একর জমির উপর এটি বিস্তৃত। জ্ঞানই শক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলমন্ত্র। বরিশাল শহর থেকে প্রায় ২ কিঃমিঃ দূরত্বে ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের পূর্বতীরে এর অবস্থান। প্রশাসনিক, একাডেমিক ভবন ছাড়াও এখানে ভিসির বাসভবন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি হল বা ডরমেটরি আছে।এগুলো হলো বঙ্গবন্ধু হল, শেরেবাংলা হল, শেখ হাসিনা হল এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল খেলার মাঠ আছে,আছে সুদৃশ্য মসজিদ। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার আছে তবে গুরুতর ক্ষেত্রে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী পাঠাতে হয়। দেশে সাপের সংখ্যা দিনদিন কমছে ,এর বড় কারন নগরায়ন। জনবসতি বাড়ার কারনে প্রচুর সাপ মারা পড়ছে এবং সাপের আবাস নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ যে সব জায়গায় থাকা শুরু করছে সেখান থেকে সাপ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সাপ বেশির ভাগ সময় একাকী ঘুরে বেড়ায়। গত ৮-৯ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর আশেপাশে প্রতিবছর ২-৪টি সাপ মানুষের হাতে মারা যাচ্ছে। তবে মানুষ কামড়ানো/দংশনের কথা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ বা তেমনভাবে শোনা যায়নি। এবছর এপ্রিলের শুরুতে ববির ‘বঙ্গবন্ধু হলে’র সামনে থেকে একটি গোখরো সাপ পিটিয়ে মারা হয়েছে। মৃত সাপটিকে গুগল লেনস “কিং কোবরা” বলছে। এ বিষয় আমার পড়াশুনা সীমিত তাই এটি কিং কোবরা কিনা তা নিশ্চিত নই। তবে এটা যে গোখরো, সাধারণ দৃষ্টিতে তা বলা যায়। মৃত সাপটির মাথার ফনার উপরে গরুর খুর বা চশমাকৃতির চিহ্ন আছে। সাপভেদে এই ফনার উপরের চিহ্নের বিভেদ আছে। স্বাভাবিকভাবে এদের মাথা চাপা তবে ভয় পেয়ে আত্মরক্ষাকালে ফনা বিস্তারের সময় প্রসারিত হয়। পূর্বে ববি’র ভিসির বাসভবনের কাছেও একটি বিষধর সাপ মারা পড়ার কথাও শোনা গিয়েছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঐ এলাকায় মানুষের বাসস্থান, ফসলের ক্ষেত, পুকুর, নি¤œভূমি, বাঁশঝাড়, জঙ্গল ছাড়াও বিভিন্ন স্থাপনা ছিল। এদের শুকনো জঙ্গলের মাটিতে, ইদুরের গর্তে, বসতবাটিতে স্তুপকৃত কাঠ বা খড়ের নীচে, পুরনো বাড়ির ইটের স্তুপের নীচে দেখা যায়। ধারনা করা যায় এখানে সাপগুলির আস্তানা আগে থেকেই ছিল। স্থাপনা নির্মানের কারনে কিছু বাস্তচ্যুত হয়েছে নয়ত মারা পড়েছে। আশে পাশের এলাকায়ও সাপের আবাসস্থল থাকতে পারে। সারা দেশে গোখরো সাপের কামড়ে বহু মানুষ মারা যায়। গোখরো সাপের দংশনের পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে ১৫ -২০ মিনিটের মধ্যে মানুষ মৃত্যুবরণ করে। দংশনের সময় গোখরো প্রায় ১৬৯-২৫০ মিলি গ্রাম বিষ ঢেলে দেয়। বাস্তবে একমাত্র আক্রান্ত না হলে কোন সাপ কাউকে কাটেনা। প্রাণীবাদীরা বলেন,”সাপ হিংস্রতো নয়ই বরং অত্যন্ত লাজুক প্রাণী।” সাপকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়, ইদুরসহ পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রাণঘাতী সাপের বিষ থেকে এখন তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ। গোখরোর বিষে রয়েছে পটাসিয়াম সায়ানাইড, যা দিয়ে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ তৈরি হয়। হার্টের বা স্ট্রোকের মত রোগের ঔষধ তৈরিতে এই বিষ খুবই কার্যকর। সাপে কাটা রোগীর যে অ্যন্টিভেনম ইঞ্জেকশন দরকার সেটিও বানাতে প্রয়োজন হয় ওই বিষের। আমাদের দেশে মোট ৮১ প্রজাতির সাপ পাওয়া যায় তার মধ্যে ২৭ টি বিষধর। আমরা সাপ মারার পক্ষে নই, তবে সহঅবস্থানও ঝুঁকিপূর্ণ । বাস্তবতা হল এই ক্যাম্পাসে মাঝে মধ্যে দু- চারটা সাপ মারা পড়ছে। ক্যাম্পাসে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীসহ প্রতিদিন কয়েকহাজার মানুষের উপস্থিতি এখানে, ক্যাম্পাসে বিষধর সাপ আছে এটা প্রমানিত। যে কোন বিবেচনায় এটা ঝুঁকিপুর্ন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রনে বন বিভাগ প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে পুরো এলাকা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষধর সাপের হদিস পাওয়া গেলে উদ্ধারকরে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দিতে পারে। এর বাইরে বন বিভাগের সাথে একটি হটলাইন স্থাপন করা গেলে সুফল দিতে পারে। ববি তে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সাপের বিষয়ে সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন করলে সবাই উপকৃত হতে পারে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি সহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক এন্টিভেনাম মজুত রাখা জরুরি। সাধারন নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান এন্টিভেনাম শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপদ্রুত এলাকায় সকল হাসপাতালে মজুদ নিশ্চিত রাখা আবশ্যক। জীবন অমূল্য।
লেখক পরিবেশ ও সমাজকর্মী।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT