ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগে কোতয়ালী থানায় শিক্ষার্থীর মায়ের মামলা ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগে কোতয়ালী থানায় শিক্ষার্থীর মায়ের মামলা - ajkerparibartan.com
ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগে কোতয়ালী থানায় শিক্ষার্থীর মায়ের মামলা

3:27 pm , March 30, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ এনে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রী আবিরা ছরোয়ার শেফার মা মৌসুমী আক্তার এ মামলা দায়ের করেন। শেফা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী এবং নগরীর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ারের মেয়ে।
আসামীরা হচ্ছে : নগরীর বগুরা রোডের বাসিন্দা ফাতেমা খাতুন চম্পা ও তার মেয়ে সাবিকুন নাহার শশি এবং নগরীর মতাসার এলাকার তাওসিফ মাহমুদ স্বাধীন ও আসাদ ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলার বাদী ছাত্রীর মা মৌসুমী বলেন, কয়েক মাস আগে শশিকে ডাকতে তার বাসায় যায় শেফা। এ সময় শশি ও আসাদকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পায় শেফা। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শেফাকে অনুরোধ করে তারা। শশি ও আসাদ বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশংকায় শেফাকে ফাঁদে ফেলতে চক্রান্ত করে। এতে শশির মা ফাতেমা খাতুনও সহায়তা করেন। চক্রান্ত অনুযায়ী আসাদ তার বন্ধু স্বাধীনকে দিয়ে শেফাকে প্রেমের প্রস্তাব দেবে এবং শেফার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। যা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রকাশ পায়। চক্রান্ত অনুযায়ী আসাদ তার বন্ধু স্বাধীনকে শেফার সাথে পরিচয় করায়। এর কিছুদিন পর স্বাধীন প্রেমের প্রস্তাব দেয় শেফাকে। শেফা প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করা শুরু করে স্বাধীন। গত ১১ সেপ্টেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে স্বাধীন তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে শেফার পথরোধ করে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায স্বাধীন টানা হেঁচড়া করে এবং শেফাকে মারধর করে। শেফার চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর আবারো তাদের চক্রান্ত সফল করতে শেফাকে স্বাধীন উত্যক্ত করা শুরু করে। সর্বশেষ গত ৩০ নভেম্বর পরীক্ষা দিতে স্কুলে যায় শেফা। পরীক্ষা শেষে শেফাকে ডেকে স্কুলের সামনে নিয়ে যায় শশি। সেখানে শশির মা ফাতেমা খাতুন, আসাদ ও স্বাধীকে দেখে শেফা চলে যেতে চাইলে পথরোধ করা হয়। এক পর্যায়ে তারা আবারো শেফাকে মারধর করে। শেফার বাবা ওসি ছরোয়ার বলেন, বিষয়টি স্কুলের এক শিক্ষককে অবহিত করা হয়। কিন্তু এরপর অভিযুক্তরা আরো বেপরোয়াভাবে শেফাকে উত্যক্ত করতে থাকে। এমনিক স্কুল ও কোচিং সেন্টারে শেফার নামে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন কথা এবং নানা ধরনের কুৎসা রটায়। হয়রানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায শেফা বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। শেফা কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাকে সুস্থ করতে মানসিক চিকিৎসক দেখানো হয়েছে। এ অবস্থায় বিলম্ব হলেও আমার স্ত্রীকে দিয়ে মামলা দায়ের করাতে বাধ্য হয়েছি বলে জানান ওসি।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে শশি বলেন, শেফা আমার অনেক ক্ষতি করেছে। সে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি বহু মানুষকে দিয়েছে। তারা আমাকে মোবাইল করে হয়রানি করে আসছিল। এমনিক আমার মা মোবাইলে এ বিষয়টি শেফাকে জিজ্ঞাসা করলে তাকে গালাগাল দেয়। পরবর্তীতে স্কুলে এসে গালাগাল দেয়ার কারন জানতে চাইলে আমাকে চড় মারে। প্রতিউত্তরে আমিও তাকে চড় মারি। এখন উল্টো আমার ও আমার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি শুরু করেছে তার ওসি বাবা।
সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা হোসেন বলেন, ঘটনার চার মাস পর গত মঙ্গলবার দুপুরে শেফা বাবা ওসি গোলাম ছরোয়ার আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাকে শেফাকে মারধরের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ারের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার বাদী হয়ে তার মেয়েকে উত্যক্ত ও মারধরে অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT