অতীত শুনেছি, দেখছি বর্তমান দেখবো সুদুর ভবিষ্যৎ অতীত শুনেছি, দেখছি বর্তমান দেখবো সুদুর ভবিষ্যৎ - ajkerparibartan.com
অতীত শুনেছি, দেখছি বর্তমান দেখবো সুদুর ভবিষ্যৎ

3:32 pm , March 23, 2022

॥ আজমল হোসেন লাবু ॥
তবে নির্ভয়ে যখন তিনি লেখেন সেই লেখার একটা বিশেষ গুণ থাকে সেটা হলো, কোন না কোন ভাবে নিজের এবং তাপু অর্থাৎ স্ত্রীকে সম্পৃক্ত করা। এ ব্যাপারে তার মতো এতোটা সাবলীল আর কাউকে দেখেছি মনে পরে না। বিষয়টি নিঃসন্দেহে অদ্ভূত। আসলে এতটাই অদ্ভূত অসাধারন মানুষ মুকুল দাস। যার সাথে এমন কথাগুলিও প্রকাশ্যে সহজেই আলোচনা করা যায়। একটা সময় স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন, কিছুদিন সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত ছিলেন। নাটক না দেখে তার মতো নাট্য সমালোচনা লেখবার যোগ্যতা সে খুব কম লোকের দেখেছি। উদাহরণ: বরিশাল নাটকের নাটক ‘সখিনা’ মেহেন্দিগঞ্জে মঞ্চায়ন শেষে মুকুলদা লিখলেন ‘অত্যন্ত সফল হয়েছে নজমুল হোসেন আকাশের নাটক ‘সখিনা।’ চরিত্র বিশ্লেষণ করতে যেয়ে তিনি লিখলেন ‘টেনু চরিত্র যিনি অভিনয় করেছেন, তাকে দেখে মনে হয়েছে এ যেন টান বাজারের টেনু।’ অথচ আমরা জানি তিনি নাটক দেখতে আমাদের সঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জেই যান নি! বরিশালের প্রদর্শনী দেখেই মেহেন্দিগঞ্জেরটা চালিয়ে দিয়েছেন। দারুন প্রশংসিত হয়েছিল তার সেই লেখা। অনেকেই অনুসন্ধানী হয়েছিল তার টানবাজার জ্ঞানের প্রতি।
নিখিলদা মুকুলদার কেমিষ্ট্রি শুরুতে কিছুটা হালকা উপস্থাপিত হয়েছে। দাদা থাকলে আরো অনেক রসালো কিছু অবশ্যই লেখা যেতো। হলো না তা। তবে মানবদার সাথে মুকুলদার কেমিষ্ট্রির কিছু স্যাম্পেলতো দেওয়া যেতেই পারে। সে দিন আমরা সবাই অপেক্ষায় বনার মিটিংটা শুরু হতে একটু দেরি হচ্ছিলো। এলেন মানবদা, এসেই মুকুলদাকে উদ্দেশ্য করে বললেন ‘কে মুকুলদা নাকি? ভালো আছেন দাদা? নমষ্কার।‘ দেখলাম মুকুলদা খুব গম্ভীর। আমরা জানতে চাইলাম কি ব্যাপার দাদা কি হয়েছে? মানবদা হাসতে পকেট থেকে একটি মোবাইল মেসেজ আমাদের সামনে ধরে বললো দেখো। ওর মিসকল ধরিনাই দেইখ্যা কি লেখছে দেখো। আমরা মেজেজ পড়ে স্তম্ভিত, যার পরনাই বিস্মিত। সেখানে লেখা ‘আরে কাইস্টা বাওন, আপনা গলিমে কুত্তাভি শের হোতা হ্যায়।‘ আমরা কি ভাবতে পারি মানবদা কে এমন ভাষায় কিছু লিখবার বা বলবার কথা? এ সম্ভব কেবল কোনদিন না ফোটা এই মুকুলের পক্ষেই।
মুকুলদা মাঝে মাঝে সে বেশ কিছু গল্প, কথার ছলে বলে ফেলেন। সে মজার কথাগুলি লিখবার নয় কখনো নিজের ভিতরে ধারন করতে ব্যর্থ হয়ে মুরাদ, মিরণ কিংবা খুব কাছের দু-একজনকে বলে হালকা হতে হয়। তবে মুরাদ মিরণের কান থেকে সে সব গল্প পাচ কান হয়েছে কিনা সে কথা আমি বলতে পারবো না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া আমিও কাউকে বলিনি। এরকমই তার মুখে মুখে বলা এক অসাধারন গল্প ‘কেন হবে না, হবে হবে।’ এটি আমার মনে হলে প্রায়শই একা একা যখন তখন যেখানে সেখানে বসেই হেসে উঠি। তবু কাউকে বলতে পারি না। কারন কেউ যদি প্রশ্ন করে কোথায় কার কাছে পেয়েছো? আমি কি বলতে পারবো মুকুলদার কথা, সেকি সম্ভব, বলা কি যায়, তার মতো একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির কথা? তাই এসব কথা মনের মধ্যে চেপে রাখি আর সময় করে একা একা হাসি! আমি জানি সবারই মনে মস্তিষ্কে এমন অনেক কথা আছে, থাকে। যে কথা গুলি অব্যক্ত, অনুচ্চারিতই থাকে মনের গহীনে। যা নিতান্তই একার।
হয়তো এমন কথাগুলি মনের গহীনে থাকে বলেই মানুষ হাসে, কাঁদে এবং বেঁচে থাকে। যা কেবলই অব্যক্ত ধ্বনির পুঞ্জ অন্ধকার নয়। আছে অপার আলোর তীব্র উজ্জ্বল ঝলকানিও। যা আমাদেরকে আলোকিত করে। অতএব তাকে নিয়ে কিছুতো বলবোই। আজ যে মুকুলদা সত্তরের কোঠায়, কাল সে আশি কিংবা নব্বই নয়। আমরা শতবর্ষ অতিক্রান্ত না ফোঁটা মুকুলকেই অনবরত দেখতে চাই। দেখতে চাই আজকের মতই আনন্দময়, স্বতস্ফুর্ত, হাস্যোজ্জ্বল, প্রানবন্ত এবং পরিপূর্ন মুকুল দাসকে।
এ লেখাটিও শেষ করে আমি তার কাছেই নিয়ে যাবো। সঙ্গে থাকবে বরাবরের ন্যায় মুকুলদার প্রত্যাশা পুরণের উপকরণ ‘অগ্নিশলাকা’। যার অগ্নিদহনে পুড়ে পুড়ে অশুদ্ধ বানানগুলি শুদ্ধ হয়ে ফিরে আসবে। লেখাটা আমার হাতে দিয়ে হয়তো বলবে ‘ভালোই লিখেছো। তবে মনে হচ্ছে একটু খামতি থেকেই গেলো। আমার কপাল ফাঁটার বিষয়টা উল্লেখ করবার যথেষ্ট সুযোগ ছিলো। লিখতে পারতে যে, আমি আমারই ফাঁটা কপালের রক্ত মেঝেতে দেখে ভেবেছিলাম, আজতো বৃহস্পতিবার তোমার বৌদি পারে আলতা লাগান। হয়তো তারই খানিকটা মেঝেতে পরে আছে, আমি দেখেও বুঝতে পারিনি ওটা আমারই ফাঁটা কপারের রক্ত! আমরা এবার ভাবতেই পারি রক্তের রঙ না হয় মিলে যায় বৌদির পায়ের আলতার রঙের সঙ্গে। কিন্তু তার কপাল ফাঁটার ব্যথাটা বৌদির দেওয়া কোন ব্যথার সাথে একাকার হয়ে যায়? আমি জানি এরও চমৎকার উত্তর জানেন মুকুলদা। আমি চেষ্টা করলে তাও হয়তো বলতে পারি। কিন্তু না আজ আর বলবো না। নন্দিত আদলে তাহলে নিশ্চিত নিন্দিত হব আখেরে। তাই কিছু ইশারা দিয়ে রাখলাম। শুনেছি ‘সমঝদার কে লিয়ে ইশারাই কাফি’।
তবে জানিনা এই লেখা নতুন কোন পথিক প্রবরকে আমাদের সামনে তুলে ধরবে কি না? যদি হয় যারপরনাই আনন্দিত হবো আমরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT