আমতলীতে মুজিব বর্ষের ঘরের মাটির কাজ না করেই কাবিখার গম আত্মসাৎ আমতলীতে মুজিব বর্ষের ঘরের মাটির কাজ না করেই কাবিখার গম আত্মসাৎ - ajkerparibartan.com
আমতলীতে মুজিব বর্ষের ঘরের মাটির কাজ না করেই কাবিখার গম আত্মসাৎ

3:36 pm , March 12, 2022

আমতলী প্রতিবেদক ॥ আমতলীতে কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে মুজিব বর্ষের ঘরের মাটির কাজ না করেই কাবিখার ২১.৮০ মেট্রিকটন গম আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প সভাপতি গুলিশাখালী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত এক নারী সদস্যের বিরুদ্ধে। জানাগেছে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ২০২১ অর্থ বছরে আশ্রায়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন “ক” শ্রেণীর পরিবারের পুনঃবাসনের জন্য আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৩৫০টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই ঘরের ভূমি উন্নয়নে জেলা প্রশাসক মাটির কাজ বাস্তবায়নে ২১.৮০ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ দেয়। ওই গম দিয়ে ৭টি ইউনিয়নে সমুদয় বরাদ্দকৃত ঘরের মাটির কাজ করার কথা থাকলেও তৎকালিন (সাবেক) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রানালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) মোঃ আসাদুজ্জামান শুধুমাত্র গুলিশাখালী ইউনিয়নে বরাদ্দ দিয়ে ওই কাজের প্রকল্প সভাপতি হিসেবে গুলিশাখালী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য সাবিনা ইসলাম ময়নাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। কিন্তু কাজ না করেই কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে তৎকালিন ইউএনও ও প্রকল্প সভাপতি মিলে ওই বরাদ্দকৃত গম আত্মসাৎ করেছেন। গম উত্তোলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর থাকার কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলামের কোন স্বাক্ষর নেই। তার স্বাক্ষর ছাড়াই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান তার একক স্বাক্ষরে প্রকল্প সভাপতি সাবিনা ইসলাম ময়না গত বছর জুন মাসে চার কিস্তিতে সমুদয় গম তুলে নেয়। কাজ না করে গম তুলে নেয়ায় বিষয়টি জানাজানি হলে মুজিব বর্ষে ঘর পাওয়াদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। (শনিবার) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, গুলিশাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মুজিব বর্ষে দেয়া ঘরের ভিটিতে কোন মাটির কাজ করা হয়নি। ওই ঘর পাওয়া মালিকরা নিজস্ব অর্থায়নে তাদের সকল ঘরের ভিটিতে মাটির কাজ করেছেন। এ বিষয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়নের গুলিশাখালী, নাইয়াপাড়া, হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামে মুজিব বর্ষে ঘর পাওয়া একাধিক সুবিধা ভোগীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সরকারীভাবে আমাদের ঘরে কোন মাটির কাজ করা হয়নি। আমরা আমাদের নিজ অর্থায়নে ঘরের ভিটিতে মাটির কাজ করেছি। প্রকল্প সভাপতি গুলিশাখালী ইউনিয়নের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সাবিনা ইসলাম ময়না বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান স্যারের নির্দেশে প্রকল্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। বিষয়টি ওই সময়ে আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (সাবেক) আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল ইসলাম মিয়াও জানেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মফিজুল ইসলাম বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ঘর পাওয়া ব্যক্তিদের ঘরের ভিটেতে মাটির কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসকের বরাদ্দকৃত ২১.৮০ মেট্রিকটন গমের কাজ কোথায় করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি ওই গম উত্তোলনে কোথাও কোন স্বাক্ষর করিনি।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সমির কুমার রায় মুঠোফোনে বলেন, তৎকালিন (সাবেক) উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান স্যার তার একক স্বাক্ষরে গম ছাড়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই আমি গম ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছি। ওই গম দিয়ে কাজ করেছে কি করেনি সেটা আমার জানার বিষয় না। এ বিষয়ে জানতে তৎকালিন (সাবেক) আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রানালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) মোঃ আসাদুজ্জামানের কাছে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিফ না করেই ফোনের লাইনটি কেঁটে দেন। বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান মুঠেফোনে বলেন,। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT